বাল্যকালেই বিত্তশালী: মাসিক আয় ১৩-২৪ লাখ টাকা

উপমহাদেশে এখন যোগ ব্যায়াম বেশ জনপ্রিয়। শুধু এই অঞ্চলেই নয়, সুস্থ ও ফিট থাকার এই মাধ্যমটি ২০০০ সাল থেকে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে চীনেও। আর এখানে ছোট অবদান আছে সাত বছর বয়সী এক বালকের। আর সেটা করতে গিয়ে নিজের অটিজমকেই কেবল মোকাবেলা করেননি, এখন তার মাসিক আয় এক লাখ ইয়েন। বাংলাদেশি মূল্যমানে সেটা প্রায় ১৩-১৪ লাখ টাকা।

চীনা এই বালকের নাম সান চুয়্যাং। তাঁর মাত্র দুই বছর বয়সে অটিজম ধরা পরে। ওই সময় দিনের ভাগটা ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকতেন। মা ছিলেন একটি অ্যাপারেল স্টোরের মালিক। সন্তানের ভাল’র কথা চিন্তা করে তাঁকে আরো সময় দেওয়ার জন্য নিজের ব্যবসা বন্ধ করে দেন।

ছেলেকে নিয়ে যান যোগ ব্যায়ামের ক্লাসে। মাত্র দু’বছরের মাথায় সান কেবল যোগ ব্যায়ামের সকল ধাপ সুন্দর ভাবে করতেই কেবল শিখে ফেলেনি, অটিজমের প্রতিবন্ধকতাকেও জয় করে ফেলে। সবাই বলতো, সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অবিশ্বাস্য ক্ষমতা নিয়ে এসেছে সান।

সানের বয়স যখন ছয় বছর তখন সান রীতিমত যোগ ব্যায়ামে দক্ষ হয়ে ওঠে। আর সেটা এতটাই যে, তাকে চীনের স্থানীয় কিছু উন্নত মানের যোগ ব্যায়াম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাঁর চাকরীও হয়ে যায়। আর বছরখানেক যেতে না যেতেই বড় অংকের মালিক হয়ে গেছেন এই ক্ষুদে যোগ ব্যায়াম শিক্ষক।

সান এখন পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী যোগ ব্যায়াম শিক্ষক। আর এত কম বয়সে এত অর্থের মালিক বনে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তার আর কোনো জুড়ি নেই। তাঁর নিজেরই এখন শতাধিক শিক্ষার্থী আছে। তাঁদের কাছ থেকে কেবল শিক্ষক হিসেবে সম্মানই পান না, প্রত্যেকেই সানকে নিজেদের আদর্শ বলে মনে করেন।

এই ক্ষুদে বয়সেই এত আলোচিত হলে বড় হয়ে সানের অবস্থান কোথায় থাকবে সেটা আর তাই বলে না দিলেও চলে! এখন চীনে এই বালক পান সেলিব্রিটিদের মর্যাদা, টেলিভিশনের নানা রকম রিয়েলিটি শো-তেও তাঁকে দেখা যায়।

বলাই বাহুল্য যে, যোগ ব্যায়ামের একটা নিজস্ব রোগ নিরাময় কৌশল আছে যা শরীর ও মনকে শান্ত করে তাতে শক্তি যোগায়। এর ফলে শরীর কেবল ফিটই হয় না, আসে বাড়তি ফ্লেক্সিবিলিটি ও মানিয়ে নেওয়ার ক্শতা।

সান চুয়্যাংয়ের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। যদিও, একটা মিরাকলের চেয়ে কম কিছু নয়। একই সাথে কৃতীত্ব দিতে হয় সানের প্রতিভাকেও। সাত বছরের শিশুরা কমবেশি আদুরে হয়, তবে নি:সন্দেহে সানের মত প্রতিভাবান ও ‘কুল’ সবাই হয় না!

– ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস ও বিয়িং ইন্ডিয়ান অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।