প্লেটো যদি বাংলাদেশে জন্মাতেন…

খুব ভাবসাব নিয়া ভাইজান দর্শন পইড়া বের হইতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেইকা। ঢাবির ৪ বছরে অনেক ললনার সাথে হৃদয় দেওয়া নেওয়া কইরা দর্শনে দর্শিত হইয়া সে কনভোকেশনে একটা ৩২ দাত হাসি দিয়া বের হইতো।

এরপর খুব আবেগের সাথে সে ‘রিপাবলিক’ লেখতো, বইমেলায় বইটার মোড়ক উন্মোচন হইতো।

সে স্টলে বইসা থাকতো অটোগ্রাফ দেওয়ার আশায়, কিন্তু একি! কেউ কেন আসে না?

কয়েকদিন পর নীলক্ষেতের ফুটপাথে হাটার সময় হঠাৎ তার কানে আসতো ফুটপাথে বসা এক হকারের সুমধুর কলরব!

‘লইয়া যান, লইয়া যান, মাত্র ২০ টাকা, ধর্ষণের (দর্শনের) এমন বই আর পাবেন না আর পাবেন না’

মলিন চিত্তে প্লেটো সাহেব বাসায় আসতে না আসতেই বউ এর চিৎকার, ‌’তোমারে না অমুক আনতে বলছিলাম! আনো নাই ক্যান?’

প্লেটো রোমান্টিসিজম ফুটিয়ে বলতে চেষ্টা করতেন, ‘ওগো! আজ পকেটে ছিলো না মানি, তাই পূরণ করতে পারিনি তোমার আবদারখানি!’

বউ অবশ্য রোমান্টিসিজমের ধার না না ধেরে সুন্দর মত গুছোনো ব্যাগ নিয়ে চলে যেতেন বাপের বাড়ি…

বিরহ শোকে কাতর প্লেটো তখন ভাবতেন, কি হবে এই জীবন রেখে? এই দর্শন পড়ে তো আজ কপালে সমাজের কাছে হওয়া ধর্ষণ ছাড়া কি ই বা আছে আমার! তখনই তার টিভিতে বেজে উঠতো সেই আগমনী গান,

‌’চাকরি পাচ্ছেন না? জীবনে হতাশা? দুর্ভাগ্যের চক্রে আছেন আটকে, জীবন যাচ্ছে নরকে, ঘাড় যাচ্ছে মটকে?

তাহলে আর দেরী নয়, আজই কিনে ফেলুন উম্পিগোর গাইড! আমাদের একটি গাইড কিনলেই নিশ্চিত বিসিএস, নিশ্চিত আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’

প্লেটো আর দেরী করতেন না, দৌড়ে যেতেন নীলক্ষেতে, কিনে নিতেন উম্পিগোর, আর চিৎকার দিয়ে বউকে ফোনে বলতেন –

‌‌’ওহে! দর্শন কে মারো গুল্লি,
আসো, উম্পিগোর পড়ে ফেল্লি,
বিসিএস ক্যাডার হয়ে খেল্লি’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।