বইয়ের কাছে মানুষকে ফিরতেই হবে: কিঙ্কর আহসান

বই নিয়ে তাঁর হাজারো স্বপ্ন। মানুষ একদিন গল্পের কাছে ফিরবে, মানুষ একদিন বইয়ের কাছে ফিরবে, এমনটাই স্বপ্ন দেখেন কিঙ্কর আহসান। এশিয়াটিক ডিজিটালে কপিরাইটার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সমানতালে চলছে তার লেখালেখিও। এক কালে সাংবাদিকতাও করেছেন। এবারের আসন্ন বইমেলায় প্রকাশিত তার নবম বই ‘রাজতন্ত্র’ নিয়ে কথা বলতে তিনি মুখোমুখি হলেন অলিগলি.কমের

কেমন আছেন?

– ভালো আছি। বইমেলা আর অফিস নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে খুব। গলায় ইনফেকশন, প্রেশার হাই এত সবকিছু নিয়েও বেঁচে আছি তাই বলি ভালো আছি।

আর আপনার রাজতন্ত্র কেমন আছে?

– ভালোই আছে জানি। প্রকাশকের কাছে আছে। তিনি দেখাশোনা করছেন। প্রেস থেকে বের হয়ে যখন আলোর মুখ দেখবে ‘রাজতন্ত্র’ তখন থেকে এই বইয়ের দায়িত্ব পাঠকের। পাঠকই পছন্দ করলে ভালো রাখবে আর অপছন্দ হলে অবহেলায় দূরে সরাবে।

গতবছর বইমেলায় আপনার মধ্যবিত্ত বেশ ভালো জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এবার ‘রাজতন্ত্র’ নিয়ে কেমনটা আশা করছেন?

– ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৩০০ কপি বই বিক্রি করেই খুশি হয়ে ওঠা লেখক আমি হতে চাইনা। ‘মধ্যবিত্ত’ ভালো বিক্রি হয়েছে শুনেছি। বইয়ের রয়্যালিটি নেইনা, সৌজন্য সংখ্যাও নেই না। বই বিক্রির সংখ্যাও তাই জানা নেই। শুধু বলতে পারি, চাইতে পারি, স্বপ্ন দেখতে পারি, ‘মধ্যবিত্ত’ ৫০০ কপি বিক্রি হলে ‘রাজতন্ত্র’ যেনো বিক্রি হয় ৫ হাজার, ৫০ হাজার, ৫ লাখ, ৫ কোটি….কপি।

পাঠকদের অভিযোগ অনুসারে মধ্যবিত্ত বইটিতে বেশ কিছু বানান ভুল ছিল। তাই বইটি পড়তে গিয়ে বেশ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল পাঠকদের। এবার কি সেরকম ভুলগুলো উপেক্ষা করতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন?

– অভিযোগ সঠিক। অনেক বানান ভুল ছিলো। দোষ মাথা পেতে নিচ্ছি। আশা করছি এবার এই সমস্যায় পড়তে হবেনা।

আপনি মোটামুটি প্রচারবিমুখী একজন লেখক ছিলেন। তবে এবার ‘রাজতন্ত্র’ নিয়ে বেশ ভালো রকম প্রচারনা করতে দেখা গেছে আপনাকে। এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন!

– একজন লেখকের জন্য লেখার মানটা ঠিকঠাক রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরী আমি মনে করি। ভালো লিখলে পাঠকই আমার বইয়ের বিজ্ঞাপন হবে, তারাই প্রচারনা করবে এমনটাই বিশ্বাস ছিলো তাই লেখা ছাড়া অন্য কোনো দিকে নজর দেইনি। পরে দেখলাম এই সময়ে লেখালেখির জন্য ফলোয়ার অনেক জরুরী। নিজের ঢোল নিজেকেই পেটাতে হয়। প্রকাশক আর অনলাইন পরিবেশকদের দিক থেকে প্রচারনার জন্য চাপ থাকে তাছাড়া লেখক মানেই প্রকাশের জন্য উদগ্রীব। নিজের লেখা ছড়িয়ে পড়ুক এটা সবাই চায়। আমিও চাই। তাই প্রচারনায় নামা। তবে হ্যা রাস্তায় নামবো না বই নিয়ে। আমি আমার মতন করে লড়াই করবো। ‘মধ্যবিত্ত’ বইটার সাফল্যের পর খেয়াল করছি পাঠকই নিজে থেকে আমার বইয়ের কথা বলছে। আমি ভাগ্যবান। আমি কৃতজ্ঞ।

জেনেছি, পরিবার থেকে আপনার লেখালেখিকে তেমন একটা উৎসাহ দেয়া হয় না। এমন অবস্থায় লেখালেখি চালিয়ে যেতে কষ্ট হয় না?

– আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এমন পরিবারের ছেলের ক্ষেত্রে লেখক হবার বদলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়াটা অনেক বেশি লোভনীয়। পরিবার থেকে বাঁধাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। গা সওয়া হয়ে গেছে। কষ্টের কথা বলতে চাই না। শুধু বলি, লিখে যাবো এক জীবন। লেখার জন্যই বেঁচে আছি আমি।

লেখালেখির বাইরে আপনি একজন কপিরাইটার। কখনও কি মনে হয়েছে, এদের মধ্যে একটা ছেড়ে অন্যটা নিয়েই সারাটাজীবন পার করে দেয়ার কথা?

– জীবন অনেক কঠিন। যে জীবনটা মনের ভেতর পুষে রাখি সেটা কখনোই যাপন করা হয়না আমাদের। স্বপ্ন দেখি সবটুকুন সময় লেখালেখির পেছনে দিচ্ছি কিন্তু হয়না। সকাল, সকাল ছুটতে হয় কাজে। রাত নামলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরি। এইসব ক্লান্তি, মন খারাপের আড়ালে থেকে, থেকেই লেখার সময়টা বের করি। শরীর সায় দেয়না, চোখ ঝাপসা হয় তবুও লিখে শান্তি পাই। লেখার চরিত্রগুলোর সাথে কথা বলে আনন্দ হয়। ইশ, চব্বিশ ঘন্টাই যদি লেখার পেছনে দিতে পারতাম!

বাংলাদেশে বইয়ের ভবিষ্যৎ আপনার কাছে কেমন মনে হয়? বিশেষ করে ডিজিটালাইজেশনের যুগে যখন ছাপা অক্ষরই হারিয়ে যেতে চলেছে…

– মানুষ এখন খুব অস্থির। ভালো নেই কেউ। শো অফের জীবন যাপন করছে। মনে শান্তি নেই। দামী সব কিছু দিয়ে ঘর ভরে আছে কিন্তু জানা নেই সুখ আসবে কিসে! এইসব মানুষদের মুক্তি বইয়ের ভেতরেই। বইয়ের কাছে মানুষকে ফিরতেই হবে। ফিরতে হবে গল্পের কাছে। আমি আশাবাদী। মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এই দেশ, এই পৃথিবী বইয়ের হবে। হবেই। শুধু এজন্য বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে। আমাদের অনেক ইগো। অন্যের ভালো দেখতে পারিনা। বইয়ের ভালোর জন্য সব ভুলে একসাথে কাজ করতে হবে। বইয়ের কথা না লুকিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। এমন হলে খুব শীঘ্রই মানুষ বই কাছে টেনে নেবে। বই হবে সবচেয়ে জরুরী, সবচেয়ে কাছের। বিশ্বাস করুন, সুদিন আসতে দেরি নেই। একদম দেরি নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।