ফেসবুক ওয়াচ: ইউটিউব সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার

ফেসবুক আনতে যাচ্ছে ‘ওয়াচট্যাব’ নামক নতুন একটি ফিচার, যা এক্সক্লুসিভ সব ভিডিও কনটেন্ট আলাদা একটি ট্যাবে দেখাবে। ফলে হয়তো খুব দ্রুতই ইউটিউবের বর্তমান জনপ্রিয়তায় ভাগ বসাতে যাচ্ছে ফেসবুক। সম্প্রতি ফেসবুকের সকল লাইভ এবং রেকর্ডকৃত সকল ভিডিও আলাদা এই ফিচারের মাধ্যমে দেখা যাওয়ার কথা, যা এর টিভি অ্যাপসহ যেকোনো প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রযোজ্য। প্রাথমিকভাবে এই ফিচারটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত কিছু গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা যেকোনো পেইজ কিংবা প্রোফাইল থেকে শেয়ারকৃত ভিডিও কনটেন্ট তাঁদের নিউজফিডেই দেখতে পেতো। কিন্তু ফেসবুক ব্যবহারকারীদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়া এবং উত্তরোত্তর ভিডিও কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন একটি ফিচার উন্মুক্ত করতে, যা ভিডিও কনটেন্টকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে সক্ষম হবে। ডিরেক্টর অফ প্রোডাক্ট ড্যানিয়েল ড্যাংকার একটি ব্লগ পোস্টে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ফেসবুকের বর্তমান অভিজ্ঞতা অধিকাংশের জন্যই দারুণ হলেও নিউজফিডে ভিডিও-র আধিক্যের চেয়ে বরং ভিডিও কনটেন্টের জন্য আলাদা একটি জায়গাও তাঁরা চায়।’

কিন্তু যেটা সবাই ইউটিউব, ডেইলিমোশন বা ভিমিও’র মাধ্যমেই মানুষ পেতে পারে, সেই একই কাজের জন্য মানুষ ফেসবুকে কেন আসবে? তাছাড়া ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রয়োজনীয়তা সকলের কাছে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ইতোমধ্যেই তাঁরা অরিজিনাল ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা করছে। ফেসবুক এই দিকটাতে আসতে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

ইউটিউব ইতোমধ্যেই নানা অরিজিনাল সিরিজ এবং মুভি কনটেন্টের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের একটি বিশেষ উৎস হয়ে উঠেছে, যাকে ‘ইউটিউব রেড’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। স্ন্যাপচ্যাটও এমন প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তবে এই মুহূর্তে তাঁরা বরং তাঁদের ‘ডিসকভার’ অংশটির ভিডিও কনটেন্টের জন্য বিভিন্ন টিভি স্টুডিও’র সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষরের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ফেসবুক মূলত ফোকাস করবে পর্বভিত্তিক ভিডিও কনটেন্টে, যা প্রয়োজনমতো গ্রাহকরা শো-কেস করতে পারবেন, এমনকি নিজের মতো করে ওয়াচলিস্ট বানাতেও পারবেন।

ড্যাংকার তাঁর ব্লগে বলেন, ‘ফেসবুক লাইভ থেকে আমরা জেনেছি, মানুষের কমেন্ট এবং রিঅ্যাকশন ভিডিওটি দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও চিত্তাকর্ষক করে তুলতে পারে।’ এশিয়ান বিভিন্ন দেশে এই ফিচারটি বেশ সাড়া ফেলতে যাচ্ছে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বলা বাহুল্য, ফেসবুক লাইভে ‘থাম্বস-আপ’ বা ‘লাভ’ রিঅ্যাকশনগুলো ভেসে বেড়ানোর ফিচারটি উপস্থাপনের পূর্বেই এশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ কয়েক বছর আগেই এই ফিচারটি চালু করেছিলো। তবে ফেসবুকের হাত ধরেই যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পায় এই ফিচারটি।

নতুন এই ওয়াচট্যাব ফিচারের জন্য ফেসবুক তাই জনপ্রিয় এবং অভিজ্ঞ ইউটিউবারদের মতো ভিডিও তৈরিকারকদের সহায়তা কামনা করছে। ‘টেকক্রাঞ্চ’ নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ওয়েবসাইটকে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এমন পাবলিশার বা ক্রিয়েটরদের খোঁজে আছি, যারা ভবিষ্যতে দারুণ কিছু শো আমাদেরকে উপহার দিতে পারবেন। আশা করছি, যেদিন এই ফিচার বাণিজ্যিকভাবে শুরু করবো আমরা, অন্তত শ’খানেক ভিডিও সেখানে থাকবে; কে জানে, হয়তো হাজারখানেকও থাকতে পারে!’

তবে ফেসবুক এক্সক্লুসিভ পাবলিশার বা ক্রিয়েটরদের খোঁজ পাওয়ার আগেই ইতোমধ্যেই অনেকেই তাঁদের তৈরি ভিডিও কনটেন্ট স্বতঃস্ফুর্তভাবেই শেয়ার করছেন ফেসবুকে। ‘নাস ডেইলি’ নামক একজন প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার, যার মূল নাম ছিলো নাসের ইয়াশন, ইতোমধ্যেই এক মিনিটের ভিডিও প্রতিদিন পোস্ট করতে শুরু করেছেন।

‘ফেসবুক ওয়াচ’ বেশ কিছু সুবিধাও দিচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের –

১. ফেসবুক ভিডিও’র সাথে টেক্সট যুক্ত করার স্বাধীনতা দিচ্ছে, যা ইউটিউবে সম্ভব নয়।

২. ‘অটোপ্লে’ ফিচার, যা ডিজিটাল মার্কেটারদের আরও আকৃষ্ট করবে।

৩. সম্প্রতি ফেসবুক ‘কল-টু-অ্যাকশন’ নামক নতুন ফিচার উন্মুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং আরও মাহাত্ম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নতুন এই ওয়াচট্যাব ফিচারে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিজ্ঞাপনের জন্য ৫৫ শতাংশ রেভিনিউ পাবেন এবং সেই বিজ্ঞাপনটি ভিডিওর ঠিক কোথায় বসাবেন, তা ঠিক করার স্বাধীনতা পাবেন। এই ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ফিচারের মাধ্যমে ফেসবুক তাঁদের বিশালত্বকে নিয়ে যেতে চলেছে অন্য মাত্রায়, যাতে করে হয়তো ভবিষ্যৎ ফেসবুকাররা বিখ্যাত টেলিভিশন সেলেব্রিটিও হয়ে যেতে পারেন। ওহ হ্যা, এই ওয়াচট্যাবের কন্ট্রিবিউটরদেরকে গালভরা একটি নাম ধরে ডাকা হবে, ‘দ্য ফেসবুকার’!

মার্ক জাকারবার্গ একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আশা করি, ‘ওয়াচ’ নানারকম শো-য়ের সাথে সকলকে যুক্ত রাখতে পারবে – সত্যিকারের কোনো ঘটনা থেকে শুরু করে কমেডি কিংবা খেলার সরাসরি সম্প্রচার, সবকিছু। কিছু হয়তো পেশাদাররাও তৈরি করবেন, তেমনি পাশাপাশি থাকবে আমাদের আশেপাশের সাধারণ মানুষের তৈরি ভিডিওগুলোও!’

সিজিটিএন অবলম্বনে  

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।