পড়ুয়া থেকে ‘পরিণত’ পরিনীতি

২০১১ সালের কথা। মুক্তি পেল রণবীর সিংয়ের দ্বিতীয় সিনেমা ‘লেডিস ভার্সেস রিকি ব্যাল’। আনুশকা শর্মার সাথে সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছিলেন পরিনীতি চোপড়া নামের নতুন এক মুখ। জানা গেল তিনি বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কাজিন।

সেবার ফিল্ম ফেয়ারে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন, সেরা সহকারী অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন। আইফা, অপ্সরা, স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জুটেছিল। কিন্তু কোনো ভাবেই যেন নামের পাশ থেকে ‘প্রিয়াঙ্কার কাজিন’ ট্যাগটা মুছে যাওয়ার নাম নিচ্ছিলো না।

কিন্তু, সব পাল্টে গেল ২০১২ সালে এসে। সেবার মুক্তি পেল বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুরের প্রথম সিনেমা ‘ইশাকজাদে’। সেখানে পরিনীতি এতটাই মুগ্ধ করলেন যে পেয়ে গেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ‘শুধ দেশি রোম্যান্স’ (২০১৩), ‘হাসি তো ফাসি’ (২০১৪), ‘দাওয়াত-ই-ইশক’ (২০১৪), ‘কিল দিল’ (২০১৪) করে তিনি প্রশংসিত হন।

এরপর ছোট্ট একটা বিরতি দেন। গত বছর ঢিসুম সিনেমায় ছোট একটা চরিত্রে হাজির হন। করেন একটা আইটেম সং। সেখানে বোঝা যায়, বছর দুয়েক নিজেকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজাতে কতটা পরিশ্রম করেছেন পরিনীতি।

২০১৭ সালে এসেছে তার দু’টি সিনেমা। আয়ুষ্মান খোঁড়ানার সাথে তার ‘মেরি পেয়ারি বিন্দু’ মোটামুটি ব্যবসা করার পর সম্প্রতি এসেছেন বড় এক ধামাকা নিয়ে। গোলমাল সিরিজের পঞ্চম সিনেমা ‘গোলমাল এগেইন’-এ তিনি আছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। আর বলাই বাহুল্য, বক্স অফিসের রিপোর্ট বলছে এই সিনেমা চলতি বছরের তো বটেই ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল ব্ল্যাক কমেডি সিনেমা।

অথচ, জীবনের শুরুতে পরিনীতি হয়তো ভাবতেও পারেননি একটা সময়ে বলিউডে এই অবস্থানে চলে আসবেন তিনি। ১৯৮৮ সালের ২২ অক্টোবর তার জন্ম। শিশুবেলা থেকে তিনি ছিলেন খুবই পড়ুয়া। দ্বাদশ শ্রেণিতে তিনি রাষ্ট্রপতির পদকও পেয়েছিলেন। একাই তিনটা ভিন্ন বিষয়ে (বিজনেস, ফিন্যান্স ও ইকোনমিক্স) তিনি স্নাতক করেছেন। উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুলে। পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছিলেন ২০০৯ সালে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবেও কাজ করেন পরিনীতি। ওখানকার ক্যাটারিং সার্ভিসের টিম লিডার হিসেবে পার্টটাইম চাকরী করতেনি তিনি। অভিনয় নয়, পরিনীতির বেশি ঝোঁক ছিল গান বাজনায়। এমনকি মিউজিকে তার পড়াশোনাও আছে।

কিন্তু, জীবন পাল্টে যায় ২০০৯ সালে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সাথে যশরাজ ফিল্মসের একটা পার্টিতে গিয়েছিলেন। সেখানে পরিচয় হয়েছিল তাদের জনসংযোগ বিভাগের সাথে। একটা চাকরিও হয়ে যায় পিআর কনসালটেন্ট হিসেবে। ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিকে বোঝার জন্য এই চাকরিটা ছিল বেশ যুৎসই। পরবর্তীতে মানিশ শর্মা তার ব্যাপারে অনুরোধ করেন আদিত্য চোপড়া। ম্যানেজমেন্টের একজনকে এনে নায়িকা বানানোর আইডিয়াটা পছন্দ হয়নি যশরাজ ফিল্মসের ভাইস প্রেসিডেন্টের।

তখন চাকরি ছেড়ে অভিনয়ের স্কুলে যোগ দেওয়ার কথা ভাবতে থাকেন পরিনীতি। পরিচালক মানিশ তখন মজা করেই একটা স্ক্রিন টেস্ট করেন পরিনীতির। আর সেটা পছন্দ হয় আদিত্যর। বাকি ইতিহাস টা তো সবারই জানা!

এর মধ্যে আরো কিছু কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। তার গান গাইতে পারার প্রতিভার কথা তো আগেই বলা হল। তার সুবাদে মেরি পেয়ারি বিন্দু ও গোলমাল এগেইন সিনেমায় প্লে-ব্যাকও করেছেন। তিনিই বলিউডের একমাত্র অভিনেত্রী যিনি একই সাথে কোক ও পেপসির বিজ্ঞাপনে হাজির হয়েছেন।

জুতো নিয়ে এই অভিনেত্রির আদিখ্যেতা আছে। ব্র্যান্ডের জুতো পায়ে দেওয়ার চেয়ে ওই দামে ১০টা নতুন জুতো কিনতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। সদ্যই ৩০ বছর বয়সে পা দেওয়া এই অভিনেত্রী এখনো বিমান যখন মাটিতে অবতরণ করে তখন ভয়ে কাঁপতে থাকেন।

এখন এসে বলা যায়, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কাজিন ট্যাগলাইনটা ঝেরে ফেলতে পেরেছেন পরিনীতি। মাত্র সাত বছরের ক্যারিয়ারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ ২২ টি পুরস্কার জিতে যাওয়া তো আর চাট্টিখানি ব্যাপার নয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।