ফেক আইডি || রম্য গল্প

আইডিটা রবিন খুলেছিল দিন পনেরো আগে। কাজে লাগানোর সময় এসেছে এবার। প্রোফাইল পিকচার কি দিবে ভাবতে ভাবতে নিজের ছবিকেই এডিট করল সে, এমন এডিট করলো যেন তাকে চেনাই যায় না, অথচ দারুণ সুপুরুষ লাগছে রবিনকে। সেটিই দিয়ে দিল প্রোফাইলে। অনেক ভেবে সুন্দর একটি পুরুষালি নাম দিল, রাফাতুর রহমান।

কাজিন রিলেশনে দিয়ে দিল নিজেকে। উদ্দেশ্য আর কিছুই না, ফেক আইডি দিয়ে নিজের নামে চাপাবাজি করে করে ফেসবুকে নতুন ক্রাশ রিয়ার কাছে নিজের ইমপ্রেশনস একটু বাড়িয়ে নেয়া। রিয়া ডাকসাইটে সুন্দরী, প্রচুর ফলোয়ার তাঁর, প্রতিটি আপলোডেড ছবিতেই লাইক-কমেন্টের হিড়িক পড়ে, ছেলেদের যেন কমেন্টেই লালা গড়াতে থাকে তাকে দেখে।

বেশকিছুদিন ঝুলার পর রিয়া ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পরই রবিন রীতিমত লাফাচ্ছে, কিন্তু নক দেয়ার মত সাহস সঞ্চয় করতে পারছেনা। আসলে ছোটবেলা থেকেই লাজুক স্বভাবের রবিনের নিজের পক্ষে যথেষ্ট কষ্টকর, রিয়াকে ইমপ্রেস করে করে পছন্দ করার কথা, তাই সে বলবে তাঁর সুদর্শন ‘ভার্চুয়াল বড়ভাই’ কে দিয়ে।

ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালো, খুব দ্রুত এক্সেপ্ট হয়ে গেল। রবিন নক করলো সাথে সাথে। হাইহ্যালো করতে করতে বেশ ভালই কথাবার্তা বলতে লাগল।

বলতে বলতেই রিয়া রাফাতুরের সুদর্শন চেহারার খুব প্রশংসা করলো।

রবিন এবার যেন আকাশে ওড়া শুরু করবে!

কিছুদিন কথা বলতে বলতে রিয়া আর রবিন বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলো।

কিছুদিন ধরে রাফাতুর খুব বেশি রবিনের কথা তুলছে, খটকা লাগল রিয়ার।

বেশ স্মার্ট এই ছেলেটিকে সেতো পছন্দই করে ফেলেছে। এই ছেলে শুধু দেখতে ভাল তা না, কথাবার্তা কত সুন্দর। অথচ রবিন যেন কথাই বলতে জানেনা। তবে কেন সে অন্যছেলের কথা বলছে বারবার?

রিয়া কড়া ঝাড়ি দিল রাফাতুরকে, রাফাতুর স্বভাবসুলভ হাসির ইমো দিয়ে ঠান্ডা করলো রিয়াকে।

রিয়া দেখা করার কথা যতই বলে, রবিন ততই পিছায়। আচ্ছা রিয়া কি ধরে ফেলেছে?

সত্যিটা কি বলে দিবে?

রবিনের চেহারা না হয় ভাল নয়, কিন্তু এতদিন কথা বলে মানুষ রবিনটাকে তো চেনা উচিত রিয়ার। অনেক ভেবেচিন্তে দেখা করার কথা চিন্তা করলো রবিন। জায়গাও সেট হলো, কাছেই একটি রেস্তোরাঁ।

সেদিন কিছুটা মেঘলা দিন। রবিন সকালসকাল গোসল করে ফিটফাট হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। রিয়াকে বলার জন্য ঠিক করা কথাগুলো যতবার প্র্যাকটিস করলো, এতবার জব ইন্টার্ভিউর জন্য চেষ্টা করলে রবিনের বেকার থাকতে হত না।

রেস্টুরেন্টে ঢুকল। ঘড়িতে বাজে সকাল ১১.২৫। রিয়ার আসার কথা ১১টায়। রিয়া খুব পাংচুয়াল মেয়ে, দেরী হওয়ায় কি রাগ করে চলে গেল? ঘামতে লাগল রবিন।

আরো ৩০মিনিট অপেক্ষা করে আর সহ্য হলো না।

রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলো, রিয়া নামে কেউ এসেছে কিনা।

ম্যানেজার বলল, সে সকাল ১১টা নাগাদ একজন ভদ্রলোক আসামাত্র তারসাথে কোথায় যেন চলে গেছেন।

বুকটা ধক করে উঠল রবিনের। রিয়া এভাবে ধোঁকা দিল?

কাঁপাকাঁপা গলায় জানতে চাইলো, ‘ছেলেটাকে দেখেছেন?’

‘হ্যাঁ স্যার, ঠিক আপনার মত লম্বা, আপনার মতই ফেসকাটিং, তবে মুখে চাপদাড়ি আছে, আর গায়ের রঙ চাপাফরসা!’

শুনে মাথা ঘুরে উঠলো রবিনের, এই ব্যাটা কি বলছে! ও মনেমনে যা ভাবছে, এও কি সম্ভব?

ভাবনায় ছেদ পড়লো ম্যানেজারের কথায়, ‘স্যার উনি নাম সই করে গেছেন, এই দেখুন’,

রবিন বিষ্ফোরিত চোখে দেখল, ঠিক ওরই হাতের লেখায় সাইনটি করা- ‘মিঃ রাফাতুর রহমান’!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।