বিনোদন মানে শুধু হো হো করে হাসা নয়: অজয় দেবগন

গোলমাল, গোলমাল রিটার্নস, বোল বচ্চন, অল দ্য বেস্ট -এর মতো চটকদার এবং দর্শকপ্রিয় কমেডির পর অজয় দেবগন এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন গোলমাল এগেইন মুভিটির মুক্তির জন্য। কমেডি এবং হরর জনরার অদ্ভুত এক ফিউশন মুভিটিকে দিয়েছে অন্য এক মাত্রা, যা অজয় দেবঘনের অন্য কমেডি মুভিগুলো থেকে এই মুভিটিকে একদম আলাদা করে দিয়েছে।

মুভিটির মুক্তি উপলক্ষে অজয় একটি সাক্ষাৎকারে ইনইউথ.কমে আলোচনা করেছেন এই মুভির সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ব্যাপারগুলো নিয়ে। এছাড়া বাদশাহো সিনেমার ব্যর্থতা ও অজয়ের স্ক্রিপ্টের চাহিদার নানা বিষয়ও উঠে এসেছে আলাপচারিতায়।

হরর কমেডি মুভি করতে রাজি হলেন কেন?

বলিউডে এই ধরনের মুভি খুব একটা হয়নি। গোলমাল এগেইন এমন একটি হরর কমেডি মুভি, যা আপনাকে বিন্দুমাত্র ভয় পাওয়াবে না, বরং খুবই আনন্দ দেবে। চরিত্রগুলো সেই একই থাকছে, আদর্শগতভাবেই আপনি চাইবেন যে সিক্যুয়ালে জনপ্রিয় ক্যারেক্টারগুলো থাকুক এবং গোলমাল এমন একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি, যেখানে মানুষ ক্যারেক্টারগুলোর সাথে খুব দৃঢ়ভাবে মিশে আছে। এখানে প্রায় ১০-১২টা ক্যারেক্টার বেশ জনপ্রিয়। তাই আমরা ভাবলাম, ফ্র্যাঞ্চাইজিটাকে এবার একটু অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, সে চিন্তা থেকেই হরর কমেডি।

এমন কি হয়েছে যে, রোহিত শেঠি গোলমাল ৪ সিনেমার জন্য স্ক্রিপ্ট নিয়ে এসেছেন আপনার কাছে, কিন্তু আপনার সে স্ক্রিপ্ট পছন্দ হয়নি বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন?

সে চার বছর আগে আমার কাছে এই স্ক্রিপ্ট নিয়ে আসে, আমার বেশ ভালো লেগেছিলো সেটা। ওরা প্রায় ৩ বছর ধরে এই মুভিটি দাঁড় করানোর জন্য পরিশ্রম করেছে। এরই ফলাফল এই মুভি। বুঝতেই পারছেন, গত সাত বছরে গোলমাল ৪ মুভির কোনো স্ক্রিপ্ট ফিরিয়ে দিইনি।

ফ্র্যাঞ্চাইজিটা যেভাবে বড় হচ্ছে, প্রত্যাশার চাপটা কি ঠাওর করতে পারছেন?

সে চাপটা তো বরাবরই থাকে, আমার মনে হয় সেটাই ভালো। এই চাপটার জন্যই এই সিক্যুয়ালটা করতে সাত বছর সময় নিতে হয়েছে। শ্যুটিংয়ে লেগেছে মাত্র আট মাস, কিন্তু লিখতে লিখতেই চলে গেছে এতটা সময়।

পরিচালক হিসেবে রোহিত শেঠির এই উত্থানটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এটা আসলে গোলমাল থেকে শুরু হয়নি, আমি ওকে আরো আগে থেকে চিনি। নব্বইয়ের দশকে ও আমার সহকারী ছিলো, তাই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আমার জন্য একটু কঠিনই বটে। আমি ওকে আমার সামনে বেড়ে উঠতে দেখেছি। সত্যিই বুঝতে পারছি না, কি বলা উচিত। অবশ্যই বেড়ে ওঠার সাথে সাথে মানুষ অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে পরিপক্ক হয়ে ওঠে, আর সেটাই স্বাভাবিক।

হরর কমেডি বলিউডে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি নিকট অতীতে, যেমন গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি…

(বাধা দিয়ে) ওটা হরর কমেডি ছিলো না, ওটা অনেকটাই সেক্স কমেডি জনরার ছিলো। ভুল ভুলাইয়া হিট করেছে, আমার স্মৃতিশক্তিতে নিকট অতীতে ওটা ছাড়া আর কোনো বলিউড হরর কমেডির কথা মাথায় আসছে না। এটা ভালো একটা জনরা, সত্যি বলতে, দুর্দান্ত একটা জনরা। গোলমাল এগেইন মুভিটিতে একটি সুন্দর গল্প আছে, আমি বলবো এর একটা আবেগী ভিত রয়েছে। গল্পটা শুরুই হয়েছে শৈশব থেকে।

মিডিয়ার একটা শ্রেণী গোলমাল ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো কমেডিগুলোকে ব্রেইনলেস আখ্যা দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?

গোলমাল ফ্র্যাঞ্চাইজিটা অধিকাংশ সচেতন মানুষই দেখেছেন। তারা আসলে ওই ধরনের অডিয়েন্স, যারা স্বীকার করতে চান না যে তারা এই মুভি দেখেছেন, পাছে সমাজে তার ‘সুখ্যাতি’ নষ্ট হয়ে যায়! আপনি উপভোগটা করতে কেন চাইবেন না ভাই? হলিউড কমেডি দেখতে বসলে তাদের খুব ভাল্লাগে সেটা, কারণ ওটা ইংরেজি। এই মুভিগুলো বানাতে ব্রেইনটা লাগেই… আমি জানি না, ব্রেইনলেস বলার কারণটা কি!

গত ২৫ বছরে আপনার স্ক্রিপ্ট পছন্দের ধরণটা কীভাবে বদলেছে?

বদলেছে অনেকটাই। এখন স্ক্রিপ্টের ডিটেইলিংয়ে বেশ জোর দিয়েছি। অধিকাংশ দর্শকের কাছেই মনে হয়, অভিনেতাই হয়তো মুভিটি বানিয়েছে। কে বানিয়েছে, কে অভিনয় করেছে, অতশত তারা বুঝতে পারে না। সুতরাং মুভিটিকে মানসম্মত করাটা আপনার দায়িত্ব। এই পরিবর্তনটা এসেছে ধীরে ধীরে, বিশেষত গত দুই বছরে।

আপনার কি মনে হয়, বর্তমান সময়ে এন্টারটেইনিং মুভিই বেশি প্রয়োজনীয়, যদিও খুব বেশি মানুষ এদিকে ঝুঁকছে না?

বিনোদন মানে শুধু হো হো করে হাসা বোঝায় না। এন্টারটেইনমেন্ট এমন একটা কিছু, যা আপনার উপর জাঁকিয়ে বসবে, আপনাকে দুই ঘন্টার জন্য মুভিটার অংশ করে তুলবে। সেটা যেকোনো জনরাই হতে পারে। যখন দর্শক নিজেদের সাথে ক্যারেক্টারগুলো মেলাতে পারে, তারা উপভোগ করতে শুরু করে।

মাস অডিয়েন্স এবং ক্লাসি অডিয়েন্স – কীভাবে আলাদা করবেন এই দুই শ্রেণীকে?

পার্থক্যটা দিনদিন কমে আসছে। যদি কোনো মুভি সিঙ্গেল স্ক্রিনে ভালো ওপেনিং করে, মাল্টিপ্লেক্সেও সেটার প্রভাব পড়ে।  আবার যদি কোনো মুভি সিঙ্গেল স্ক্রিনে কিছুটা দুর্বল ওপেনিং করে, মাল্টিপ্লেক্সে সেটারও প্রভাব পড়ে। সাধারণ জনগণ এখন নেট চালানোর সামর্থ্য রাখে, সবকিছুর সম্পর্কে ধারণা রাখে। এমন একটা সময় আসবে, যখন মাস অডিয়েন্স এবং ক্লাসি অডিয়েন্সের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

কিন্তু বাদশাহো এমন একটা মুভি, যেটা সিঙ্গেল স্ক্রিনে ভালো করলেও মাল্টিপ্লেক্সে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি…

ওই মুভিটার প্রমোশনে আমার একটা ইস্যু ছিলো। ফার্স্ট ট্রেলার রিলিজের পর মাল্টিপ্লেক্সের অডিয়েন্সরাও মুভিটা দেখতে চেয়েছে। প্রথম গানটা এলো, সেটাও পছন্দ করেছে সবাই। ঝামেলা হয়ে গেলো তখন, যখন মুভিটা মাল্টিপ্লেক্স অডিয়েন্সদের মনঃপুত হলো না। শুরুটা দারুণ করেছিলো, কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার আসলে মাল্টিপ্লেক্স বিজনেসটাতে সমস্যা করে ফেলেছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি বাদশাহো বেশ উপভোগ করেছি। তবে সেটার ক্লাইম্যাক্স সিনটা নিয়ে বোধহয় কোনও একটা ইস্যু ছিলো…

(বাধা দিয়ে) আমি নিজেও ডিরেক্টরের সাথে সেটা নিয়ে ঝামেলা করেছি। আমরা অন্য কিছু একটার জন্য শ্যুট করেছিলাম, কি জানি কেন সে ওই সিনটা যুক্ত করেনি শেষে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।