বাদল দিনের বাংলা সিনেমা

বৃষ্টি – শব্দটা শুনলেই মনটা ভালো হয়ে যায়, মন চায় প্রিয়জনকে সঙ্গে খুনসুটির মুহুর্তগুলো আরো বেশি রাঙিয়ে তুলতে। জীবন থেকে গল্প নিয়েই সিনেমার গল্প তৈরি হয়। বাস্তবতার বাইরে কিছু গল্প হলেও বেশিরভাগই আমাদের চারপাশ নিয়েই হয়। সিনেমার মাঝেও বৃষ্টি স্থান করে নিয়েছে নানাভাবে।

তেমনই কিছু সিনেমা নিয়ে আমাদের এই ছোট্ট আয়োজন। বাদল দিনে গৃহবন্দী অবস্থায় চাইলে সিনেমাগুলো দেখেও নিতে পারেন।

দ্য রেইন (১৯৭৬)

এই সিনেমাটি বাংলার বিখ্যাত সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি। নামেই বোঝা যায়,এই ছবিটি বৃষ্টির নান্দকিতায় ভরপুর।এই ছবিতেই একটি গান আছে ‘পরদেশী মেঘরে আর কোথা যাসনে, বন্ধু ঘুমিয়ে আছে দে ছায়া তারে’। এই গানের মাঝেই লুকিয়ে আছে বৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা!

হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৮)

হঠাৎ বৃষ্টি ছবিটি সবার মনের ভেতরে এনে দিয়েছিল এক অন্যরকম বৃষ্টিপ্রেম। সিনেমার শেষ দৃশ্যের বৃষ্টি আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই প্রেম খুঁজে বেড়ানো দীপার কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। ছোট ছোট স্বপ্নের নীল মেঘ,কখনো রোদ্দুর-বৃষ্টি নিয়ে নিরন্তর ছুটে চলা জীবনে অজিত আর দীপার চিরকুটের প্রেম ছুঁয়ে দিয়েছিল সবার মন।

মেঘমল্লার (২০১৪)

বৃষ্টি আর মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘মেঘমল্লার’। মফস্বলের একজন কলেজশিক্ষক নূরুল হুদা এক বৃষ্টির দিনে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দি হন। ঘরে তার অপেক্ষায় থাকে স্ত্রী আসমা এবং পাঁচ বছরের মেয়ে সুধা। নির্যাতন আর অত্যাচারে নুরুল হুদার কাছে অসহ্য হয়ে ওঠা বৃষ্টির দিনগুলোর রুপ দেখতে পাবেন এখানে।

এছাড়া হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সিনেমাগুলোতে বৃষ্টিকে তিনি নান্দকিতার অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তাঁর সিনেমায় বৃষ্টিই যেন একটা চরিত্র হয়ে মিশে গেছে।

উনার পরিচালিত আগুনের পরশমনি, দুই দুয়ারী, শ্যামল ছায়া,নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আমার আছে জল সিনেমাগুলিতে বৃষ্টিতে ভেজার দৃশ্যগুলি দেখে আপনিও নস্টালজিক হয়ে যেতে পারেন।

বৃষ্টির দিনে মনের সব দুয়ার খুলে দিয়ে দেখে নিতে পারেন বৃষ্টির এই সিনেমাগুলো। আর এ তালিকায় আরো যোগ করে নিতে পারেন জয়যাত্রা, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, খেলাঘর, বৃহন্নলা সিনেমাগুলিও।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।