প্রাচীন মিশরের অজানা-অবিশ্বাস্য জীবনধারা

কথায় কথায় আমরা প্রায়ই বলি যে আজকের এই আধুনিক যুগের যে অবস্থা, না জানি প্রাচীনকালে কি হত! আমাদের অনেকের ধারণাতেই প্রাচীনকাল মানে অদ্ভুত সব মানুষ, তাদের অপরিচিত ভাষা এবং নানারকম অদ্ভুত রীতিনীতি। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে আমাদের এই ধারণা কিন্তু সঠিক নয়।

আজকে আপনাদের প্রাচীন মিশরীয় জনগোষ্ঠীর কিছু জীবনপ্রনালীর কথা বলব,যা প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে আপনার ধারণাকে হয়তো কিছুটা বদলে দেবে।

উল্কাপিন্ড থেকে লৌহ সংগ্রহ

মিশরীয়দের প্রাচীন এক কবরে খনিজের টুকরো পাওয়া গিয়েছে,যেহেতু তারা দুই হাজার বছর আগে খনি থেকে লৌহ আহরণ করতে শিখেছিল তাহলে এই লৌহ আসল কোথা থেকে। পরে সেই কবরে প্রাপ্ত এক হায়ারোগ্লিফিকসে এই প্রশ্নের উত্তর জানা যায়,তাতে এই খনিজের টুকরোকে ‘আকাশ থেকে প্রাপ্ত খনিজ’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং সম্ভবত এই খনিজ উল্কাপিন্ড থেকে বানানো।

টুথপেস্টের আবিষ্কার

ইজিপ্সিয়ানরা যে পাঁচহাজার খ্রিস্টপূর্ব আগে থেকে পুরনো ডিমের খোসাসহ অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে টুথপেস্ট বানাতো তার যথেষ্ট প্রমাণ প্রত্নতাত্ত্বিকরা পেয়েছেন।

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার

অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কারক হিসেবে আমরা অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিংকে চিনলেও বিশ-শতকে মিশরীয়র তাদের বিভিন্ন ক্ষত’র চিকিৎসায় ছত্রাকে আক্রান্ত পাউরুটির ব্যবহার করতেন এবং এটা যথেষ্ট কাজেও দিত।

পৃথিবীর প্রথম পুলিশ

পৃথিবীর প্রথম পুলিশের দেখা যায় মিশরে, দুহাজার খ্রিস্টপূর্ব সময়ে। বিশ্বস্ত যোদ্ধাদের নিয়ে বানানো এই পুলিশদলে বাঁদর এবং কুকুরও ব্যবহার করা হত পুলিশের কাজে সাহায্যের জন্য। তবে এই পুলিশবাহিনী সাধারণ মানুষদের জন্য নয় বরং সমাজের অভিজাতদের নিরাপত্তার কাজেই শুধু নিয়োজিত ছিল।

চোখের চিকিৎসা

শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য ইজিপ্টের অধিবাসীরা নানা চোখের সমস্যায় ভুগত।এই চোখের চিকিৎসার জন্য তারা নানারকম চিকিৎসাপদ্ধতি যেমন জীবাণুনাশক ভেষজ এবং মানুষের মস্তিষ্কও ব্যবহার করত। হায়ারোগ্লিফিকসের একটি লিপিতে প্রাপ্ত চিকিৎসাপদ্ধতির কথা আপনাদের বলি – ‘মানুষের মস্তিষ্ককে নিয়ে দুই টুকরা করতে হবে এবং তার সাথে মধু মিশিয়ে সকাল বিকাল দুইবেলা চোখে দিতে হবে।’ তবে এই চিকিৎসাপদ্ধতি কতটুকু সফল সে বিষয়ে আর লেখা হয়নি কোথাও।

বিয়ার উৎপাদন

এই বিষয়ে যথাযথ প্রমাণ পাওয়া না গেলেও প্রাচীন মিশরে যেহেতু পিরামিড শ্রমিকদের চার-পাচ লিটার বিয়ার দেওয়া হত তাহলে ওরাই প্রথম বিয়ার আবিষ্কার করেছিল এবং উৎপাদন নিশ্চয়ই ভালোই ছিল।

দরজায় তালা দেওয়ার পদ্ধতি

প্রাচীন মিশরীয় লোকেদের তালা দেওয়ার পদ্ধতি সাধারণ হলেও তারা প্রায় সবাই দরজায় তালা ব্যবহার করত। তাদের দরজা ও তালা ছিল কাঠের তৈরি।

বোলিং খেলার প্রচলন

কায়রোর কাছে খ্রীষ্টপূর্ব ৩২০০ সালের একটা খেলারঘর পাওয়া গেছে। খেলাটির আইন ভিন্ন হলেও, দেখে মনে হচ্ছে এটা বর্তমানের খুব চালু খেলা ‘বোলিং’-এর প্রাচীন সংস্করণ।

জটিল শল্যচিকিৎসা

ইজিপ্সিয়ান চিকিৎসকদের জ্ঞানের সাথে মনে হয় শুধু আধুনিক যুগের চিকিৎসকদেরই তুলনা করা যায়।প্রাচীন মমিগুলোতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বিভিন্ন জটিল অপারেশন যেমন অঙ্গ-প্রতিস্থাপন, হার্টের বাইপাস সার্জারি এবং প্লাস্টিক সার্জারিরও নমুনা পেয়েছেন।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসকদের এই জ্ঞান সভ্যতার সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

Related Post

The girl who fly with her own wings

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।

ঊর্মি তনচংগ্যা

The girl who fly with her own wings