বালির দূর্গের রাজা

হয়তো হঠাৎ করে দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই, তবে আক্ষরিক অর্থেই তিনি রাজা। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তিনি বাস করছেন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ব্যারা দ্য তিজুকু বিচে, সেখানেই তার বালির দূর্গ।

ভদ্রলোকের নাম মারসিও মিজায়েল মোটালিয়াস। মাথা মুকুট আর হাতে রাজদণ্ড নিয়ে তিনি বসে থাকেন তার দূ্র্গের সামনে। তাপমাত্র ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তারপরও এসবকে তিনি পরোয়া করেন না।

কি নেই সেই দূর্গে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই, গল্ফ ক্লাব, ফিশিং পোল। তবে, ভেবে বসবেন না মার্সিও স্বঘোষিত রাজা। বন্ধুরা আর প্রতিবেশিরাই তাকে রাজা বা ‘কিং মার্সিও’ বলে ডাকে।

ডাকটা পছন্দও করেন মার্সিও। তিনি বলেন, ‘আমি গুয়ানাব্যারার তীরে বড় হয়েছে। সব সময় বিচেই থেকেই। মানুষ বিচে বেড়াতে এসে কত অর্থ খরচ করে। অথচ আমার কোনো বিল দিতে হয় না। এখানে আমার জীবনটা দারুণ।’

ভেবে বসবেন না ৪৪ বয়সী এই রাজার তার দূর্গ দেখভালের জন্য গাদাখানেক চাকর-বাকর আছে। না, মার্সিও নি:সঙ্গ জীবনযাপন করেন। তাঁর জীবনের একমাত্র সঙ্গী হল বই। এমনকি দর্শনার্থীরা গিয়েও চাইলে তার সংগ্রহে থাকা বই পড়তে পারেন।

বালির দুর্গের দেখভাল করাটা সহজ নয়, যথেষ্ট ঝক্কির কাজ। রোজই তাকে দূর্গের এটা ওটা মেরামত করতে হয়। যাতে দূর্গ ভেঙে না পড়ে, সেজন্য প্রতিদিনই পানি দিতে হয়।

যেটুকু সময় অবসর পান তাতে, বই পড়ার বাদে গলফ খেলেন, লাউঞ্জে সময় কাটান। জীবনটা তার মন্দ নয়, তবে সমস্যা একটাই রাতে প্রায়ই ঘুমাতে পারেন না।

কিং মার্সিও বলেন, ‘বালি অনেক তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই, প্রায়ই রাতে ঘুমাতে পারি না এখানে। কখনো বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটাই। তবে, আমি এখানে কাটাতেই বেশি পছন্দ করি, সমুদ্রের ধরে শুতে হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই।

– ইয়াহু ও দ্য মিরর অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।