বকুল-মিনতি কিংবা স্নিগ্ধ হাসির আফসানা মিমি

টেলিভিশন জগতের সাড়া জাগানো ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’-এর বকুল চরিত্রে এক কিশোরী দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর মুখে ‘কেন কেউ বুঝতে চায় না, আমি বড় হয়েছি’ সংলাপটি তখনকাল কিশোরীদের মুখে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাঁর বেশ কয়েক বছর পর আবার তিনি ফিরলেন বকুল চরিত্রেই, তবে এইবার পরিনত।

নাটকের নাম ‘সবুজ সাথী’, এখানে তিনি স্বাস্থ্যকর্মী। গ্রামের সচেতনতাহীন মানুষদের স্বাস্থ্যশিক্ষা দিয়ে থাকেন। দুই বকুল চরিত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য, কিংবা দেশ বিভাগের করুণ পরিনতিতে চিত্রা নদীর পাড় ছেড়ে যাওয়া ‘মিনতি’ চরিত্রে নিজেকে মিশে নিয়েছিলেন। নাট্যজগতে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত, মিডিয়া ভুবনে অনেক স্নিগ্ধ, মিষ্টি চেহারার অভিনেত্রী এসেছেন, তবে তাঁর মত কেউ নেই যেন। সৌন্দর্য কিংবা অভিনয়ে নিজের আলাদা স্বাতন্ত্র্য গড়ে তুলেছিলেন, তিনি টেলিভিশন জগতের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই যুক্ত হন মঞ্চ নাটকে, সেই সূত্রেই টিভি নাটকে যুক্ত হন। প্রথম কাজ ‘কোথাও কেউ নেই’, এই নাটক দিয়েই বেশ আলোচনায় চলে আসেন। এরপর এগিয়ে চলার শুরু। একে একে অভিনয় করেন নক্ষত্রের রাত, সবুজ সাথী, মৃত্যুর ওপারে, শুধু তোমারেই জানি, না, কুসুম কাহিনী, ঠিকানা, সপ্তর্ষী, হাউজওয়াইফ, স্বপ্নযাত্রা, বন্ধন, হাওয়া ঘর, অতিক্রম, ভোকাট্টা, কাঁটা, সেই তুমি, এবং বনলতা সেনসহ অনেক জনপ্রিয় নাটকে। খুব বেশি নাটকে অভিনয় করতেন না, তবে যাই করতেন বেছে বেছে করতেন।

নাটকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। চিত্রনায়িকা শাবনাজের ডাবিং করার সূত্র ধরেই ‘দিল’ ছবিতে অভিনয় করেন, এরপর ‘নদীর নাম মধুমতি’তে স্বল্প পরিধির চরিত্রে ছিলেন। প্রধান চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন বিখ্যাত ছবি ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’তে। বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন। তবে জাতীয় পুরস্কারে ভাগ্য সহায় হয়নি।

এরপর বেশ বিরতি দিয়ে অভিনয় করেন ‘প্রিয়তমেষু’ ছবিতে। লাক্স, মেরিল ট্যালকম পাউডারসহ একাধিক বিজ্ঞাপনেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালক হয়েছিলেন ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’তে। ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন।

অভিনয়ের সাথে সাথে নির্মাতা হিসেবেও সুপ্রতিষ্ঠিত। জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি নির্মাতা হিসেবে বেশি জনপ্রিয়। টিভি নাটকে প্রথম মেগাসিরিয়াল ‘বন্ধন’-এর নির্মাতা তিনি। এরপর একে একে নির্মান করেন কাছের মানুষ, ডলস হাউজ, পৌষ ফাগুনের পালা ধারবাহিক থেকে অফবিটসহ অনেক আলোচিত নাটক। জাফর ইকবালের গল্প ‘রান’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মান শুরু করেছিলেন, কিন্তু মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আবার চলচ্চিত্র বানাবেন, এই ইচ্ছা রাখেন।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকার কারণে জনপ্রিয় বিভাগে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পাননি, তবে সমালোচক বিভাগে ‘হাউজওয়াইফ’ নাটকের জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন। বর্তমানে নির্মানে অনিয়মিত হলেও, অভিনয় এখনো মাঝে মাঝে করেন। এই বছর দরজার ওপারে, ভালোবেসেছিলে, ফিরে আসার গল্প সহ একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন।

মিমির জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর। ব্যক্তিজীবনে অভিনেতা গাজী রাকায়েতকে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক খুব দ্রুতই বিচ্ছেদে রুপ নেয়। এরপর আর সংসারে মনোযোগী হননি। ব্যক্তিজগত ও মিডিয়া জগতে নিজেকে আরো বর্নিলতর করে তুলবেন, এই প্রত্যাশা রাখি স্বনামধন্য এই শিল্পীর প্রতি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।