প্রেমিকা অলওয়েজ রাইট || রম্যগল্প

নতুন নতুন প্রেম হলে, প্রেমিক সমাজের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য হলেও প্রেমিকাকে যেসব প্রশ্ন প্রতিনিয়ত করতে হয়, সেসব ট্রাডিশনাল প্রশ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম- খাইসো?

সে আমতা আমতা করে জবাব দিল – জ্বী, খাইছি।

আমি তাকে আবার প্রশ্ন করলাম – কি খাইছো?

সে ইতস্তত হয়ে মুখ বিরবির করে বললো – কিচেন ফ্রাই আর কোল্ড ড্রিংকস।

আমি বুঝতে পারলাম, নিশ্চয়ই প্রথম প্রথম প্রেমিকের সাথে কথা বলার সময় প্রেমিকাদের গলার স্বর আটকে আসে। যদিও কিছুদিন যাওয়ার পর তাদের গলার স্বর এতটাই ক্লিয়ার হয়ে যায় যে, বেঁচে থাকতেও অসহ্য লাগে!

খুব সম্ভবত নতুন প্রেমের কারনেই সে ভুল করে চিকেনকে কিচেন বলে ফেলেছে। আমি ওটা বুঝে নিয়েছি।

প্রেমিকাদের অনেক ভুলই যুগ যুগ ধরে প্রেমিকরা সহ্য করে এসেছে। প্রেমিকদের ভুল সহ্য করে যাওয়ার ক্ষমতা প্রেমিকাদের নাই।

এই যেমন এই দুটো লাইন পড়ার পর অনেক প্রেমিকাই খেকখেক করে উঠতে চেয়েও এখন আর পারবেনা। কারন, তারা বলতে চায় – সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি কম্প্রোমাইজ প্রেমিকারাই করে।

সে যাইহোক, আমি প্রেমিকার চিকেনকে কিচেন বলায় কিছুই মনে করিনি। কারণ, ম্যান ইজ মর্টাল; মানুষ মাত্রই ভুল।

মানুষ মাত্রই ভুল হওয়াকে মেনে নিয়ে আমি তাকে আবার প্রশ্ন করলাম – আম্মু বাসায় নেই?

সে জবাব দিল – হ্যা বাসায়ই আছে।

আমি জানতে চাইলাম – আম্মু কি করে এখন?

সে জবাব দিল – আম্মু চিকেনে থালা বাটি ধুইতেছে।

আমার বুকের ভেতর চিকন একটা কষ্ট বাসা বাঁধলো। প্রেমিকার প্রথমবারের ভুল মাফ করে দেওয়া গ্যালেও, দ্বিতীয় ভুলকে মাফ করা যায়না। আবার, সে যে ভুল করছে, এই কথাও তাকে বলা যায়না।

প্রেমিক হতে হলে, আপনাকে যে মিথ্যা সবার আগে সত্য বলে মেনে নিতে হবে, তা হলো – আম্পায়ার এবং প্রেমিকা অলওয়েজ রাইট। এদের দু’জনের ক্ষেত্রে একটাই ইউনিভার্সাল ট্রুথ হলো – কল ইজ কল।

যদিও নতুন নতুন প্রেম হওয়ার পর প্রেমিকাদের সাথে বিনয়ী হয়ে কথা বলতে হয়। কারন, এই শহরে টাকা গ্যালে টাকা পাওয়া যায়, প্রেমিকা একবার চলে গ্যালে আরেকটা নতুন প্রেমিকা খুঁজে পাওয়ার জন্য কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়।

কেবল একজন মেয়েই জানে, এই প্রেমিক জাত প্রেমহীনতায় কত’টা ফ্রাসট্রাটেড হয়ে থাকে। প্রেমিকদের এই ফ্রাসট্রাশন টের পেয়েছিলাম কয়েকবছর আগে মেয়ের নাম দিয়ে একটা ফেইক আইডি খুলে। আমি তো ফেইক আইডি খুলছিলাম ঠিকই, তবে আমার ইনবক্সে অনেকে জামা কাপড়ও খুলে ছবি পাঠাইতো।

সুতরাং, এই শহরে প্রেমিকা হারানোর মতো এতটা বেদনাদায়ক এবং মর্মান্তিক ঘটনা আর কিছু হতে পারেনা।

যাই হোক, সাহস করে প্রেমিকাকে প্রশ্ন করলাম – আচ্ছা, তুমি কি সবসময়ই কিচেনকে চিকেন আর চিকেনকে কিচেন বলো?

সে রাগান্বিত হয়ে জবাব দিল- না তো। এত বড় ভুল আমি কেন করবো।

আমি বললাম – নাহ মানে, একটু আগেই তো চিকেনকে কিচেন আর কিচেনকে চিকেন বললা।

সে আগুনের মতো ফুলে ফেঁপে জবাব দিল – আমি কিচেনকে কিচেনই বলেছি। আর চিকেনকেও চিকেনই বলেছি।

আমি আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করলাম – আচ্ছা তাহলে এখন বলো তো মুরগি ইংলিশ কি?

সে জবাব দিল – কিচেন।

আমি আবার প্রশ্ন করলাম – আর রান্নাঘর?

সে আত্মবিশ্বাস নিয়ে জবাব দিল – চিকেন।

আমি বললাম – দুইটাই তো ভুল হয়েছে।

সে উত্তর দিল – তোমার সাথে এই সম্পর্কটা রাখা আমার জন্য আর সম্ভব না।

আমি বোকাচোদা হয়ে প্রশ্ন করলা- মানে কি? সম্ভব না কেন?

সে কিছুক্ষন ভেবে উত্তর দিল – প্রেমিকার এতটুকু ভুল যে প্রেমিক মেনে নিতে না পেরে মুখে মুখে তর্ক করে, তার সাথে আর যাইহোক, সারাজীবন কাটানো সম্ভব না। তুমি আর কখনো আমাকে কল দিবানা এবং কোন ধরণের যোগাযোগ করারও চেষ্টা করবা না।

এই কথা বলেই সে আমার ফোন কেটে দিল। আমাদের আর কখনোই যোগাযোগ হয়নি। এভাবেই আমাদের সম্পর্কটা বিচ্ছেদে রূপ নিলো।

এখনো কিচেন খাওয়ার সময় আমি দৌড়ে চিকেনে যেয়ে তার কথা ভেবে কান্না করে ফেলি। এই শহরে, সব পাওয়া যায়! শুধু প্রেমিকা হারালে আর প্রেমিকা পাওয়া যায়না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।