বউ লাভস ইউ আ লট || ছোটগল্প

টিএসসি মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। কোন রিক্সা যেতে চাইছে না। মোবাইলে চার্জ নাই। কোনমতে একটা পাঠাও ডাকলাম, হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা। হাতিরঝিলের খালি রাস্তায় ড্রাইভার খুব দ্রুত চালাচ্ছে। আমি আস্তে চালাতে বললাম। স্পিডি কিছু দেখলেই আমার কিছু কথা মনে পড়ে, সাথে কিছু স্মৃতি।

একদিন নীলাকে নিয়ে গিয়েছিলাম হাতিরঝিলে। আজকের মতই মেঘলা আকাশ। নীল শাড়িতে সেদিন নীলাকে আকাশনীলার মত লাগছিল। আমার খুব গান গাইতে ইচ্ছে করছিল, নীলা থামিয়ে দিলে বলল – আর মানুষ হাসানোর দরকার নাই। মন খারাপ করে বাইক স্টার্ট দিলাম, স্পিডি ড্রাইভ করছি। একটা গানের গলা শুনা যাচ্ছে, নীলার গান – ‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল..’

স্পিড কমিয়ে দিলাম, মৃদু অনুভূতিতে ভরে গেল মন। সন্ধ্যায় নীলাকে বাসার সামনে ড্রপ করে দিলাম। সে আমাকে একটা চাবির রিং দিয়ে বলল, আস্তে চালাবে। সেটায় লেখা- ‘বউ লাভস ইউ আ লট।’

এর কিছুদিন পর একবার দিয়াবাড়ি গিয়েছিলাম নীলাকে নিয়ে। হাই স্পিডে বাইক চালানো আমার অভ্যেস, বদভ্যেস বলা যায়। সেখানে আমাদেরকে একটা বাইক অভারটেক করে যাচ্ছিল। আমি কিছুতেই সেটাকে সামনে যেতে দিচ্ছিলাম না। নীলা আমাকে চেপে ধরে বলল, যেতে দাও।

আমি স্পিড কমিয়ে দিলাম। কিন্তু বাইকটা ফিরে আসার সময় এক্সিডেন্ট করল। ছেলেটাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তার মোবাইল লক দেয়া তাই মানিব্যাগ খুঁজে নাম্বার বের করে পরিবারকে জানালাম। মানিব্যাগের একটা কার্ডে লেখা- ‘ড্রাইভ সেফলি, মা লাভস ইউ আ লট।’ সেদিন ছেলেটার মায়ের কান্না আমার আজীবন মনে থাকবে।

স্মৃতির ভেলায় চড়ে হাতিরঝিলের শেষ মাথায় চলে আসছি। মানুষের একটা জটলা দেখে থামলাম। এক্সিডেন্ট! একটা কাপল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়া, তারাতারি রিক্সায় তুলে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে। আবারও স্মৃতি মনে পড়ছে, মেয়েটাকে নীলার মত মনে হচ্ছে। মনে পড়ছে নীলাকে নীয়ে এক্সিডেন্টের কথা, রক্তভেজা নীল শাড়ির কথা। মনে পড়ছে মৃত্যুর আগে নীলার বলা – তুমি আর বাইক চালাবে না। খুব অবাক লাগছে, এই বাইকের চাবির রিংটাতেও লেখা – ‘বউ লাভস ইউ আ লট।’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।