ফ্রম ঝাক্কাস টু অস্কার

২০১৭ সালের জুনের কথা। ‘মুবারাকাম’ সিনেমার ট্রেইলার লঞ্চের দিন। সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি গত ৩৮ বছর হল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। এই সময়ে আমি নানা রকম চরিত্রে কাজ করেছি। কাজটা মোটেও সহজ নয়। আমি মনে করি, নিজের কাজটা ঠিকঠাক মত করতে পেরেছি বলেই এত দিন যাবৎ আমি নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে পেরেছি।’

কথাগুলো কার পাঠকের সেটা এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা। গোঁফ দিয়ে তাকে যায় চেনা, দক্ষিণের নায়ক না হয়েও যার চেহারা আর ব্যক্তিত্বের সাথে খুব দারুণ ভাবে মানিয়ে গেছে গোঁফ – তিনি হলেন অনিল কাপুর।

রুপালি পর্দার দীর্ঘদিন একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে টিকে থাকা কঠিন। এখানে উত্থান-পতনের পালা বদলায় দ্রুতই। বছরের পর বছর উজ্জ্বল তারকা হয়ে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা খুব কম তারকারই রয়েছে। সেদিক থেকে হাতে গোনা তুখোড় শিল্পীদের একজন অনিল কাপুর। আশি ও নব্বইয়ের দশকের সফল নায়ক এবং নতুন শতকের শক্তিশালী চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে বলিউডে নিজের আসন পাকাপোক্তভাবে ধরে রেখেছেন তিনি।

একজন নায়ক যখন জনপ্রিয়তা পান, তখনকার প্রজন্মের কাছে তিনি বেশ প্রিয়ই থাকেন। যদি তাঁর পরের প্রজন্মদের কাছেও তিনি প্রিয় থাকেন,তাহলে সেই নায়ককে বেশ সফল বলা যায়। বলিউডের ‘শাহেন শাহ’,  ‘কিং খান’,  ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বা ভাইজান নন।  তিনি বলিউডের ‘বেনাম বাদশাহ’।

মশাল, মিস্টার ইন্ডিয়া, তেজাব, রাম লক্ষ্মণ, পারিন্দা, জামাই রাজা, লামহে, বেটা থেকে লাডলা, জুদাই, ১৯৪২: এ লাভ স্টোরি, ভিরাসাত, নায়ক, তাল, পুকারসহ অসংখ্য ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন দর্শকদের মন কেড়েছেন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে রেস, ওয়েলকাম, দিল ধাড়কানে দো তেও তিনি বেশ সফল।

কাজ করেছেন অস্কার জয়ী হলিউড ছবি ‘স্লামডগ মিলিনিয়ার’ এ। কাজ করেছেন জনপ্রিয় সিরিজ ‘টোয়েন্টি ফোর’-এও। কথিত আছে, বলিউডের প্রথম দুই সুপারস্টার নায়িকা শ্রীদেবী ও মাধুরী দু’জনের মধ্যে নাকি স্নায়ুযুদ্ধ চলত অনিল কাপুরের সাথে বেশি সাফল্য পাওয়ার লড়াইয়ে। পুকার সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন, রয়েছে ছয়টি ফিল্মফেয়ার।

বয়ষ ৬০ পেরিয়ে গেলেও, নিজেকে এখনো রেখেছেন তারুণ্যের জোয়ারে। বংশ পরম্পরায় সন্তানরাও এসেছেন বলিউডে, মেয়ে সোনম কাপুর বেশ আলো ছড়াচ্ছেন, ছেলে হর্ষবর্ধন কাপুরেরও অভিষেক হয়ে গেছে বলিউডে। ভাই বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুরকে সাথে নিয়ে ‘মুবারাকাম’ সিনেমা করেছেন এই বছর,ফলাফল সন্তোষজনক। বহু বছর পর আবার জুটি বাঁধছেন মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে, নাম ‘টোটাল ধামাল’। মুক্তি পাবে সামনের বছর, সঙ্গে থাকছে ফ্যানি খান, রেস ৩ এর মত ছবি।

আজো কি দারুণ ফিট। ১৯৫৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কে বলবে তিনি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে ফেলেছেন! এই বয়সেও কি দারুণ তারুণ্য তাঁর মধ্যে! ক’দিন আগে মেয়ে সোনম কাপুরের বিয়েতেও কি নাচটােই না দিলেন! রহস্যটা কী? অনিল কাপুরের ভাষায়, ‘ফ্যাশনেবল হওয়ার চেয়ে চিকন থাকাটা জরুরী। রহস্যটা কিছুই সেটা স্রেফ স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, ইতিবাচক ভাবনা, কাজ করা কিন্তু সেটা রাত জেগে নয়।’

অনিল কাপুরের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন গোটা বলিউডের জন্যই আদর্শ। সময়ের অন্যতম ফিট তারকা রণবীর সিং একবার বলেছিলেন অনিল কাপুরকে দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। ভোর পাঁচটার শ্যুটিংয়ের জন্য তিনি আজো পৌনে চারটার সময় উঠে বসে থাকেন। ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেন নিজেকে। এজন্যই তো তিনি ঝাক্কাস থেকে যাত্রাটাকে অস্কার অবধি নিতে পেরেছেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।