পড়ন্ত বেলার স্মৃতি || ছোট গল্প

১.

‘বা!, চশমায় তো বেশ মানিয়েছে আপনাকে!’

পেছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে কথাটা শুনে ঘুরে তাকালো নির্ঝর। সামনে যে মানুষটা দাঁড়িয়ে আছে তাকে চিনতে ভুল করার মতন বৃদ্ধ এখনও হয়নি নির্ঝর। আর যাইহোক, এমন খোঁচা মেরে কথা বলাটা কেবল একজনের স্বভাবই হতে পারে। কিন্তু, সেই চেহারা আর এই চেহারার মাঝে যে ঢের তফাৎ। ঠোঁটের কোণায় সেই প্রশস্ত হাসি নেই, চোখে রোদ ঝিলমিল ভাব নেই। তবে কি ভুল ভাবছে!

‘এভাবে কি দেখছেন, জনাব! ৩০ বছর আগে যে চেহারায় কিছুই খুঁজে পাননি, আজ আর পাবেন কি করে!’- হেসে বলল  মধ্যবয়স্কা।

‘নিরা!’ – বেশ বড় একটা শ্বাসের সাথে নামটা বলল  নির্ঝর।

‘ওরে বাবা! এখনও নামটা মনে আছে দেখি। জীবন আবার নতুন করে ধন্য হল’- বলল  নিরা।

‘তুমি এখনো অমন খোঁচা মেরেই কথা বল! বদলাওনি!’- ঈষৎ হেসে বলল  নির্ঝর।

‘স্বভাব কি আর অত সহজে ছাড়া যায়! এ জগতের মানুষগুলো স্বার্থপর হয়ে দূরে গেলেও স্বভাব বড়ই আপন হয়ে কাছে রয়ে যায়’- বলে নীচের দিকে তাকালো নিরা।

মেয়েটা এখনও আগের মতনই আবেগি রয়ে গেছে। নির্ঝরের চোখে ঠিকই নিরার চোখের টলমল ভাবটা ধরা পড়ে গেলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই বলল, ‘রঙ চা?’

নিরা হেসে বলল, ‘চলুন, ওখানে বসি’।

ছোট্ট একটা বেঞ্চে পাশাপাশি বসে আছে নির্ঝর আর নিরা। অথচ ৩০ বছর আগে এমন একটা মুহূর্ত পাওয়ার জন্য আকুল হয়েছিলো নিরা। সময়টা জীবনে আসলো ঠিকই তবে ঠিক সময়ে নয়। যেখানে তারা দুজন বসে আছেন এটা ঠিক পার্ক নয় তবে জনমানবের খানিকটা কমতি বলা যেতে পারে এখানে। একটা কলেজের পাশের রাস্তার ধারে অভিভাবকদের বিশ্রাম নেওয়ার যায়গা বলা যায়।

আবহাওয়াটা আজ বেশ গুমোট হয়ে আছে। নির্ঝর আর নিরার মাঝেও আবহাওয়াটাও তাই। নির্ঝর নিরাকে দেখছে। ৩০ বছর আগেও যেমন করে আশেপাশের মানুষের চোখ এড়িয়ে দেখতো অনেকটা ওভাবেই। বয়সটা পঞ্চাশ পেরিয়েছে দুজনেরই। নির্ঝর তো দু এক বছর পর ষাট এর ঘরের মানুষ হবে।

নিরাকে দেখছে নির্ঝর। এখন আর বোধহয় চোখে কাজল দেয় না। তবে চোখের নীচে কালো দাগ পড়েছে বেশ ভালোই। ঠোঁটগুলো সেই আগের মতনই রুক্ষ। হাতে দুটো লাল কাঁচের চুড়িতে চোখ আঁটকে গেলো নির্ঝরের। খুব ইচ্ছা করছে জিজ্ঞেস করতে, ‘এগুলো কি আমার দেয়া চুড়িই!’। জিজ্ঞেস করতে গিয়েও করলোনা। ৩০ বছর পর চুড়ি তাও আবার কাঁচের, সেটার উপর অধিকার দেখাবে! কি বোকামি! – নিজে নিজে ভাবছে নির্ঝর।

নির্ঝরকে দেখছে নিরা। কপালের ভাঁজগুলো একটু স্পষ্ট হয়েছে। মনে পড়ে গেলো মা এই কপালে ভাঁজওয়ালা ছবি দেখে বলেছিলো, ‘যাদের কপালে ভাঁজ থাকে তারা খুব কিপটা হয়’। নাকের ডগায় নতুন বন্ধু হয়েছে চশমাটা। তবে চোখের সৌন্দর্য সে মোটেও কমাতে পারেনি। বরং বেশ কিছুটা সৌন্দর্য বাড়িয়েই দিয়েছে। পাতলা ঠোঁটজোড়ার কোণায় বাঁকানো হাসিটার একটু কমতি ঘটেছে বোধহয়। আর ঐ তিলটা…

‘কি হল কি! সারাদিন তো বকবক করতে খালি! এখন এত চুপ কেন হ্যা’ – জড়তা ভেঙে বলল  নির্ঝর।

‘না মানে, আসলে… নাহ কিছু না’- ঘোর থেকে বেরিয়ে এলো নিরা। যেন গভীর মনোযোগে প্রিয় তুলি প্রিয় মানুষটার ছবি আঁকছিলেন মনে মনে।

‘তারপর কেমন আছো? স্বামী সংসার কেমন চলছে?’- বলল  নির্ঝর।

‘স্বামী! সংসার! হাহা, দারুণ চলছে। আপনার কি অবস্থা?’ – পাল্টা প্রশ্ন নিরার।

‘আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালোই। পাশে যে ছেলেটি ছিলো সে কি তোমার ছেলে? এই কলেজে ভর্তি করাবে নাকি?’- আবারো প্রশ্ন করল নির্ঝর।

নিরা খুব নীচু স্বরে বলল  হুম।

গল্পের প্রেক্ষাপটটা এমনটা হবার কথা ছিলোনা। হতে পারতো নিরা আর নির্ঝর সুখী দম্পতি। অন্তত নিরার তেমনটা চাওয়া ছিলো। কোন এক অজানা কারনে কিছুই হল না। কেন যে হলনা, সেই কারনটা আজও অজানা নিরার কাছে।

‘ফুপি, তুমি এখানে? আর পুরো ক্যাম্পাস তোমাকে খুঁজছি! চল চল!’- ১৭/১৮ বছরের এক তরুণ এসে বলল  নিরাকে।

‘ফুপি?!’ – অবাক হয়ে নিরার দিকে তাকাল নির্ঝর। চোখে যে প্রশ্ন তা সহজেই পড়তে পারছে নিরা।

হেসে বলল , ‘হুম ফুপি। ও আমার ছোট ভাইয়ের ছেলে। অনেক কথা হল, আজ তবে আসি। ভাগ্যে থাকলে আবার কোন একদিন হয়ত দেখা হবে’।

‘তোমার ঠিকানাটা…’- বিড়বিড় করে বলল নির্ঝর।

নিরার কানে ঠিকই পৌঁছেছে কথাটা। তবে আর এক মুহূর্তও এখানে দাঁড়ানো যাবেনা। চোখের নোনাজল এরই মাঝে খুব বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যতটা দ্রুত সম্ভব এই মানুষটার সামনে থেকে হারিয়ে যেতে হবে। নচেৎ ৩০ বছর ধরে জমিয়ে রাখা আগুনের গোলাগুলো হয়ত আগ্নেয়গিরি হয়ে যাবে যে কোন সময়।

ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। বেঞ্চের কিনারা ঘেঁষে ছোট্ট দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে আছে নির্ঝর। কেন জানি মন বলছে নিরা এখন কাঁদছে।

২.

‘ হরিদা… এই হরিদা, কোথায় তুমি? এই যে মরিচের চারাগুলোর গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমে একাকার অবস্থা, এগুলো পরিষ্কার করবে কে শুনি? আর আজকে কি বার মনে আছে? গাঁদার গাছগুলো লাগিয়েছো? পশ্চিমের ঝাড়টা এখনো পরিষ্কার করনি। কি কর তুমি সারাদিন হরিদা?’- একটানা বলে গেলো নিরা।

নিজের হাতে গড়ে তোলা এই বাগানটা নিরার সন্তানের মতন। হরিদা এই বাগানের মালী। আজ প্রায় বছর চৌদ্দ ধরে বাগানের যাবতীয় দেখভাল করছেন তিনি।

যান্ত্রিক শহর থেকে খানিকটা দূরে নিরার বসবাস। এখানে নিজের অর্থে একটা আশ্রম করেছেন। ‘স্মৃতির প্রবালদ্বীপে’ নামে। দোতলা বাড়িটার পুরোটাতে মোট ১২টি ঘর। একটিতে নিরা নিজে থাকেন, একটি অতিথির জন্য। আর বাকী দশ ঘরে অনাথ শিশু আর বৃদ্ধ বৃদ্ধা। নিরাকে সাহায্য করার জন্য অবশ্য আরো ৪ জন আছেন। বাগানের মালি হরিদা, ম্যানেজার হিসেবে শুভ আর নার্স হিসেবে তানিয়া আর নাজু।

ও হ্যা, চিলেকোঠায় একটা ঘরও আছে। তবে সে ঘরে কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ। নিরা মাঝেমধ্যে সকলের উপর দায়িত্ব ভাগ করে সে ঘরে চলে যান। আবার নিজের ইচ্ছামতন ২ বা ৩ দিন পর ফিরে আসেন নিজের ঘরে। এই ২/৩ দিনে তার সাথে কেউ কথা বলেন না। কেবল খাবারের সময় হলে নাজু গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে খাবার দিয়ে আসেন।

শুভ মানে আশ্রমের ম্যানেজারকে নিয়ে মিটিং এ বসেছেন নিরা। ২৪ বছরের এই তরুণকে বেশ স্নেহ করেন নিরা। আশ্রমের শুরুর দিকে ৮/৯ বছর বয়সী শুভকে খুঁজে পান এলাকায় বাজারের ধারে। নিজের নাম, বাবা মায়ের পরিচয় কিছুই বলতে পারেনা।  পত্রিকায় ছবি, ফেসবুকে পোষ্ট বহু কিছু করেও কারো দেখা পাননি। শেষমেশ নিজেই তার নাম দেন শুভ। নিজের সন্তানের মতন বড় করে তোলেন। ভালোবাসার মর্যাদাও রাখছে শুভ। নিরাকে নিরামা সম্বোধন করে সে। রাজধানীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বর্ষে পড়ে বেশ ভালো রেজাল্ট নিয়ে। আর একই সাথে আশ্রমের দেখাশোনাও।

‘শুভ, জোবাইদা খালার জন্য কিছু জামা কাপড় আর খাবার আনাতে বলেছিলাম, আনিয়েছিস?’ – জিজ্ঞেস করল নিরা।

‘জি নিরামা। আনানো হয়েছে। ১ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। ৮২০টাকা খরচ হয়েছে। আর এই যে ১৮০ টাকা। রহিম কাকুকে ডাক্তার দেখাতে হবে। উনার কাশিটা গত কয়েকদিন বেড়েছে। আর সুরমা এখন হাটতে শুরু করেছে। পলিটাও হামাগুড়ি দিচ্ছে আজকাল’।

‘ঠিক আছে, বাবা। যা ভালো মনে করিস কর। কত টাকা লাগবে তার একটা খসড়া হিসেব করে তানিয়াকে দিয়ে আমার রুমে পাঠিয়ে দিস। আর দেখিস বাকীরা সবাই ঠিকঠাক আছে কিনা। আর, নিজের পড়াটা কিন্তু পড়িস’- বলল  নিরা।

‘হ্যা নিরামা। ইয়ে মানে একটা কথা বলার ছিলো’- মাথা চুলকে বলল শুভ।

‘কি কথা বল! এত হেঁয়ালি কেন?’- জানতে চাইল নিরা।

‘একজন অধ্যাপক মাসখানেক আমাদের আশ্রমে থাকতে চান। আমি বেশ অনেকবার মানা করেছি। তারপরও গত ২ মাসে এই নিয়ে ৮ বার ইমেইল করলেন’- ভয়ে ভয়ে বলল শুভ।

‘ফাজলামি নাকি! আমার আশ্রম কোন বড়লোক পোষার জায়গা না। অধ্যাপক এখানে এসে কি করবেন? বই লিখবেন? নাকি এখান থেকে ঘুরে গিয়ে পত্রিকার পাতায় ২ কলাম লেখা ছাপাবেন?’ তুই ভালো করেই জানিস, এসব আমি একদম সহ্য করতে পারিনা। বহু কাগজের রিপোর্টার, সাংবাদিককে দূর করে দিয়েছি। এ জায়গা কেবল তাদের যাদের কেউ নেই। এমনকি বড়লোক সন্তানের বৃদ্ধ মা,বাবাকেও আমি গ্রহণ করিনা এই কারনেই’- রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল  নিরা।

‘নিরামা, রেগে যাবেন না, প্লিজ। আমি সব জানি। উনি কিছুই চাননা। কেবল লিখেছেন, ‘যা দেখা যায় তার অনেক কিছুই দৃশ্যমান নয়। সুগঠিত জীবন অনেক সময় ভাঙনে ভরপুর হতে পারে। কটা দিন জীবনটা কাছ থেকে দেখতে চাই’- বলল শুভ।

নিরার ঠিক কি হল কে জানে। যেন কেউ আগুনে পানি ঢেলে দিলো। খুব শান্ত হয়ে সোফায় বসে গেলো।

‘ঠিক আছে শুভ, তুই তোর অধ্যাপককে আসতে বল। আর আমি চিলেকোঠার ঘরে যাচ্ছি। আমাকে দুটা দিন জালাইস না বাবা’- বলে উঠে গেল নিরা।

চিলেকোঠার এই ঘরটা বড্ড আপন নিরার। রঙ তুলি, কিছু স্মৃতি যা একান্তই নিজের তাতে বুঁদ হয়ে থাকা যায় এই ঘরটাতে আসলে। জীবনটাকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া যায় এই ঘরটাতে আসলে।

৩.

‘কিরে শুভ, তোর সেই অধ্যাপক আর আসলেন না? নাকি শখ শেষ? হাহাহা, বেশ চিনি এসব মানুষকে। আশ্রমের নাম শুনলেই ভাবেন বিশ্রাম নেয়ার জায়গা’- বলল  নিরা।

‘নিরামা, স্যার গতকালই এসেছেন’- বলল শুভ।

‘বলিস কিরে! আমাকে জানাস নি কেন?’- জানতে চাইল নিরা।

‘ইয়ে মানে, আপনি যে চিলেকোঠার ঘরে ছিলেন তাই’- মাথা নীচু করে বলল শুভ।

‘হ্যা তাও ঠিক, কিন্তু! ছি ছি, লোকটা আমাকে কি ভাববে। এখনো দেখাও করিনি। তার ঘরটা গুছিয়ে দিয়েছিস তো ঠিকমত? আর খাবার দাবার?’- জানতে চাইল নিরা।

‘সব ঠিকঠাক মতনই করেছি নিরামা। অতিথিঘরটা ঠিকমতন গুছিয়ে রেখেছিলাম। হরিকাকুকে দিয়ে ফুলদানীতে রজনীগন্ধাও রেখেছিলাম। আগের পর্দা বদলে নীল সাদা পর্দাও জানালায় দিয়েছি’- হেসে বলল শুভ।

‘বেশ করেছিস বাবা। আমি যাই তাহলে উনার সাথে দেখা করে করে আসি’- বলে অতিথিঘরের দিকে পা বাড়াল নিরা।

অতিথিঘরে এসে যাকে দেখলেন সম্ভবত তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না নিরা। খাটে বসে থাকা মানুষটাও হয়ত প্রস্তুত ছিলেন না নিরাকে দেখবে বলে!

‘আপনি এখানে!’- প্রচন্ড অবাক হয়ে বলল নিরা।

‘তুমি এখানে!’- অবাক হল নির্ঝরও।

‘এটা আমারই আশ্রম। আপনি জেনে শুনে এখানে এসেছেন তাইনা? দেখতে আমি কেমন আছি? করুণা করতে এসেছেন আমাকে?’- দাঁতে দাঁত চেপে বলল নিরা।

‘চুপ কর নিরা। আমি তোমার সম্পর্কে কিছুই জানিনা। ৩০ বছর পরে সেদিনই প্রথম দেখা আর কথা হয়েছিলো। আর এই আশ্রম সম্পর্কে শুনেছি আমার এক প্রিয় ছাত্র থেকে। তার বন্ধু শুভ। সেই সুবাদে মাস দুয়েক ধরে এখানে আসার খুব ইচ্ছা ছিলো’- বলল নির্ঝর।

‘বেশ ভালো’- ধীরে বলল নীরা।

‘কিন্তু, শুভ যে বলছিলো, এই আশ্রমের মালকিন বিয়ে করেননি! তবে কি তুমি আসলেই…’- থেমে গেল নির্ঝর।

‘আপনাকা ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, সেটা তো বহু পুরোনো কথা নির্ঝর সাহেব!’ – ফ্যাঁকাসে হেসে বলল নিরা।

‘কেন নিরা? কেন এমন করলে? তোমার পরিবার?’- প্রশ্ন করল নির্ঝর।

‘আব্বু আম্মু অনেকবার চেষ্টা করেছিলেন বিয়ে দিতে। ধমকে, বকে, বুঝিয়ে… কোন লাভ করতে পারেননি। শেষমেশ হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। প্রথমদিকে পরিস্থিতি একটু বেশিই জটিল ছিলো। অনেক কষ্টে সব সামলাতে হয়েছে। আত্মীয় স্বজনের অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছিলো। পরে সব সয়ে গিয়েছিলো। আর তারপর জীবনটা এই আশ্রমে নতুন করে’।– থামলো নিরা

‘নিরামনি, নিরামনি… দেখুন কাকে নিয়ে এসেছি!’- দরজার বাইরে থেকে বলল নাজু। কোলে ছোট্ট একটা বাচ্চা।

‘কে ও? ভেতরে নিয়ে আয়’- বলল নিরা।

‘ও আমাদের আশ্রমের নতুন সদস্য। আজ সকালে সদর হাসপাতালের নার্স কল দিয়ে জানালেন একটা মেয়ে নবাজাতক আজ দিন দশেক আছে হাসপাতালে। মা বাবা পালিয়েছে জন্মের পরই। আমি গিয়ে আর ওকে রেখে আসতে পারলাম না। কি দারুণ মিষ্টি দেখতে দেখুন নিরামনি’- আনন্দের সাথে বলল নাজু।

‘হ্যা রে, দারুণ মিষ্টি দেখতে! যা ওকে গরম জামা কাপড় পরা জলদি। আর তার আগে একটু কুসুম গরম পানিতে গোসল করিয়ে নিস’- বলল নিরা।

‘আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু নিরামনি, ওর নাম তো দেয়া হল না এখনো!’- বলল নাজু।

‘সারাজীবন তো আমিই নাম দিয়ে গেলাম। আজ নাহয় আমাদের অধ্যাপক সাহেবই নাম দিক!’- নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বলল নিরা।

‘নাম? সাইমা ইসলাম অপরাজিতা’- নিরার চোখে চোখ রেখে বলল নির্ঝর।

বুকের ভেতরে গিয়ে লাগলো নামটা। নিরা এক সময় নির্ঝরকে বলতো, ‘আমাদের মেয়ের নাম রাখবো সাইমা ইসলাম অপরাজিতা’।

সে অনেকদিন আগের কথা। অনেককাল আগের স্মৃতি। আজ এ বেলায় যা কেবল পড়ন্ত বেলার স্মৃতি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।