প্রথাভাঙা অভিনেতা, প্রথাভাঙা মানুষ

ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম বলিষ্ঠ অভিনেতা তিনি। নায়ক নন, তবে অনেক সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র তিনি। পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও যে সবটুকু আলো কেড়ে নেয়া যায় সেটার প্রমাণও বহুবার দিয়েছেন যিনি…তিনি নানা পাটেকার!

এখনও সমালোচক-দর্শকদের মন জয় করে বলিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন নানা! কমেডি অভিনেতা, কিংবা চরিত্রাভিনেতা – যখন যেটা করেন তাতেই তিনি ফিট। এই তো ক’দিন আগেই ‘গোলমাল এগেইন’ সিনেমায় মিনিটখানেকের একটা অতিথি চরিত্রে কাজ করলেন। আর তাতেই যেন, সিনেমার মূল আকর্ষণ হয়ে গেলেন তিনি। তিনি নানা পাটেকার বলেই হয়তো এমনটা সম্ভব।

প্রায় চার দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য মুভিতে অভিনয় করেছেন। দারুণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন তিনটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, একমাত্র অভিনেতা হিসেবে জিতেছেন বেস্ট অ্যাক্টর, সাপোর্টিং অ্যাক্টর এবং ভিলেন এই তিন ক্যাটাগরিতে চারটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড।

শুধু অভিনেতা হিসেবে নয় স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং ডিরেক্টর হিসেবেও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তাঁর পরিচালিত ‘প্রহার’ বেস্ট স্টোরি ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ারে নমিনেশনও পেয়েছিলো। এছাড়া তিন-চার টা মুভিতে প্লে-ব্যাক করেছেন। খুব ভাল স্কেচ আর্টিস্টও তিনি। স্কেচ এঁকে মুম্বাই পুলিশকে বিভিন্ন সময় সাহায্যও করেছেন!

অভিনেতা হিসেবে নানা যতটা অসাধারণ, তারচেয়ে বেশি অসাধারণ একজন মানুষ হিসেবে। খুবই সাধাসিধে জীবনযাপন করেন। নিজের আয়ের ৯০ শতাংশ-ই দান করে দেন। প্রতিবছর মহারাষ্ট্রের খড়াপীড়িত কৃষকদের সাহায্যের জন্য তিনি সবার আগে এগিয়ে আসেন।

তাদের সাহায্যের জন্য ‘নাম ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তৈরী করেন। এগুলো ছাড়াও আরো নানা ধরণের সমাজসেবামূলক সংঘঠনের সাথে জড়িত তিনি। বলিউডের কাজ ছাপিয়ে এসবকেই এখন নিজের ধ্যানজ্ঞান বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। আজকের দিনে এমন উদাহরণ বলিউডে তো বটেই, আমাদের সমাজেও খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই জনপ্রিয় অভিনেতা চলতি বছরেই ৬৭ বছরে পা রেখেছেন। অভিনয় ও সমাজকল্যানমূলক কাজ দিয়ে তিনি আরো এগিয়ে যান – এমনটাই রইলো প্রত্যাশা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।