বাফুফে খোঁজ রাখে না, আমরা কতটা রাখি?

বলতে বলতে ক্লিশে হয়ে গেলেও এটাই সত্যি যে, দেশের ফুটবল তার সাবেক রং হারিয়েছে। তার জন্য চাইলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) হাজারটা ‘দোষ’ খুঁজে বের করা যায়।

আমরাও বলছি, নি:সন্দেহে বাফুফের দায় আছে। বাফুফে দেশের ফুটবলের খোঁজ রাখে না। আমরা কতটা রাখি? খোঁজই যদি রাখি তাহলে কী করে সম্প্রতি মারা যাওয়া সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যাপারে বলে দেই – ‘দেশকে অনূর্ধ্ব ১৪ ফুটবলে এএফসি চ্যাম্পিয়ন করা’ সাবিনা?

বয়সভিত্তিক পর্যায়ের জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পাওয়া অবশ্যই বড় ব্যাপার। তার খোঁজখবর রাখা বাফুফের কর্তব্যের পর্যায়ে পড়ে। সামান্য জ্বরের কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সাবিনা খাতুন, জাতীয় দলের স্ট্রাইকার।

তবে, ফ্যাক্ট হল সাবিনা ইয়াসমিন অনূর্ধ্ব ১৪ ফুটবলে দেশকে এএফসি চ্যাম্পিয়ন করে নাই। জাতীয় দলে খেলে নাই। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব ১৪ ফুটবলের প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিল। মূল দলে খেলেনি।

জেএফকে কাপে ছিল। ময়মনসিংহকে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন করেছিল। সে মাত্রই অনূর্ধ্ব ১৫ জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিল। মারা যাওয়ার একদিন পর তার ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বটেই, দেশের অনেক নামকরা মিডিয়া হাউজও একই ভুল করে কী করে! একেক জায়গায় নামও লেখা হচ্ছে একেকরকম। কেউ লিখছে সাবিনা আক্তার, কেউ লিখছে সাবিনা খাতুন।

সাবিনা আক্তার, জাতীয় দলের গোলরক্ষক

সাবিনা খাতুন হলেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। নারী ফুটবলে দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের একজন। দেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে তিনি খেলেছেন বিদেশি ক্লাবে (মালদ্বীপের পুলিশ ক্লাব)। আর সাবিনা আক্তার গোলরক্ষক। চলতি বছরে ভারতের শিলিগুড়িতে সাফ ফুটবলে দেশকে রানারআপ করেছিলেন তারা।

এই দু’জনের সাথে সাবিনা ইয়াসমিনকে গুলিয়ে ফেলার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, আমরা আদৌ কতটা খোঁজ খবর রাখি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।