বউ পেটানো চাচা || ছোটগল্প

পাড়ার মাজেদ চাচা চার চারটা বউ তাড়িয়েছে। বউগুলা তাড়িয়েছে কোন প্রকারের কারণ ছাড়াই। নিয়োমিত বউ পেটাতো। তরকারিতে লবন কম হইলে চাচায় বউ পেটায়। হাটার সময় বাম পা আগে দিছে কেন? বউ পেটায়। বাজারে কোন রিক্সাওয়ালা চাচার কাছে ভাড়া বেশি চেয়েছে চাচা বাড়ি এসে বউ পেটায়। পানি দিতে দেরি হলে বউ পেটায় তাড়াতাড়ি দিলেও বউ পেটায়। এমন কি সকাল বেলা সূর্য্য ওঠা দেরি হলেও চাচায় বউ পেটায়।

অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক সময় চাচার বউগুলা বাধ্য হয়েই বাপের বাড়ী যায়। কিন্তু যায় তো যায়-ই। আর ফিরে আসে না। চাচা মিয়াও নতুন বিবি ঘরে আনতে দেরি করে না। কারণ চাচার মাঠ ভরা জমি আর গোয়াল ভরা বড় বড় গরু ছাগল আছে। যদিও চাচা মিয়াকেই আমার সবচেয়ে বড় গরু মনে হয়। মেয়ের বাপেরাও সম্পদ দেখে এমন বউ পিটানো চাচার সাথে নতুন করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন, সম্ভবত।

এই ভাবেই এক থেকে দুই, দুই থেকে তিন হয়ে আজ চাচা মিয়া পঞ্চম বিয়ে করেই ফেললেন। প্রথম দিনটা চাচা কোনমতে হাত নিরব রাখলে দ্বিতীয় দিন আর পারছিলেন না। যেভাবে হোক বউ পেটাইতেই হইবে। না হলে পুরুষ হিসেবে চাচার সমাজে সম্মান থাকে না! দুপুরে মাঠ থেকে ফিরেই চাচা দেখে তার নতুন বিবি মসলা বাটছিলেন, পাটায়। পাটায় পুতা দিয়ে যখন কেউ মসলা বাটে স্বাভাবিক ভাবেই কিন্তু মহিলার কোমর কিছুটা হলেও দোলে। তো চাচা মিয়া দেখলেন এই তো সুযোগ! পিটানোর মওকা পেয়ে গেছি।

চাচা লাঠি হাতে দৌড়ে বিবির কাছে গিয়ে বললেন, ‘দেখ শালী, মসলা বাটপি বাট, তয় কোমর নাড়াবি না কিন্তু। কোমর নাড়ালে পিটিয়ে তোর চামড়া তুলে নেবো।’

নতুন চাচী অবাক! বাটার সময় কোমর নড়বে এটাই তো স্বাভাবিক। বুইড়া কয় কি! বুদ্ধিমান চাচী ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ‘আপনি গরমের ভেতর মাঠ থেকে আইছেন, আমি চাউল ভেজে দেই আপনি বসে বসে খান।’ বলেই উঠে চলে গেলো চাউল ভাজতে। চাচাও আর পিটানোর সুযোগ না পেয়ে চুপ করে বসে রইলেন। রাগে তার গা জ্বলছিল। কিন্তু অপেক্ষায় রইলেই, সময়ের।

কিছুক্ষণ পর চাচী চাউল ভাজি আর এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি নিয়ে আসলেন চাচার সামনে। বললেন এবার খাও। চাচা চাউলের বাটি হাতে নিয়ে কিছুটা ভাজা চাউল মুখে নিয়ে চাবাতে লাগলেন। আর তখনই তার পঞ্চম বউ হাতে পুতা নিয়ে দড়াজ গলায় হুঙ্কার ছেড়ে বললেল, ‘দেখ বুইড়া চাউল ভাজা খাবি খা। তয় মুখ নাড়ালে এই পুতা দিয়ে তোর বত্রিশ দাঁত ফেলে দিবো কইলাম। চাচা মাথা তুলে দেখে তার নতুন বিবি কোমরে কাপড় বেঁধে পুতা হাতে তৈরি! চাচার হাত থেকে চাউলের বাটি পড়ে গেলো ভয়ে। এবং চাচার লুঙ্গীর নিচ দিয়ে পানি পড়ছে। গ্লাসে খাওয়ায় সেই পানি না। ভয়ে চাচা প্রসাব করেই ফেলছে!

চাচী তার রুক্ষভাষী গলায় বলছে, ‘বুইড়া মসলা বাটার সময় কোমর নড়লে সমস্যা আর তুই চাউল ভাজা খাওয়ায় সময় চোওয়াল নাড়ালে সমস্যা নাই? আজ তোর একদিন আর আমার যে কয়দিন লাগে। ভাবছিস আগের বউগুলার মতো আমিও তোর হাতের মাইর খাবো? আমি মাইর খাইতে আসি নাই রে গোলাম। তোরে মারতে আইছি।’

সেই যে চাচার বউ পেটানো বন্ধ হইছে, আর পেটায় না। এখন বয়স আশি বছর পার হলেও চাচায় কিন্তু সেই পঞ্চম বউ নিয়েই সংসার করছে। আমার এই চাচীও যদি আগের গুলার মতো নরম হতেন তবে চাচা বিয়েতে সেঞ্চুরি না করলেও হাফ সেঞ্চুরি করতেন। তা ভাল করেই জানি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।