ফেসবুক ব্যবহারকারীদের রকমফের: একটি রম্য গবেষণা

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর গবেষণা করলাম। বের করলাম মোট কত রকমের মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। চলুন একটু বিস্তারিত জানা যাক।

দেওয়া এবং নেওয়া

এই ইউজাররা ‘গিভ এন্ড টেক পলিসি’তে বিশ্বাসী৷ অর্থাত তুমি আমার পোস্টে লাইক কমেন্ট করলে আমিও করবো, না করলে আমিও করবো না৷ এদের পূর্বপুরুষ ছিলো ‘অ্যাড মি আই অ্যাম ব্লক’ টাইপ৷ যারা একটা সময় মানুষের ইনবক্সে লাইক কমেন্ট চেয়ে বেড়াত৷

প্রফেশনাল ইউজার

টাইটেল দেখে ভাবতে পারেন ফেসবুকে কি কোনও জব আছে নাকি যে এরা প্রফেশনাল ইউজার! একাই হলো তারা যারা আল্লাহর ত্রিশটা দিন, ২৪ ঘণ্টা ফেসবুক সময় দেয়৷ যারা খেতে, শুতে, মরতে, বসতে, ঘুমাতে, এমনকি স্বপ্নেও ফেসবুক ইউজ করে৷ যাদের অত্যাচারে তাদের নিরীহ মোবাইল চিৎকার করে বলে ওঠে “ছেড়ে দে মা/বাপ আর কতো?

ভাবুক ইউজার

এরা সবসময়ই ভাবে থাকে৷ কারো পোস্টে এরা যায় না আবার নিজের পোস্টের কমেন্টের ঠিকমতো রিপ্লেও দেয় না৷ যার কারণে এরা প্রচুর গালিও খায় যদিও সেটা মনে মনে৷

ফাতরা ইউজার

এই ক্যাটাগরির পাবলিক নিজেও জানে না এরা আসলে এখানে কেন আসে! দুনিয়ার যত আউল ফাউল পোস্ট এরা দিবে৷ কখনও হাফ উলঙ্গ হয়ে লাইভে আসবে, কখনও নিজের ন্যুড পিক দেবে আবার এদের কেউ অশ্লীল পোস্ট দিয়ে নিউজফিড জ্যাম করে রাখবে৷

‘হা হা’ ইউজার

এদের কাজই হলো আপনার সব পোস্টে হা হা দেওয়া অথবা পোস্ট কি আছে সেটা পড়ার দরকার নেই সোজা চোখ বন্ধ করে লাভ রিঅ্যাক্ট দিয়ে বসবে৷

হাওয়া লাগানো ইউজার

এরা নতুন নতুন লাইক পাওয়া শুরু করছে, যার কারণে এরা এখন গায়ে হাওয়া লাগানো শুরু করছে৷ ভাবুক ইউজারদের সাথে এদের মিল আছে৷ এরাও আস্তে আস্তে একটা সময় তাদের মতন হয়ে যায়৷

কপি পেস্ট ইউজার

এরা জীবনে নিজের থেকে একটা পোস্ট দিয়েছে কিনা এরা নিজেরাই জানেনা৷ দুনিয়ার যত লেখা সব এরা চুরি করে নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করবে৷ এ কাজটা করে এরা কি মজা পায় কে জানে!

আকামা ইউজার

ফেসবুকে আসা মানেই সময় নষ্ট করা তবুও আমরা কত কারণেই আসি কিন্তু এরা পুরোটাই আকামা ইউজার৷ সারাদিন ফটো আপলোড করতে থাকে এরা৷ অন্যের টাইমলাইনে গিয়ে কমেন্ট করে ‘ডিপি রেটিং ৮/১০’ যত ক্রাশ আর সেলফি গ্রুপ আছে এদের সেখানে পাওয়া যায়৷ সেখানে নাকি এরা ফটো প্রতিযোগিতা করে৷

তেলের ব্যবসায়ী

এদের কাছে যত তেল আছে স্বয়ং সৌদি আরবেরও এতো তেল নেই৷ এরা সবার পোস্টেই কমেন্ট করবে ভাই আপনি সেরা বা নরমাল হাসির পোস্টেও কমেন্ট করবে ‘হাসতে হাসতে মইরা গেলাম’ এরা সাধারণত মানুষের লেখার উপর নিচ থেকে কপি করে নিজের মতন লিখে সেটা ফেসবুকে চালায়৷

মধ্যমপন্থী ইউজার

এদের সাথে তিন এবং ছয় নাম্বার ইউজারদের প্রায় মিল আছে তবে এরা দেখে দেখে পোস্ট পড়ে সেখানে কমেন্ট করে৷ নিজের সাধ্যমত এরা ভালো লেখা দেওয়ার চেষ্টা করে অযথা সব পোস্টে লাইক কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকে৷

পড়ুয়া ইউজার

শুনতে হাস্যকর হলেও সত্য যে কিছু মানুষ ফেসবুকে আসেই কেবল নিউজ পড়তে৷ এরা অমুক পেজের ভিডিও, তমুক পেজের লিংক দেখে পড়ে তারপর এরাই সমাজে বাকিসব তথ্য ভাইরাল করে বেড়ায়৷

পরোপকারী ইউজার

এরা মূলত মানুষের হেল্প করতেই ফেসবুক ইউজ করে৷ রক্ত যোগাড় করা থেকে শুরু করে গরীবদের সাহায্য করা, খাবার যোগাড় করে দেওয়া সব ধরণের হেল্প এরা করার চেষ্টা করে থাকে৷ আমার চোখে একাই খাঁটি ইউজার৷

কুটুম ইউজার

এদের আইডি সবসময়ই বন্ধ থাকে৷ তারপর কয়েকমাস বা বছর পর এরা এসে পোস্ট দিবে ‘কেমন আছ বন্ধুরা? তোমরা আমাকে ভুলেই গেলা৷’ বা ‘অনেক দিন পর ফেইসবুকে আসলাম কে কে মনে রাখছো?’

লুচ্চা ইউজার

যারা ফেসবুকে আসেই কেবল মেয়েদের রিকোয়েস্ট দিতে আর তাদের খারাপ মেসেজ দিতে৷

ইস্যু ইউজার

যারা ইস্যু পেলেই সেটাকে ত্যানা ত্যানা করে ফেলে৷ আমার মনে হয় এরা হা করে বসে থাকে কখন নতুন কোনো ইস্যু শুরু হবে তারপর তারা সেটার বাপ মায়ের নাম ভুলিয়ে দেবে৷

ক্যাচাল ইউজার

এরা একটা না একটা ক্যাচাল সবসময় লাগিয়েই রাখে৷ পাবলিককে হেয় করে পোস্ট দেওয়ার মতন কাজগুলো করে থাকে৷ মানুষের আইডি রিপোর্টও এরা মেরে থাকে যার জন্যে এদের আবার আলাদা গ্রুপও থাকে৷

খেয়াল খুশি ইউজার

এদের মনে যা আসে এরা সেটাই মূলত পোস্ট করে থাকে৷ তবে এদের একটা রোগ হলো দুনিয়ার যত পেজ আছে এরা শেয়ার করবেই৷ এদের বেশিরভাগই অবশ্য হয় মেয়েরা৷

উপদেশ দেওয়া ইউজার

এদের মোটিভেশনাল স্পিকারও বলতে পারেন৷ এরা মানুষকে সবসময়ই উপদেশ দিয়ে বেড়াবে৷ নিজে কিছু একটা করতে পারলে সারা ফেইসবুকে সেটাকে ঢাক ঢোল পিটিয়ে বেড়াবে তারপর ফেইসবুকে চাপা মেরে রস আর মশলা মিক্স করে পোস্ট করবে৷ এভাবে এটা করবেন, ওভাবে প্রেম করবেন, এমনে করলে তেমনে হবে৷

কনফিউজড ক্যাটাগরি

উপরের সব ক্যাটাগরি থাকার পরেও এরা এখানে বলবে আমি কোন ক্যাটাগরি? আসলে মুলত এরা কনফিউজড ক্যাটাগরির পাবলিক৷ যারা সবখানেই সবকিছুতেই কনফিউজড থাকে৷

এবার তাহলে নিজেই দেখে নিন কে আসলে কোন ক্যাটাগরির ইউজার৷

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।