বইমেলা ২০১৮: আশা, হতাশা ও প্রত্যাশা

১.

ধরেন, আপনি একজন তরুণ পাঠক। স্কুলে পড়েন অথবা কলেজে। বই কেনার জন্য আপনার বরাদ্দ সীমিত। আপনি জানেন বইমেলায় স্টলের সংখ্যা প্রায় ৬০০ আর নতুন বই বের হচ্ছে ৩০ হাজার। এর মধ্য থেকে আপনার পছন্দের বই আপনাকে কিনতে হবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রথমত আপনি ইতিহাসের দিকে তাকাবেন। বাংলা সাহিত্যের নামকরা, প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের কিছু বই আপনি কিনবেন। হতে পারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ আপনার পছন্দের শীর্ষে। এর বাইরে আপনি কিনতে চান হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হকের কিছু বই, কারণ এই লেখকদের নাম ও তাদের বইয়ের বিজ্ঞাপন আপনি নিয়মিত পত্রিকায় দেখেন।

আরেকটু খোঁজখবর রাখা পাঠক হলে আপনি কিনবেন মশিউল আলম, জাকির তালুকদার, শহীদুল জহির, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাসউদুল হক, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আহমদ ছফা, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাস, আবুল হাসান, হুমায়ূন আজাদ, নাসরীন জাহানের আরও কিছু গল্প ও কবিতার বই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার পছন্দের তালিকায় আছে সেবা প্রকাশনীর অনুবাদ, ওয়েস্টার্ন, মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, ও ক্লাসিক কিছু বই। এছাড়া আপনি যেহেতু এ প্রজন্মের তরুণ পাঠক, আপনি কিছু বিদেশী বইয়ের অনুবাদও কিনবেন বইমেলা থেকে। আর আপনার পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে সাদাত হোসাইনের নতুন বই। আমি উপরে খুব অল্প কিছু লেখকের নাম লিখলাম, এর বাইরে আরও অনেক প্রসিদ্ধ লেখক কবি আছেন, আমি ধরে নিচ্ছি আপনি তাদের চেনেন না, জানেন না, কারণ সেই সুযোগ আপনাকে কেউ করে দেয়নি।

এখন আসুন দেখি, বাস্তবে কী হয়? বইমেলায় ৩০ হাজার নতুন বই বের হলে (কথার কথা), লেখক থাকেন ২০ হাজার। আপনি একজন নতুন পাঠক হিসেবে কীভাবে তাদের চিনবেন? একটা উপায় হচ্ছে পত্রিকার বিজ্ঞাপন। অথবা তাদের ফেইসবুকের স্ট্যাটাস। কিংবা যদি তারা আগে ব্লগে লেখালেখি করা সূত্রে পরিচিত হন। একটু সিনিয়র কিন্তু নতুন লেখক যারা পত্র-পত্রিকায় কলাম লেখেন কিংবা পত্রিকার সাহিত্য পাতায় যাদের গল্প কবিতা ছাপা হয়, তাদের বইও হয়ত আপনি কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হবেন। কিন্তু এই সবগুলো মাধ্যম মিলে আপনি জানতে পারবেন বড়জোর আরও গোটা ১০-১৫ কবি সাহিত্যিককে। বাকিদের? আমি জানি না আপনি কীভাবে জানবেন! আপনি মেলায় ঢুকবেন। অসংখ্য স্টলে যাবেন। আগের থেকে ঠিক করে যাওয়া কবি, সাহিত্যিকের বই কিনে বাসায় চলে আসবেন। মেলায় বের হওয়া আরও অসংখ্য বই হাহাকার করতে থাকবে প্রথমে ক্রেতার অভাবে, তারপর পাঠকের অভাবে।

২.

এখন প্রশ্ন আসে পাঠক ও ক্রেতার মধ্যে পার্থক্য কেন হচ্ছে? কারণ হচ্ছে আমাদের বইমেলায় ক্রেতা খুবই কম, পাঠক তার চাইতেও কম, সবচেয়ে বেশী হচ্ছে দর্শক। বইমেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে মূলত ঘুরে বেড়ানোর জায়গা। পরিচিত মানুষের বই হাতে নিয়ে ছবি তুলে রেখে দেবার জায়গা। আমার শেষ দুটি কবিতার বইয়ের প্রকাশক রাজীব চৌধুরী বই বের করার জন্য আমার কাছে কোন টাকা নেননি, কখনও বই বিক্রির চাপও দেননি বিধায় আমি নিজের থেকে একটা দায় বোধ করি যাতে প্রকাশকের ক্ষতি না হয় আমার বই বের করে।

বইমেলার সময়ে অন্তত ছুটির দিনগুলোতে সন্ধ্যাবেলায় বইমেলায় যেতাম। অনেক পাঠক দিনের বেলা ফোন করে জিজ্ঞেস করতেন আমি কোথায়? আমি মেলায় নেই জানলে তারা বলতেন পরবর্তীতে কখন আসব? আসলে তখন তারা বই কিনবেন, কারণ আমার সাথে সেলফি তুলতে চান, অটোগ্রাফ নিতে চান। এমন অনেক পাঠককে বলেছি শুধু আমার সাথে ছবি তোলা উদ্দেশ্য হলে আমার বই কেনার দরকার নাই, আমার সাথে পাঠকের সম্পর্ক হওয়া উচিৎ আমার লেখা, আমার বই। তবে আমি যখন মেলায় থাকি, তখন কোন পাঠক যদি এসে বই কেনেন, ছবি তোলেন তাহলে আমার ভালো লাগে। সমঝদার পাঠক পেলে তার সাথে গল্প করতেও আমি পছন্দ করি।

কিন্তু মেলায় খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করে দেখেছি, অসংখ্য দর্শক কোন বই না কিনেই চলে যান। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে একটি বই যদি ৩০০ কপি বিক্রি হয়, তাতেই সেটি বেস্টসেলারের তালিকায় উঠে যায়, প্রকাশক সেই লেখকের পরবর্তী বই প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন না, এই হচ্ছে আমাদের পাঠের অভ্যাস, বই কেনার অভ্যাস!

৩.

বাংলাদেশে বই বিক্রির হার হতাশাব্যঞ্জক। শতকরা ৮০-৯০ শতাংশ লেখক টাকা দিয়ে বই ছাপান। প্রকাশনা সংস্থার নাম ও প্রকাশনার মান অনুযায়ী ১২ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে যেকোন লেখক ২০০ থেকে ৫০০ বই প্রকাশ করতে পারেন। আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নতি হবার কারণে নিজের পকেট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা খরচ করে বই প্রকাশ করতে অনেকেই সংকোচবোধ করেন না। বাকি যেই ১০-২০ শতাংশ লেখক থাকেন, তাদের বই প্রকাশিত হয় প্রকাশকের টাকায়। সেইসব লেখকদের উপর প্রকাশকের চাপ থাকে ন্যূনতম সংখ্যক বই বিক্রি করে দেবার জন্য, যাতে করে তারা ক্ষতির সম্মুখীন না হন।

ফলশ্রুতিতে লেখক তার বই কেনার জন্য চাপ দেন ভাই, ভাবী ও আত্মীয়-স্বজনেরদের, অফিসের কলিগ, প্রেমিকা, প্রেমিকার বন্ধুদের। আমার প্রথম বই প্রকাশ করার সময় আমিও অনেককে বই কেনার অনুরোধ করেছি। তারপরের বইগুলোর ক্ষেত্রে সেই অনুরোধ ক্রমাগত কমিয়েছি, কারণ বই বিক্রি ক্রমাগত বেড়েছে এবং প্রকাশকের অন্তত ক্ষতির সম্মুখীন কখনই হতে হয়নি।

বাংলাদেশে বই ছাপা হয় প্রচুর। এখন এই লাইনটি লিখে থেমে গেলে যারা বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে খবর রাখেন, তারা অবশ্যই আপত্তি করবেন। কারণ বাংলাদেশের চাইতে অনেক কম জনসংখ্যার অনেক দেশে লক্ষ লক্ষ বই ছাপা হয়। আমি মূলত বলতে চেয়েছি বাংলাদেশে মানহীন বই ছাপা হয় প্রচুর। আমাদের এখানে প্রায় কোন প্রকাশনীরই সম্পাদনা পরিষদ নেই যারা বইয়ের মান যাচাই বাছাই করবে। যেহেতু বেশীরভাগ বই লেখকরা নিজের টাকায় ছাপান, তাই প্রকাশকরা তার মান নিয়ে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই থাকেন উন্নাসিক। শুধুমাত্র ভুল বানান ও ভুল ব্যাকরণ যদি মান যাচাইয়ের পরিমাপক হতো, তবে বইমেলায় বই প্রকাশের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসত।

গল্পের গাঁথুনি, কবিতার গভীরতা, প্রবন্ধের গুরুত্ব ইত্যাদি বিবেচনায় আনলে সবগুলো প্রকাশনী ১টি করে বই প্রকাশ করার মতো পান্ডুলিপি পেত কিনা আমার সন্দেহ হয়। সেইক্ষেত্রে প্রকাশক ভালো লেখকের পিছে বছর ধরে ঘুরতেন ভালো পান্ডুলিপির জন্য। লেখকদের সম্মানী অনেক হতো, বইয়ের দামও হতো এখনকার চাইতে অনেক বেশী। কিন্তু তাতে ক্রেতা কমত না, কারণ পাঠক নিম্নমানের বইয়ের পেছনে অর্থ খরচ না করে ভালো বই কিনত, লেখকও রয়ালটি পেত, এবং আমাদের সাহিত্যের গুণগত মান বেড়ে যেত অনেকাংশে।

৪.

বইয়ের মান যাচাইয়ের এই কাজটা আসলে কে করবে? বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরষ্কারের মতিগতি দেখলে মনে হয় না এই কাজ তাদের পক্ষে করা সম্ভব। আমি যত প্রকাশকের সাথে কথা বলেছি, তাদের অনেকেই প্রতিবছর একটা চাপে থাকেন বাংলা একাডেমিতে কর্মরত ‘লেখক’দের বই বিনা পয়সায় ছাপিয়ে দেবার জন্য। সাথে থাকে বিভিন্ন সরকারী মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বই বের করবার অনুরোধ (পড়ুন প্রচ্ছন হুমকি!)।

এইসব ‘লেখক’, কর্মকর্তারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বই ছাপানোর জন্য প্রকাশকদের চাপ দেন। যেমন সারা বছর ধরে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পে বই কেনা হয়, সেখানে প্রকাশকের বই তালিকাবদ্ধ করে দেবার জন্য, বই মেলায় স্টল বরাদ্দে সহায়তা করার জন্য ইত্যাদি। কেউ কেউ থাকেন কর্মকর্তা কাম শিক্ষক, তারা বলেন তাদের ছাত্ররা শত শত বই কিনে নেবেন। মূলত যারা বই যাচাই বাছাই করতে পারতেন, তাদের বড় অংশ বরঞ্চ মাফিয়ার ভূমিকা পালন করেন, ফলশ্রুতিতে মানসম্পন্ন বই বের করা একটা দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

৫.

এখন বাজারে যদি মানসম্পন্ন বই আনা নিশ্চিত করা না যায়, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্পাদক নিয়োগ করা না যায়, তবে কোন না কোনভাবে পাঠক, ক্রেতাকে তো জানাতে হবে কোন বইগুলো কেনা আবশ্যক। আমাদের বেশীরভাগ পত্রিকায় বইয়ের রিভিউ করার জন্য আলাদা বিভাগ নেই। সাহিত্যপাতায় ছোট্ট করে বই রিভিউ করা হয় বটে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয় মোটেই। পত্রিকায় রিভিউ ছাপানো, গল্প-কবিতা ছাপানো প্রায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটবদ্ধ।

আপনি সাহিত্য সম্পাদকের কতটা কাছের মানুষ, তার সাথে কত চা-নাশতা খান সেটার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এটাও সত্য অনেক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের নির্ভার ও নিজের স্বাধীনতায় গল্প, কবিতা ছাপানোর, রিভিউ করার সুযোগ থাকে না। অনেক সময় তাদের মাথার উপর খড়গ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন উপ-সম্পাদক শ্রেণীর বস-মানুষ। ফলশ্রুতিতে সিন্ডিকেট মেইনটেইন না করতে পারলে পত্রিকার মাধ্যমে আপনার ক্রেতা-পাঠকের কাছে পৌঁছানোর আশায় গুড়ে-বালি।

৬.

বই লিখে আমাদের এখানে খুব কম মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন! হুমায়ূন আহমেদ কিংবা সৈয়দ শামসুল হকের উদাহরণ দেয়া ঠিক হবে না, তারা কোটিতে দুজন। তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদের আরও অনেক আয়ের পথ ছিল। পুরোপুরি লেখার উপর নির্ভর করে মোটামুটি নির্ভার থাকতে পেরেছেন সৈয়দ শামসুল হক। তাহলে নতুন ভালো লেখক কোথা থেকে আসবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি পড়েন, তারা জানেন তাদের হয় কলেজের শিক্ষকতা করতে হবে, নয়ত পত্রিকার সাংবাদিকতা অথবা বিসিএস ক্যাডারগিরি!

লেখক হবেন এমন চিন্তা ভুলেও করেন না কেউ আজকাল। ফলশ্রুতিতে লেখালেখি করে টুকটাক ভাল করছেন যারা, তাদের অনেকেই ইংরেজিতে লেখেন, এবং এদের অনেকেরই আর্থিকভাবে পূর্বপুরুষের উপর নির্ভর করার সুযোগ আছে। লেখক তৈরী করার খুব বেশী আনুষ্ঠানিক উপায় আমাদের নেই। আমাদের নির্ভর করতে হয় কপালের উপর। আল্লাহ যদি আমাদের মধ্যে কোন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার অথবা সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র কিন্তু লেখক পাঠান; আমরা তার উপর ভরসা করে বসে থাকি।

৭.

এত যন্ত্রণা পার করে যে হাতে গোণা ১০-১২ জন লেখক হন, তাদের এগিয়ে যাবার মতো অনুপ্রেরণা খুবই কম। সাদাত হোসাইন সেদিন দুঃখ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, বই বের হবার সাথে সাথেই পিডিএফ হয়ে যায়। বই এবং লেখালেখির ফেইসবুক পাতাগুলোতে গেলে দেখা যায় অজস্র তরুণের হাহাকারঃ ‘ভাই পিডিএফ লিংক হবে?’ এই চাওয়াটা যে ভুল সেটি আমরা ধরিয়ে দিই না। অনুৎসাহিত করি না, ফলশ্রুতিতে সবাই ধরে নেয়, বইয়ের পিডিএফ পড়া একটি অধিকার, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মতোই। অথচ পিডিএফে বই পড়া মানুষগুলোই দুই চার হাজার টাকা দিয়ে জামা জুতো কেনেন, ফাস্ট ফুডের দোকানে যখন-তখন হাজার টাকার নোট বের করে ফেলতে দ্বিধাবোধ করেন না। বইগুলো যে একজন লেখকের রাতের পর রাত জেগে লেখা, প্রকাশকের জমি বন্ধক দিয়ে পাওয়া টাকায় ছাপানো – সেটা মনে রাখার প্রয়োজন হয় না কারও।

৮.

সৌজন্য কপির কথা মনে আছে তো? আখতারুজ্জামান আজাদ লিখেছিলেন বাজারে গিয়ে কেউ ফ্রিতে আলু-পটল চায় না, কিন্তু বইয়ের বাজারে সৌজন্য কপি চাওয়াটা যেন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। লেখক প্রকাশক বছরের পর বছর কষ্ট করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রাতের ঘুম হারাম করে, কষ্টের টাকা কালিতে ঢেলে বই বের করার পর আপনি নির্লজ্জের মতো হাত পেতে বললেন, ‘ভাই, সৌজন্য কপি হবে?’ আজাদের কথা থেকেই বলতে হয় ধনী ভাবীদের মালয়শিয়া ভ্রমণ অথবা অবসরপ্রাপ্ত সচিবের জীবনাদর্শন বের করে আশেপাশের ফ্ল্যাটে, দোকানে, রাস্তায় মুড়িমুড়কির মতো ফ্রিতে বিলানোর ফলে মানুষের ধারণা হয়েছে বোধহয় বই একটা সস্তা জিনিস। এটা কেনার তো প্রশ্নই আসে না, ফ্রিতে চেয়েই তারা লেখক ও প্রকাশকের জীবন ধন্য করেন।

৯.

গত দুই বছর বইমেলায় যাই না। বাংলাদেশ কী? বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাকে দুটো কথা বলতে হলে আমি বলব বৃষ্টি ও বইমেলা। সেই বইমেলায় লুকিয়ে আছে অনেক আবেগ, অনেক ভালোবাসা। সেই বইমেলায় লুকিয়ে আছে বৃষ্টি, হুড তুলে রিকশায় ঘুরে বেড়ানো, ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেয়া, চা খাওয়া। বইমেলা আমি দেখতে পাই আমার হাতের তালুর বাঁকা রেখায়, চোখের কোণের শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুতে। বইমেলা, বাংলা ভাষা, সাহিত্য একটা খুব আবেগের জায়গা আমাদের। নানা ঘটনা তাই খুব কষ্ট দেয়, আবেগাপ্লুত করে, রাগিয়ে দেয়।

তারপরও বাংলাদেশ কখনও মুখ ফিরিয়ে নেয় না, হতাশ করে না। আমাদের বইমেলা, আমাদের সাহিত্য নিশ্চয় ঘুরে দাঁড়াবে। হুমায়ূন আজাদের ভাষায় হয়ত সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে, সবকিছু ভেঙে পড়বে; কিন্তু তারপর আবার ঠিকই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তাই একজন কুশল ইশতিয়াকের কবিতায়, মাহবুব ময়ুখ রিশাদের ছোটগল্পে, সুহান রিজওয়ানের সাক্ষী ছিল শিরোস্ত্রানে, আরিফ রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিংবা সাদাত হোসাইনের নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের ভেতর দিয়ে আলোর মশালগুলো এগিয়ে যাবে ভবিষ্যতের দিকে – এই আশাটুকু করে যাব নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।