বিচার || ছোটগল্প

সন্ধ্যা থেকে টিপ টিপ গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এমন বৃষ্টি খুবই বিরক্তিকর, কিন্তু তাতে করার কিছু থাকে না। এমন বৃষ্টিতে শুকু মিয়ার মন খারাপ থাকে। এখন বসে বসে মনের দুঃখে বিড়ি ফুকছে সে। এসময় তার মনে নানা রকম চিন্তা কাজ করে। এতো ছোট পরিবার তারপরেও খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে, তার যে চাকুরী তা দিয়ে সব কিছু পোষানো যাচ্ছে না। এই যুগে ছয় হাজার টাকা দিয়ে এমনই একটা উপ শহরে চলা শুধু মুখের কথাই নয় দুঃসাধ্য ব্যাপারও বটে।

-শুকু মিয়া…ও শুকু মিয়া, আছো নাকি ভেতরে?

নিজের নাম শুনে তার চিন্তায় ছেদ পড়লো। এতো রাতে কার আবার মরার ব্যাতিক হলো। কবর স্থানে কবর খোড়ার চাকরিতে এই একটা অসুবিধা। রাত নাই দিন কখন যে মানুষ মরে। দিনে কে মরলো না মরলো তা নিয়ে তার মাথা ব্যাথা নেই। তখন মাথা ব্যাথা থাকলে থাকবে কাসেম মিয়ার। দিনে যা ঘটে তা কাসেমের দেখার বিষয়। এতো বিশাল কবর স্থানে তারা মাত্র দুজন মানুষ বারো ঘন্টা করে ডিউটি দেয়। শুকু মিয়া ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে দুটা বেজে বিশ মিনিট। তার টিনের দেয়ালে টাঙ্গানো ছোট ঘড়িটা সব সময় কাজ করে না। মাঝে মাঝে সকাল বেলায়ও দেখায় ঘড়িতে রাত তিনটা। তারপরেও কেনো যেনো মনে হচ্ছে আজকে ঘড়ি সময়টা ঠিক দেখাচ্ছে।

গুঁড়ি বৃষ্টিতে কবর স্থানের এই ছোট কামরা থেকে বের হতে মন চায় না শুকু মিয়ার। তারপরেও ঠেকায় পড়ে বের হতে হচ্ছে তাকে। নিজের মধ্যে বিরক্তি চেপে ছোট লাইটটা নিয়ে গেটের কাছে যায়। গেটের সামনে চার-পাঁচ জন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সবার শরীর হালকা ভেজা আর চেহারায় ক্লান্তির ছাপ।

শুকু মিয়া কাছে আসতেই তাদের মধ্যে একজন বলে উঠে, ‘তারাতারি গেট খুলো মিয়া, কথা আছে তোমার সাথে।’

গেট খুলতে না খুলতেই গেটের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মধ্যে একজন তরিঘরি করে গেটের ভেতরে ঢুকে পড়লো। লোকটির নাম লোকমান। যদিও এই লোকটার নাম জানতে শুকু মিয়ার একমাস লেগেছিল। সে নিজেও জানে না লোকটার নাম সে জানতে পারবে। তার তো জানার কোন ইচ্ছেও ছিলো না। যাই হোক সে আবার অন্য গল্প। না জানলেও হবে।

‘চলো, সাইডে চলো। তোমার সাথে কথা আছে’

এই বলে লোকমান শুকু মিয়াকে সাইডে নিয়ে গেলো। তারপর বলতে শুরু করলো কথা-

‘তোমাকে আমাদের জন্যে একটা উপকার করতে হবে। এই জন্যে অবশ্য আমরা তোমাকে প্রাপ্য সম্মানি দিবো।’

‘কি উপকার তা তো আগে শুনতে হবে। না শুনলে কিভাবে সাহায্য করবো’- মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনার পর শুকু মিয়া বললো।

‘সবই বলবো, তার আগে বলে রাখি রাতের এই ব্যাপার গুলো যাতে দুনিয়ার কেউ না জানে। তোমার বৌ কিংবা তোমার সাথে ডিউটি করা কাসেমও না’।

‘না কেউই জানবে না’

কথাটা বললেও মনে মনে শুকু মিয়া খুবই আগ্রহী হয়ে আছে পুরো ঘটনা জানার জন্যে।

‘আচ্ছা শুনো, আমাদের সাথে একটা লাশ আছে, চটে করে প্যাচানো। তোমার কাজ হচ্ছে লাশটাকে কৈই কবর দিবো তা দেখিয়ে দেয়া। কবর খোডা আর দাফনের কাজ সব কিছু আমরাই দেখবো। লাশের গোসলও করানো লাগবে না। লাশ কৈই থেকে আসলো, লাশের কি হলো, এসব ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করা যাবে না। এই জন্যে আমরা তোমাকে অনেক টাকা দিবো।’

কথা গুলো শুনে তার গায়ের লোম শিহরিত হয়ে উঠেছে। কোনো মানুষকে কবর দিতে গিয়েও কখনো তার এমন হয় নি। এমুহূর্তে কথা বলতেও শুকু মিয়ার তোতলামি হচ্ছে-

– আ আ …আমি… আ… মি… করবো সাহায্য? এ…তো মেলা পাপের কাম।

– শুনো মিয়া এই পাপের সব বোঝা আমাদের, গুনাহ যা হবে তার দায় সব আমরা নিবো, তুমি শুধু আমাদের সাহায্য করবে। তাতে করে তুমি কিছু টাকা পাবে আর লাশটা পবিত্র স্থানে ঘুমাতে পারবে।

লোকমানের কথায় আশ্বস্ত হয় শুকু মিয়া। লোকটার কথা তার মনে ধরেছে। এ কথাও সত্য, সে যদি তাদের সাহায্য না করে তাহলে লোকগুলো লাশটাকে নদীতেও ফেলে দিতে পারে। তার উপর নিজের যে কিছু টাকা আসার, সেগুলোও হাত ছাড়া হয়ে যাবে।

‘আপনারা আমাকে কতো দিবেন, বিশ হাজার দিতে পারবেন তো’। নিজের লোভকে দমাতে না পেরে একদমে কথা গুলো বলে ফেললো শুকু মিয়া। কথাটা শুনে লোকমান হাসলো। তাচ্ছিল্য ভরা হাসি। বিশ নয় তোমাকে পঁচিশ হাজার ই দিবো, কিন্তু শর্ত আছে। কেউ যাতে ব্যাপারটা না জানে। এমন ভাবে কাজটা করতে হবে সকালে যাতে কাসেমও টের না পায় রাতে এখানে কি হয়েছিলো। কেউ টের পেলে তোমার পরিবারের কি হবে তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না’।

মাথা নাড়িয়ে লোকটার কথায় সায় দিলো শুকু মিয়া। এই মুহূর্তে শুকুর চেহারায় অসহায়্যত্ব ফুটে উঠেছে। মনে মনে এই জন্যে নিজেকে দুষলেন।

‘শালা….এই জন্যেই অন্যের সাহায্যে জড়াতে নেই। সাহায্যের জন্যে কিছু টাকা দিবে তার জন্যে আবার নিরবে হুমকিও দিচ্ছে। মগের মুল্লুক পাইছে’। কথাগুলো নিরবেই নিজের মনে নিজেকে বলে গেলো শুকু।

‘নেও তোমার সম্মানীটা রাখো’ কথাটা শুনে নিজের হুশ ফিরে পেলো।

এতো বড় টাকার ব্যান্ডেল। এর আগে শুকু একসাথে কখনো দেখে নাই। টাকার ব্যান্ডেলটা নিয়ে কোমরে গিঁট দিয়ে রেখে দিলো।

লোকমানের ইশারায় বাকি সবাই লাশটা ধরাধরি করে গেটে ঢুকালো। শুকু মিয়া তাদেরকে পথ দেখাচ্ছে, কোথায় লাশটা নিয়ে যেতে হবে।

কবরের শেষ প্রান্তে সবাই লাশটা নিয়ে জড়ো হলো। সাধারণত কবরের এই সাইডে কেউ ভুলেও আসে না। কাসেম বা শুকুও না। এই দিকে সাপ জোকের বিষণ উৎপাত। অবশ্য লুকিয়ে কবর দেয়ার জন্যে জায়গাটা সবচেয়ে উত্তম। প্রায় আধ ঘন্টা কাজ করার পর কবর খোড়া আর দাফন কাজ শেষ হলো। সব কাজ লোকগুলোই করলো। শুকু মিয়া এতে ব্যাপক অবাক হলো। মনে মনে মানুষ গুলোকে বেকুব বলতেও ভুলে নাই। এতো গুলো টাকা দিলো তারপরেও তাকে দিয়ে এক টুকরো মাটিও কাটতে দেয় নাই। এতে অবশ্য শুকু খুবই খুশী। লাশের যে কোন কাজ করলে সে গোসল করে। এটা তার এক প্রকার বাতিক। এইদিক থেকে লোকগুলো তাকে রাতে গোসল থেকে মুক্তি দিলো।

কবর দেয়া শেষে কবরটা এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যাতে কারো বুঝার সাধ্য না হয় এটা নতুন কবর। অবশ্য কিভাবে সাজালে এমন দেখাবে তার সবকিছু বাতলিয়ে দিয়েছে শুকু মিয়া। লোকগুলো শুধু তার কাছে এই একটা ব্যাপারই জানতে চেয়েছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এখনো হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়াতে এই একটা সুবিধে- কবর সাজাতে আরো সহজ হয়েছে।

কবর দেয়া শেষে লোকগুলো চলে যায়। যাওয়ার আগে সব কিছু লাইট দিয়ে ভালো করে পরীক্ষা করে নেয় শেষ বারের মতো। কোন প্রমাণ না রেখেই সবাই বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে কেউ এখানে হাত মুখও ধুলো না। হাত-পায়ে কাঁদা মাটি নিয়েই রওনা দিলো। যাওয়ার আগে শুকু মিয়াকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেও ভুলে নাই কেউ।

এখন সকাল পাঁচটা বাজে। তারপরেও তার চোখে একফোঁটা ঘুম নেই। টাকা যে তার ঘুম হানির কারন তা শুকু মিয়া জানে না। নিজের মনে কতো স্বপ্ন। গত আটচল্লিশটা বছর পার করেও সে কখনো এক মুঠে এতো টাকা দেখে নি। তার বয়স যখন সতেরো, তখন যে পাশের বাড়ির চুমকিকে নিয়ে এই শহরে পালিয়ে বিয়ে করে নিয়ে আসে; তারপর আর কোথাও যাওয়া হয় নি। এই প্রথম তার ইচ্ছে, নিজের বৌ আর ছাব্বিশ বছরের ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার। বিয়ের পাঁচ বছর পর যে তার পুত্র সন্তান হয়েছে তারপর থেকেও বৌ বা সন্তানকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে পারে নাই। পরিবারের ঘানী টানতে টানতে কখন যে বয়সটা শেষ হয়ে গেলো তা বুঝার মতো অবস্থাও হয় নি শুকু মিয়ার। এক সময় শুকুও তো তার একমাত্র সন্তান রাসেল’র মতো টগবগে যুকব ছিলো। তখন কতোই না ইচ্ছে ছিলো বৌ আর সন্তানকে নিয়ে ঘুরার, কিন্তু হায় কপাল। এখন সবই অতীত। সবই আবেগ।

‘এই সকাল সকাল কে আবার গেট পিটা পিটি শুধু করলো। সবে মাত্র চোখে একটু ঘুম লেগে এসেছে, আজকে বুঝি কেউ একটু ঘুমাতেও দিবে না’।

ঘড়িতে এখন সকাল সাতটা। তারমানে কাসেম আসে নি এখনো, এটা নিশ্চিত। কাসেম কখনো আটটার আগে আসে না। শুকু মিয়া ঘরের কোনে লুকিয়ে রাখা টাকা গুলো আবার কোমরে গুজে নিলো। তারপর গেটের দিকে রওনা দিলো চোখ কচলাতে কচলাতে।

সাতসকালে গেটে নিজের বৌকে দেখে ভূত দেখার মতো ভয় পেয়েছে শুকু। চুমকি তো কোন বিপদ ছাড়া এখানে আসে না। এমনিতেই বেচারী কবরকে খুব ভয় পায়। তার মানে পরিবারের কোন বিপদ, এতো সকালে আসছে মানে ধরে নেয়া যায় বড় ধরনের কোন বিপদ। মনে মনে আল্লাহ্‌কে ডাকে শুকু- ‘আল্লাহ্‌ মাবুদ আমাদেরকে বিপদ থেকে রক্ষা করো’। কি হয়েছে তা জানতে চাওয়ার আগেই বৌ কাঁদতে কাঁদতে বলে-

‘ও রাসেলের বাপ। রাসেল তো গত বিকালে বের হইছে এখনো বাসায় ফেরে নি। রাতে আমি তার জন্যে অনেকক্ষন অপেক্ষা করে পরে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমানোর আগে দরজা আড়াআড়ি করে রেখে দিয়েছি। সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখি দরজা আগের মতোই আছে, তার খাটের দিকে তাকিয়ে দেখি সে নাই’। চুপচাপ কথা গুলো শুনার পর শুকু মিয়ার বলার মতো কিছু রইলো না।

‘তুই বাড়ি, যা আমি দেখছি’ বলে গেট লাগিয়ে ভেতরে চলে আসে শুকু মিয়া। কাসেম আশা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। তারপর ছেলের খোঁজে বের হবে।

আজ থেকে একমাস অবদি ছেলের খোঁজ করে গেছে শুকু। আখের কোন ফল হয় নি। ক্ষত মনে ব্যাপারটা প্রথম দিকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারে নি। সময়ের সাথে সাথে মনের ঘাঁ শুকিয়ে যায়। আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিকও হয়ে যায়। তারপর, তারপর শুকুর মনে আবার ঘাঁ শুরু হয়। যে ঘাঁ কখনো শুকাবার না।

বিকালে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে শুকু। সারারাত কাজ শেষে দিনে শুকু মিয়ার ঘুম ছাড়া কোন কাজ থাকে না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুমায় সে। ঘুম থেকে উঠে গোসল, খাওয়া দাওয়া ছাড়াও নিজের বৌকে টুকটাক গৃহের কাজে সাহায্য করে, আগে ছেলে থাকতে ছেলে এসব করতো। তারপর বিকেলে বাজারে আসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দেয়। আড্ডা শেষে কর্মস্থলে ফিরে যায়। নিয়ম মাফিক আজকেও তাই হচ্ছে।

হুট করে একটা ছোট ছেলে এসে বলে গেলো ‘কাকু’ তাকে তলব করছে এক্ষুনি দোকানে যাওয়ার জন্যে।

হামিদ সাহেব- হলেন অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি। আগে সরকারী চাকুরী করতেন এখন বাজারে বড় রঙের দোকান উনার। এখানকার সবাই উনাকে কাকু নামেই ডাকেন। শুকু মিয়ার চেয়ে বয়সে কয়েক বছরের বড় হামিদ সাহেব। তার সাথে শুকু মিয়ার খুবই ভাব। শুকু মিয়া তার কাছে মাঝে মাঝে পরামর্শের জন্যেও যায়। তার ছেলের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অন্য সবার মতো হামিদ সাহেবও তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।

শুকু দোকানে যাওয়ার সাথে সাথে হামিদ সাহেব পত্রিকা থেকে নিজে চোখ সরিয়ে তাকে একটা ছবি দেখতে দেয়। লেখা পড়া জানে না শুকু। পত্রিকায় ছবি দেখে তার বুকে ধুক ধুক শুরু হয়ে যায়। পত্রিকায় থাকা পাঁচ জন মানুষের মধ্যে একজন তার পরিচিত। লোকটির সাথে তার দেখা হয় একমাস আগে কবর স্থানে। রাতের অন্ধকারে যার সাথে সাহায্য করা নিয়ে এতো কথা তাকে তো কখনো ভুলার নয়।

শুকু মিয়া ছবির যে মানুষটার দিকে তাকিয়ে আছে সেদিকে আঙুল দেখিয়ে হামিদ সাহেব বলেন, ‘তোমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বিকেলে এই ছেলেকে আমি দেখেছি। রাসেলের সাথে কি নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর হাতাহাতি। আমার দোকানের ছেলেরা গিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে দেয়। নাহলে তখন অনেক ঝামেলা হতো। সম্ভবত এই ছেলের নাম ‘লোকমান’। পত্রিকায় তো তাই লিখেছে। তোমাকে আমি ডেকেছি ছেলেটিকে চেনো কিনা তা জানার জন্যে।

‘না’ শুকু মিয়া মুখ দিয়ে স্রেফ জানিয়ে দেয়।

‘পত্রিকায় কলাম পড়ে ছেলেটিকে খুব বেশী অসুবিধারই মনে হচ্ছে। ও খুব জঘন্য সব কাজের সাথে জড়িত। যাইহোক এ জন্যেই তোমাকে ডেকেছি। আচ্ছা তুমি আড্ডা দিতেছিলে যাও আড্ডা দাও পড়ে আবার কথা হবে, এই বলে ভদ্রলোক আবার পত্রিকা মগ্নতা নিয়ে পড়া শুরু করলেন।

শুকু মিয়া রাস্তায় হাটছে। দোকান থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার মনে নানা রকম প্রশ্নরা উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। তার মনে বার বার ই একই কথা আসছে। পত্রিকায় দেখা লোকমান ছেলেটি সেই তাহলে তার ছেলে রাসেল কে… এই টুকু ভাবার পর আর ভাবতে পারছে না শুকু মিয়া। তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। খুবই পানির তৃষ্ণা পাচ্ছে। তার চোখে মুখে অন্ধকার ঠেকছে সব কিছু। নিজের ছেলেকে নিজেই… এই টুকু ভেবেই আর নিতে পারছে না। হাটতে হাটতে শুকু মিয়া রাস্তায় পড়ে যায়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।