বলিউডে বাহুবলির টোটকা কতটা জরুরী ছিল!

কদুরই শ্রীশৌল শ্রী রাজামৌলির বহুল প্রতীক্ষিত বাহুবলি ২: দ্য কনক্লুশন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। গত ২৮ এপ্রিল মুক্তির প্রথম দিনেই ১২১ কোটি রুপি আয় করার মাধ্যমে রাজসিকভাবে বক্স অফিসে জায়গা করে নিয়েছিল সিনেমাটি। যেখানে ভারতের সর্বকালের সেরা আয়কৃত ছবি ‘দঙ্গল’এর প্রথম দিনের আয় ছিলো ২৯.৭৮ কোটি রুপি। শাহরুখ খানের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ছবি ‘রইস’ সাকুল্যে আয় করেছিলো ১৩৭ কোটি রুপি।

শুরুর দিনে যেভাবে দর্শক টেনেছে এ ছবিটি, তাতে এর প্রথম সপ্তাহের আয় ৩০০ কোটিতে ছুঁয়ে যেতে পারে বলে ধারনা করছিলেন বক্স অফিস বিশ্লেষকরা। আর হলও তাই। তখন সবার অনুমান ছিল আয় হয়তো ১০০০ কোটিতে গিয়ে ঠেঁকবে। কিন্তু, শেষ মেশ এখন অবধি এই সিনেমার আয় হয়েছে ১৭০০ কোটিরও বেশি।

বাহুবলি ২ এর সাফল্য অবাক করা কিছু নয়, তবে এর আয় সব বোদ্ধাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বলিউডি ছবিগুলোর সাথে এর তুলনাটা খানিকটা অসম মনে হতে পারে একারণে যে হিন্দি ছবিগুলো গড়পড়তা ২০০০ হলে মুক্তি পায়, আর বাহুবলী পেয়েছে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি হল। স্বাভাবিকভাবেই এর আয় গড়পড়তা বলিউডি ছবি থেকে বেশিই হবে।

ভারতীয় বক্সঅফিসে গত কয়েক বছর ধরেই মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো। ফিল্মমেকার চক্রের প্রাথমিক আয়ের উৎস বক্স অফিস গ্রোথ বহুলাংশে নির্ভর করে ক্রমবর্ধমান টিকিটের অর্থের উপর। বিখ্যাত ভারতীয় ছবিগুলোরও থিয়েটার দর্শক সাকুল্যে ৩-৪ কোটির বেশি হয়না বলে মত দিয়েছে বিখ্যাত ওয়েব সাইট বক্সঅফিস ইন্ডিয়া। ১৩০ কোটি মানুষের দেশে এ সংখ্যাটা খুবই হতাশাব্যঞ্জক।

বিনোদন কর আরোপের ফলে টিকেটের দাম ক্রমেই বাড়ছে ভারতে। ফলাফলস্বরূপ দর্শকরা ঘরে থেকে টিভি প্রিমিয়ারের জন্য কিংবা টেন্টপোল মুভির জন্য অপেক্ষা করাটাকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছেন।

কিন্তু ভারতীয় নির্মাতারা কি পর্যাপ্ত ‘বড় ফ্রেম’এর মুভি তৈরি করছে?

হলিউড ক্যালেন্ডার নানান ঘরানার বিগ বাজেট ছবি দিয়ে ঠাসা থাকে। ভারতেও বিগত কয়েক বছরে এসব ছবির আমদানি ব্যবসাসফল। অন্যদিকে ভারতীয় নির্মাতারা ছবিতে বড় রকমের ভিএফএক্স কিংবা হাই কনসেপ্ট আইডিয়ায় লগ্নি করার চেয়ে  বড় নাম ভাড়া করাতেই বেশি মনযোগী।

সরকারি ঔদাসিন্যও এ স্লথগতির জন্য বহুলাংশে দায়ী। চলচ্চিত্র খাতে সরকারী ভর্তুকির পরিমাণ কমে যাওয়ায় হলের সংখ্যা কমছে দিন দিন। যেখানে চীন গত দশ বছরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ছবির বাজারে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ২০১৯ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকেও পেছনে ফেলবে চীন।

চলচ্চিত্রের এ দুঃসময়ে রাজামউলির এ ছবি যা অর্জন করেছে এক কথায় অবিশ্বাস্য। যখন নির্মাতারা ভারতীয় কৃষ্টিকে ভুলে গিয়ে ছবি বানাতে ব্যস্ত ঠিক সে যুগে বসে রাজামউলি ভারতীয় অস্ত্রাদি, মিথ নিয়ে ছবি বানিয়ে সফলও হয়ে যেতে চলেছেন। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপারটা হচ্ছে, তিনি এতে কোনো বড় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন নি।

এবছর মুক্তি পেতে যাওয়া সালমান খান অভিনীত টিউবলাইট যতটা আশা করা হচ্ছিল ঠিক ততটা সফলতা পায়নি। টাইগার জিন্দা হ্যায় কিংবা শাহরুখ অভিনীত ইমতিয়াজ আলির ছবি, বড় বাজেটের পদ্মাবতীর আয় বাহুবলী ২ এর চেয়ে বেশি হবেনা বলেই আশংকা করছেন বক্স অফিস বোদ্ধারা।

ছবির ধরনে এবং সম্ভাব্য আয়ের হিসেবে এর সাথে তুলনায় আসার মতো ছবি নিকট ভবিষ্যতে আছে শুধুমাত্র রজনীকান্ত এবং অক্ষয় কুমার অভিনীত রোবট এর সিক্যুয়েল, যা কিনা আরেকটি দক্ষিণী মুভি। তাও থিয়েটারে আসছে সে ২০১৮ সালে।

সম্ভবত, মূল ধারার গণমাধ্যমের বলিউড ‘অবসেশন’ এবং দক্ষিনী ছবির প্রতি একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলার সময় এসে গেছে। এযাবৎকালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি অবতার সংস্কৃতির উপর তেমন কোনো বাজে প্রভাবই ফেলেনি। হয়তোবা বাহুবলী ২ ও একই পথে হাঁটছে। তবে ভারতীয় ছবি ব্লকবাস্টার হবার পেছনে বড় তারকার মিথটাকে ভেঙ্গেচুরে দিয়েছে এ ছবি তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

বাহুবলির পরিচালক রাজামৌলির পরবর্তী গন্তব্য কী?

বাহুবলির আকাশচুম্বী সাফল্য তাকে নিয়ে গেছে ঈর্ষনীয় অবস্থানে। তার কাছে এখন বড় তারকা এবং বাজেট আছ, তার উচিত বলিউডেও তার এ সাফল্য টানে আনা। তিনি মহাভারতে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন, এখনকার চেয়ে উপযুক্ত সময় আর পাবেন না তিনি এটা নিশ্চিত।

এ অস্তিত্ব সংকটের যুগে তার খুব প্রয়োজন ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।