প্রাপ্তির চাদরে ঢেকে যাক দেড় দশকের অপ্রাপ্তি

১.

আত্মবিশ্বাস আর নিজের করণীয় সম্পর্কে ঠিকঠাক জ্ঞান থাকলে, সীমিত সামর্থ্য দিয়েই যে বিশ্বজয়ী হওয়া যায়, তার আদর্শ উদাহারণ সাকিব আল হাসান।

‘২-০ তে জিততে চাই’ কেবল মুখের কথা নয়, মাঠে করে দেখিয়েছেন। এবং আরো একবার প্রমাণ করেছেন, তাঁকে দেখতে যতই উদাসীন মনে হোক, তিনি ক্যালকুলেশন ছাড়া কোনো কথা বলেন না। চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা যা বলে তা করে, যা বলে না তা-ও করে।

২.

মুশফিকুরের নেতৃত্বে আমরা এই নিয়ে সাতটা টেস্ট জিতলাম। টানা তিন সিরিজে তিনটা। হ্যাঁ, তাঁর ক্যাপ্টেন্সিতে মহা ঝমেলা আছে। তিনি রক্ষণাত্নক, তবে মানতে হবে তিনি এতেই সফল। আক্রমণাত্নক মানসিকতা বলে-কয়ে আনা যায় না, বিল্ড ইন থাকতে হয়। চরম বিরক্তিকর ক্যাপ্টেন্সি আমরা মিসবাহর মধ্যে দেখেছি, কুকের মধ্যে দেখেছি। এমনিকি আক্রমণাত্নক ক্যাপ্টেন বলে পরিচিত ধোনীকেও টেস্টে বিরক্তিকর ডিফেন্সিভ ক্যাপ্টেন্সি করতে দেখেছি। আজকে কামিন্সকে যেমন ছাড় দিচ্ছিলেন মুশি, তেমন ছাড় দেয়ার জন্য ধোনীও অনেকবার সমালোচিত হয়েছেন। চাইলেই মাশরাফি, ক্রনিয়ে, স্টীভ ওয়াহ, ইমরান খান হওয়া যায় না বিল্ড ইন আগ্রাসন লাগে। সেটা মুশির নেই।

তাই আমার মনে হয়, ওর সমালোচনার বদলে, আমরা বরং ওর অর্জনগুলি নিয়েই আলোচনা করি। ও ওর মতো করেই আরো সফল হোক, সেই কামনা করি।

৩.

সাব্বিরের মতো ট্যালেন্টকে দিনের পর দিন চাপের উনুনে বসিয়ে রেখে, ওকে ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। হাতুরেসিংহের নেই, বোর্ডের নেই, নির্বাচকদেরও নেই। একই সাথে মুমিনুলের সাথে এমন দিনের পর দিন, অন্যায় করার অধিকারও কারও নেই। তাঁরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের একটা সম্মান আছে। ম্যানেজমেন্টের কোনো অধিকার নেই সেই সম্মানের জায়গা নিয়ে ছেলেখেলা করবেন!

জাতীয় দল কারও ‘ইগো’ রক্ষার মাধ্যম বা হাতিয়ার নয়। পাবলিক পারস্পেকটিভ যে, বিশাল অর্থবহন করে, তা প্রমাণিত সত্য। আমাদের সোচ্চারতা হয়তো তাই কিছু হলেও ভূমিকা রাখলেও রাখতে পারে।

৪.

সাকিবের অতিমানবীয়তার আড়ালে পড়ে যাচ্ছে হয়তো, তামিমের চরম পেশাদারিত্বের দুটো ইনিংস। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে যে দুটো সত্তরোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন, তার জন্য বোধহয় কেবল হাততালি বা পিঠ চাপড়ে দেয়া যথেষ্ট নয়। একই সাথে মিরাজ-তাইজুল ও দারুণ ছিলেন। মিরাজ-সাকিবের আড়ালে তাইজুল নিভৃতে ভালোই সার্ভিস দিয়ে যাছেন। অথচ কোনো কারণে সমস্যা হলে প্রথম কোপটা তাঁর উপর দিয়েই যাবে।

৫.

সবশেষে টেস্ট জয়ের সংখ্যা দুই অঙ্ক ছোঁয়ার দিনে, সাকিব-মুশফিক-তামিম ত্রয়ীর কাছে, আরো বড় কিছুর কামনা করছি। আরো দাপট, আরো রান, আরো উইকেট… আমরা চাই আরো তৃপ্ত হই। তাদের কাছে আরো কৃতজ্ঞ হই। গত দেড় দশকের অপ্রাপ্তি সব ঢেকে যাক, আগামীর প্রাপ্তিময় দিনগুলোর চাদরে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।