বউ || রম্য গল্প

কোনো এক বিচিত্র কারণে আর বউয়ের ধারণা কোনো ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে পারস্পারিক হাত ধরা, চুমু খাওয়া এবং সেক্স করা খুবই বাজে ও জঘন্য ব্যাপার। এককথায় পাপ, কঠিন পাপ। শুধুমাত্র খারাপ মেয়েরাই এসব করে, ভালো মেয়েরা কোনোদিন করেনা। আর এই থিওরি যে শুধুমাত্র বিয়ের আগে প্রযোজ্য তা না, বিয়ের পরেও প্রযোজ্য।

বাসর রাতে আমি হাত ধরতে গেলে বউ ঝটকা দিয়ে সরে গেলো। বললো, ‘সোহাইল, এসব না প্লিজ।’

আমি ভাবলাম, মাত্র বিয়ে হলো। এখনি এসব করা ঠিকও না। তাকে টাইম দেয়া উচিত।

সুতরাং সেদিনের মত আমি হাত ধরা থেকে বিরত থাকলাম। সারারাত গল্প করলাম, একজন আরেকজনের সম্পর্কে জানলাম, আমি ওকে পয়সা গায়েব করে দেয়ার ম্যাজিকটা দেখালাম, ও আমাকে, ‘ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে, আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে’ গানটা গেয়ে শোনালো। অপূর্ব কণ্ঠ।

রিয়েলাইজ করলাম, আমি আসলেই ভীষণ লাকি!

আরো কয়েকদিন আমি ওকে স্পর্শ করার চেষ্টা করলাম না। বেচারি আরেকটু ইজি হোক। একজন আরেকজনকে আগে ভালোভাবে চিনি, বুঝি, পরিচিত হই। বউ হওয়ার আগে সূচি আমার বন্ধু হোক।

উল্লেখ্য, ওর নাম সূচি।

তো ফাইনালি বিয়ের এক সপ্তাহ পর আমি ওকে খুব আস্তে আস্তে জড়িয়ে ধরে ক্লোজ হওয়ার চেষ্টা করলাম। শুরুতে গালে চুমু খেতে গেলাম। সূচি ছোটখাটো একটা চিৎকার দিয়ে আমাকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিলো। আমি আরেকটু হলেই খাট থেকে পড়ে যাচ্ছিলাম। ও আমার দিকে তীব্র ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, ‘ছিঃ সোহাইল, ছি! আমি তোমাকে ভালো ভাবছিলাম, তুমি এতো খারাপ?’

‘কি এমন করলাম আমি, আশ্চর্য! তুমি আমার বউ’ – বলে ওর দিকে আবার আগাতে গেলে ও পেছনে সরে গেলো। বললো, ‘দেখ, আর একটু আগালে আমি চিৎকার করে লোক ডাকতে বাধ্য হবো।’

ভয় পেয়ে পেছনে সরে গেলাম। বললাম, ‘আচ্ছা তুমি আগে শান্ত হও। আমি কিছু করছিনা।’

ও তাও মোটামুটি খাটের একবারে কর্ণারে গিয়ে দেয়ালের সাথে সেটে আছে। চোখের দৃষ্টিতে প্রচন্ড ভয় আর ঘৃণা।

আরো কিছুক্ষণ পর অনেক কষ্টে ওকে একটু শান্ত করলাম। সহজ হয়ে কথাবার্তা বলার পর ও যা জানালো তা শুনে এই ছাব্বিশ বছরের জীবনে সবচাইতে বেশি অবাক হলাম আমি।

সূচি, আমার বিয়ে করা বউ। সে মনে করে ছেলে মেয়েদের এইসব হাত ধরা, চুমু খাওয়া, গায়ে হাত দেয়া, সেক্স করা সবই পাপ কাজ। খুব খারাপ মেয়েরা এইসব করে। যারা এসব করে, সমাজের চোখে তারা ঘৃণিত, তারা পাপি।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কিভাবে জানলে?’

ও বললো, ‘আমি ছোট না সোহাইল। সব জানি। আমাদের বাড়িওয়ালার বাসার কাজের মেয়ে আর ড্রাইভার একবার এইসব করতে গিয়ে ধরা খাইছিলো। এলাকার সবাই তাদেরকে মাইর দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিছে। মহল্লার আরেক বড় আপু, তমা আপু তার প্রেমিকের সাথে এগুলা করে বলে লোকজন কিভাবে যেন জেনে গেছিলো৷ সবাই ছি ছি করতো। বলতো তমা বাজে মেয়ে। আমার আম্মু উনার সাথে মিশতে বারণ করেছিলো। আমি জানি এগুলা খারাপ ছেলে মেয়ের কাজ। ভালোরা এগুলা করেনা। আর আমি সারাজীবন ভালো থাকতে চাই।’

‘আই হ্যাভ বিন ইটেন’ – স্বগোতক্তি করলাম। বউ জিজ্ঞেস করলো, মানে কি এর। আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,‘খাইছে আমারে।’

আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম, ‘আরে গাধা মেয়ে, তোমার কথা ঠিক আছে। আমাদের দেশে সেক্স করা কঠিন পাপ ঠিক, এমনকি যারা এটা করে সমাজের চোখে তারা খারাপ মেয়ে, এটাও ঠিক। কিন্তু সবই বিয়ের আগে সেক্স করলে, বিয়ের পরে না।’

সূচি চোখমুখ শক্ত করে বললো, ‘গাধা আমি না সোহাইল, গাধা তুমি। বিয়ের আগে যেটা পাপ, বিয়ের পরও সেটা পাপই হয়৷ তোমার কথা ঠিক ধরলে তো তাইলে বিয়ের আগে চুরি করলে পুলিশ ধরবে, বিয়ের পর করলে ধরবে না। বিয়ের আগে খুন করলে ফাসি হবে, বিয়ের পর খুন করলে মাফ, তাইনা? এরকম যুক্তি হাজারটা দেয়া যাবে। পাপ কাজ সবসময়ই পাপ। সেটা বিয়ের আগে হোক বা পরে, ছোটবেলায় হোক বা বুড়ো বয়সে, দেশে হোক বা বিদেশে, পাপ পাপই! বুঝছো?’

অকাট্য যুক্তি, এর পরে আর বলার কিছু থাকে না। তারপরও আমি বললাম, ‘দেখ সূচি বিয়ের পর সবাই এটা করে। তোমার আব্বু আম্মুও করে।’

– হোয়াট! সোহাইল তুমি এটা কিভাবে বললা? সূচি প্রচণ্ড রেগে গেল। আমার আব্বু আম্মুকে নিয়ে বাজে কথা বলতে তোমার একটুও বাধলো না? ছি! আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না তুমি আমার ফ্যামিলি নিয়ে এইভাবে ভাবো। আমার আর এক মুহুর্ত তোমার সাথে থাকা সম্ভব না।

স্যরি টরি বলে অনেক কষ্টে বোঝানো লাগলো যে আমি ঐভাবে মিন করে বলিনি। সূচি কাদো কাদো গলায় বললো, ‘আর কোনোদিন আমার আব্বু আম্মু নিয়ে বাজে কথা বললে আমি আর জীবনেও তোমার সাথে কথা বলবো না।’

আমি শেষ চেষ্টা করলাম, ‘আচ্ছা সেক্স না করলে বাচ্চা কিভাবে হবে? তুমি চাওনা আমাদের ছোট্ট কিউট গুলুগুলু একটা বেবি হোক? তার জন্যও এগুলা করা লাগে।’

সূচি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, ‘আমাকে উল্টাপাল্টা বুঝানোর চেষ্টা কইরো না প্লিজ। বিয়ে করলে কয়েক বছর পর এমনিতেই বাচ্চা হয়। আমার আব্বু আম্মু তোমার আব্বু আম্মু তো এগুলা করেনাই তো তাদের বাচ্চা হয়নি? আমরা হইনি? এমনকি আমার দাদু বিশাল হুজুর। তিনবার হজ্ব করছে। উনারও বাচ্চা হইছে। উনি তো কোনো পাপ কাজ করবে না। করবে বলো?’

আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। কি আর বলবো!

এভাবেই আরো বেশ কিছুদিন চলে গেলো। খাই, ঘুমাই আর দুজনে গল্প করি। বউ শুধু বলে, ‘ডেইলি রাতে ইদানিং বাথরুমে গিয়ে তোমার এতো টাইম লাগে কেন?’

এই আরকি, আমি আমতা আমতা করি।

মাঝে কিছুদিন বউকে বোল্ড সিন আছে এরকম সিনেমা দেখানোর ট্রাই করেছিলাম। দুজনে একসাথে দেখতাম। কিন্তু প্রথমদিন ঐসব সিন আসলেই বউ নাউজুবিল্লাহ বলে ল্যাপটপ অফ করে দিছে। বলেছে, ‘এইসব করা যেমন পাপ, দেখাও তেমন পাপ। কঠিন গুনাহ।’

তারপর থেকে আর আমার সাথে সিনেমাও দেখে না। আমাকেও দেখতে দেয় না। হুমকি দিছে, ‘আর কোনোদিন এমন সিনেমা দেখলে আমি আব্বু আম্মুরে বলে দিব তুমি কত খারাপ। আমার সাথে এইসব করার চেষ্টা করেছিলে তাও বলব। আমার এক আঙ্কেল পুলিশের এসপি। আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন। কলেজে থাকতে এক ছেলে আমাকে লাভ লেটার দিছিলো জানার পর তাকে তিন মাসের জেল খাটাইছেন। তোমার ব্যাপারে উনি জানলে তোমাকে কি করবে আমি তার কোনো গ্যারান্টি দিতে পারতেছিনা।’

আমি বুঝে উঠিনা, আমার কি ভয় পাওয়া উচিত? নিজের বউএর গায়ে হাত দিতে যাওয়ার অপরাধে প্রথম জেল খাটা মানুষ বুঝি আমিই হবো। সবই কপাল।

শেষমেশ আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব চেষ্টাই করেছি। এমনিতেই আমি খুব লাজুক। অনার্স পড়াকালীনও ভাবতাম ফার্মেসিতে গিয়ে কনডম চাইলে দোকানদার আমাকে আটকায় রেখে পুলিশে ফোন দিবে। তবে আমার বউ যে আরো অন্য লেভেলের হবে তা কে জানতো! শুনেছি ভাবী সম্প্রদায় নাকি বউদের এইসব বিষয়ে শিক্ষা দিতে পারে। কনভিন্স করাতে পারে। কিন্তু ভাবীদেরকে এইটুকু বলার সাহসও আমার নাই। আমি বলতে না পারলে কি হবে, ঠিকই কানাঘুষা শুনি, ‘সোহাইল নাকি বৌমাকে আজেবাজে ইঙ্গিত করে।’

নিজের বউকে বাজে ইঙ্গিত, এই কষ্ট আমি কোথায় রাখবো। বিয়ের বছরখানেক পার হয়ে গেছে। মুরব্বীরা জিজ্ঞেস করে, ‘কি ব্যাপার? নাতি নাতনির মুখ দেখবো কবে?’

আমি কিছু বলিনা। বউ লাজুক হেসে বলে, ‘আল্লাহ দিলে হবে।’

আমি মনে মনে বলি, ‘হ, বা*ডা হবে।’

আরো বেশ কিছুদিন পর একটা আশার আলো দেখতে পাই। বউয়ের এক বেস্ট ফ্রেন্ড আছে রুপা নাম৷ সে বিবাহিত। দুজনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে ফোনে। খুব খাতির। আমি রিয়েলাইজ করি সূচিকে যদি কেউ এই ব্যাপারে বুঝায়ে রাজি করতে পারে তো সে একমাত্র রুপাই। সূচির ফোন থেকে গোপনে নাম্বার নিয়ে একদিন কল দেই।

পরিচয় শুনে রুপা খুব খুশি হয়। বলে, ‘আরে ভাইয়া কি খবর আপনার? সূচির মুখে আপনার কথা অনেক শুনেছি। ভালো আছেন?’

– জ্বী আলহামদুলিল্লাহ।

– তারপর কি মনে করে?

আমি আমতা আমতা করে বলি, ‘আসলে ব্যাপারটা আপনার বেস্টফ্রেন্ডকে নিয়ে। বিয়ের এতোদিন হয়ে গেল কিন্তু এখনো সূচি আমাকে ওর গায়ে স্পর্শ করতেও দেয় না। অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমি ব্যর্থ!’

আমার কথা শুনে মুহুর্তেই রুপার গলার স্বর চেঞ্জ হয়ে যায়। সে শীতল কণ্ঠে বলে, ‘ছি ভাইয়া, আপনিও এরকম? আপনাকে অন্তত ভালো ভাবছিলাম। ভাবছিলাম আপনি সবুজের মত না। পাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন। সবুজ আমার বর। ও প্রতিরাতেই আমার সাথে এইসব খারাপ জিনিস করার ট্রাই করে। বহু কষ্টে নিজেকে সেফ করি আমি। ফ্যামিলির মুখের দিকে তাকায়ে কাউকে কিছু বলিনা যে তাদের আদরের জামাই আসলে কত অশ্লীল একটা মানুষ। আমি ভাবছিলাম সূচি হয়তো সুখে আছে। কিন্তু বুঝলাম এই জেনারেশনের সব ছেলেরাই এক। আপনি আর আমাকে ফোন দিবেন না কোনোদিন। বাই।’

হোয়াট দ্যা ফুচকা, এইটা আমি কি শুনলাম। হাইরে কপাল! যেমন বউ তেমন বান্ধবী। এরা ছোটবেলা থেকে কি খেয়ে মানুষ হইছে। আল্লাহ! সবুজ নামের ছেলেটার প্রতিও আমার খুব আফসোস হয়। তার কষ্ট তো বুঝি আমি৷ ভাবলাম তার সাথে দেখা করবো। অন্তত একজন আরেকজনের সমব্যাথী তো হতে পারবো।

কাজের চাপে ভুলে যাই। একদিন শুনি অফিসে কে যেন দেখা করতে আসছে। লম্বা সুন্দরমত একটা ছেলে এসে বলে, ‘ভাই আমাকে চিনবেন না। আমি সবুজ। আপনার বউয়ের বন্ধবী রুপার বর।’

আমি তারে হোটেলে নিয়ে গিয়ে কাচ্চি খাওয়াই। বলি, ‘ভাইরে বুকে আসেন। আমার অবস্থাও আপনার মতই।’

সে আমারে জড়ায় ধরে বলে, ‘বিশ্বাস করেন ভাই। বিয়ের তিনবছরে এই প্রথম কাউরে হাগ করলাম।’

দেখি তার চোখে জল টলমল করতেছে। আহারে বেচারা!

আমার আর সবুজ ভাইয়ের খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়৷ আমরা অফিস শেষে একসাথে আড্ডা দেই। সুখ দুঃখের গল্প করি। চা সিগারেট খাই। তারপর দুজনে ফার্মেসির সামনে গিয়ে অনেক্ষন দাঁড়ায় থাকি। মানুষ লাজুক মুখে কনডম কিনে নিয়ে যায়। আমরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পাশের কসমেটিকসের দোকানে গিয়ে ঢুকি। লোশন আর টিস্যুপেপার কিনে বাসায় ফিরি।

একদিন সবুজ বলে, ‘ভাই, এর চাইতে বোধহয় গে হলেই ভালো ছিলো।’

আমি রাগ করি, ‘ছি, এইসব কি বলেন?’

অনেক্ষণ পর আবার নিজেই বলি, ‘হ ভাই, আসলেই। আপনার কথা ঠিক। কিন্তু কি আর করা। দূর্ভাগ্যবশত আমরা তো আর গে হয়ে জন্মাইনাই।’

আমাদের বিয়ের চার বছর হয়ে গেছে। বাচ্চা হয়না বলে সবাই টেনশন করতেছে। একদিন দেখি সূচি কি একটা ভেজষ ঔষধ খাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করায় বললো, ‘আম্মা দিছে। বলেছে শোয়ার আগে খাইতে। তাহলে নাকি দ্রুত বাচ্চা হবে। আরেকদিন দেখি, খুব ভোরে উঠে অদ্ভুত এক ব্যায়াম করতেছে। এটাও নাকি বাচ্চা হওয়ার জন্য। আমি হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝে উঠিনা ‘

আরো কিছুদিন পর সূচি বলে, ‘গাইনি বিশেষজ্ঞের সিরিয়াল দিছি। বিকালে নিয়ে যাবা৷ অনেকের সমস্যা থাকে বলে বাচ্চা হয়না। তাদের ডাক্তার দেখাতে হয়।’

জীবনে অকাজে টাকা খরচ কম করিনাই। কিন্তু এই গাইনি ডাক্তারের ফির মত হুদাই যে কোনোদিন টাকা নষ্ট হয়নাই এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।

গাইনি ডাক্তার দুজনের অনেক পরীক্ষা করায়ে রিপোর্ট দেখে বলে, ‘আশ্চর্য! কোনো সমস্যাই তো নেই। দুজনই খুব সুস্থ। তাহলে বাচ্চা কেন হবেনা? আমি তো কিছুই বুঝতেছিনা।’

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি, ‘ম্যাডাম, চিকিৎসা বিজ্ঞান খুব সীমাবদ্ধ একটা জিনিস। আপনাদের জানার বাইরেও দুনিয়ায় যে আরো কতকিছু আছে আপনি ভাবতেও পারবেন না।’

চেম্বার থেকে বের হয়ে রিক্সায় উঠে সূচি কাদো কাদো গলায় বলে, ‘আমি স্যরি সোহাইল। আমি তোমাকে বাচ্চা দিতে পারিনি। তুমি চাইলে আরেকটা বিয়ে করতে পারো।’

আমি হতাশ গলায় বলি, ‘বাচ্চা লাগবে না। পাঁচ বছর যখন পেরেছি, বাকি পঞ্চাশ বছরও কাটায় দিতে পারবো।’

সূচী জীবনে প্রথমবারের মত আমার হাত ধরে বলে, ‘থ্যাংক ইউ সোহাইল। আই লাভ ইউ।’

আমি সুযোগ বুঝে রিক্সার মধ্যেই চুমু দিতে যাই। সূচি রাগ করে বলে, ‘আমি আছি বাচ্চার দুঃখে তার মধ্যেও তোমার মাথায় বাজে চিন্তা ঘুরে? তুমি কোনোদিন ভালো হবা না। তুমি এতো খারাপ বলেই আমাদের বাচ্চা হচ্ছেনা। সব তোমার পাপের শাস্তি।’

আমি হতাশ হয়ে এপাশ ওপাশ মাথা নাড়াই। বলি, ‘আচ্ছা স্যরি, আর কোনোদিন এসব করার চেষ্টা করবো না। তুমি বলো, আমি যদি ভালো হয়ে যাই তাহলে কি বাচ্চা হবে?’

সূচি খুশি খুশি গলায় বলে, ‘তাহলে নিশ্চয় হবে।’

আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি – ‘হ, বা*ডা হবে!’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।