ফেলুদা হতে পারতেন অমিতাভ

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা সব্যসাচী চক্রবর্তী – বাঙালি ফেলুদা বলতে এই দু’জনকেই বোঝেন। তবে, সম্প্রতি এই তালিকায় যোগ হয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও।

তবে, খুব কম লোকই এটা জানেন যে ফেলুদার জন্য বিবেচিত হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চনও। খোদ সত্যজিৎ রায়ই বিগ ‘বি’-কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেটা আশির দশকের কথা।

তবে, ব্যাটে বলে হয়নি। লম্বা সময় কাজ করতে অপারগ ছিলেন অমিতাভ। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় বলেন, ‘ওটা আশির দশকের মাঝামাফি সময়ের কথা। বাবা খুব করে চাইছিলেন অমিতাভ বচ্চন যেন ফেলুদার রোলটা করে। ওর সাথে আমরা এই ব্যাপারে আলাপও করেছিলাম। লম্বা সময়ের জন্য ওর শিডিউল দরকার ছিল। ওসময় তো অমিতাভ খুব ব্যস্ত, আর আমাদের লজিস্টিক সাপোর্টও আজকের দিনের মত ছিল না।’

কিস্সা কাঠমান্ডু কা’র একটি দৃশ্য

তাই, ফেলুদা হিসেবে বিগ ‘বি’ কতটা জমজমাট হতেন? – এই প্রশ্নেরও জবাব পাওয়া যায়নি। ১৯৯২ সালে জীবন নদীর ওপারে চলে যান সত্য বাবু। কে জানে, বেঁচে থাকলে হয়তো ঠিকই একদিন অমিতাভকে নিয়ে ফেলুদা বানিয়ে ফেলতেন।

বলিউড তারকাদের মধ্যেও অবশ্য একজন ‘ফেলুদা’ হয়েছিলেন। তিনি হলেন  শশী কাপুর। মূলত অমিতাভ বচ্চনের ‘বদলী’ হিসেবেই তিনি এসেছিলেন। যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে অবলম্বনে ছোট পর্দার জন্য সত্য বাবুর জীবদ্দশাতেই তার ছেলে সন্দীপ রায় বানিয়েছিলেন ‘কিস্সা কাটমান্ডুকা’। হিন্দি ভাষায় বলেই হিন্দিভাষী নায়কের দরকার ছিল।

সেটা ১৯৮৬ সালের কথা। মূলত ১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ নির্মিত একমাত্র হিন্দি সিনেমা সতরঞ্জ কা খিলাড়িতে এই অভিনেতার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েই তাকে নেওয়া হয়েছিল। ভারতের জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল দূরদর্শনে সেটা প্রচারিতও হয়েছিল।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।