প্রথম টেস্ট জয়ের অনুভূতি

২০০০ সালের ২৬ জুন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দশম পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে টেস্ট খেলার মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। একই বছরের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলা বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর প্রথম  জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয় চার বছরেরও বেশি সময়।

টেস্টে অধরা সে জয়টি অবশেষে ধরা দেয় ঠিক তেরো বছর আগে আজকের এই দিনে। ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর মাধ্যমে নিজেদের ক্রিকেট  ইতিহাসে প্রথম কোন টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

আর এ জয়ে দেশের অগণিত ক্রিকেটভক্তের মতই উচ্ছ্বসিত ছিলেন দলের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শেষে যা প্রকাশ পায় প্রত্যেকের মুখের ভাষায়। একাদশের প্রত্যেক খেলোয়াড় সেদিন ম্যাচ জয়ের পর নিজ নিজ অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক দেশের প্রথম  টেস্ট জয়ে তাদের সবার অনুভূতির কথা

জাভেদ ওমর বেলিম

নিঃসন্দেহে ভালো লাগছে যে আমি এই দলের একজন সদস্য ছিলাম এবং আমি একাদশেও ছিলাম। ১০০ বছর পরও যখন আমি থাকব না তখন এই বিজয়ের সাথে আমার নাম থাকবে। আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।

নাফিস ইকবাল খান

যখন থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল তখন থেকে আমি একটা স্বপ্ন দেখছিলাম যে যখন বাংলাদেশ দলে যাব তখন দলের হয়ে একটা টেস্ট জিতব। কারণ এই ইতিহাসটা কেউ মুছতে পারবে না। আর এই দলের একজন সদস্য আমি যে কারণে আমি খুব গর্বিত।

হাবিবুল বাশার সুমন (অধিনায়ক)

আমি খুশি যে শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ জিততে পারলাম আমরা এবং আমি খুব খুশি এজন্য যে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের দলে আমি ছিলাম। অধিনায়ক হিসেবে ছিলাম সেটা তো অন্যরকম ব্যাপার। বাট আমি জাস্ট হ্যাপি যে আমি বাংলাদেশ দলের একজন সদস্য ছিলাম। আর আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশের জয়।

মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট জিতলাম আর এই দলে আমি আছি এর জন্য আমি নিজেকে অবশ্যই গর্বিত মনে করি। মুলতানে আমাদের জেতার মত একটা পরিস্থিতি ছিল। সে সময় খুব খারাপ লাগছিল যে ওই ম্যাচটা আমরা যদি জিততে পারতাম তাহলে  বলতে পারতাম যে আমি আসলে ওইখানে কিছুই করি নাই, শুধু দুইটা রান আউট করেছিলাম। তো এখন যেহেতু আবার আজকে শেষ উইকেটের ক্যাচটা আমি ধরেছি তাই খুব ভালো লাগতেছে যে আমি দলের সাথে আছি এবং ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এই আনন্দটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না।

রাজিন সালেহ

অবশ্যই ভালো লাগছে। ভালো লাগারই কথা যেহেতু ইতিহাসে বাংলাদেশ আজ প্রথম টেস্ট জিতেছে। এটা ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। আর ইতিহাসের পাতায় আমার নাম থাকবে এতে আমি তো খুব খুশি।

আফতাব আহমেদ

এটা আসলে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া যে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের দলে আমি ছিলাম। এটা আমার স্বপ্ন ছিল। সবসময় আমি চিন্তা করতাম যে আমি যেন প্রথম টেস্ট জয়ের দলে থাকতে পারি। আর সে আশাটা আজকে পূরণ হয়েছে।

খালেদ মাসুদ পাইলট (উইকেরক্ষক)

আজকের ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর সত্যি কথা বলতে যে একটা টেস্ট ম্যাচ জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। আর সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে যে আমি এই দলের একজন সদস্য।

মোহাম্মদ রফিক

বাংলাদেশ প্রথম যখন ওয়ানডে জিতে তখন ওই ম্যাচে আমি খেলেছিলাম এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলাম। আমি সত্যিই খুব খুশি এই কারণে যে আমি আরেকটি সুযোগ পেয়েছি, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের দলে আমি খেলেছি এবং এই দলের একজন সদস্য আমি।

মাশরাফি বিন মুর্তজা

এই দিনটার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম এতদিন। পাকিস্তানের মুলতানে আমরা খুব ক্লোজ ছিলাম, এক উইকেটে হারছিলাম। তো ওইদিন অনেক খারাপ লাগছিল। মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম যে একটা টেস্ট জয়ের দরকার। তাই আজ সত্যি খুব ভালো লাগতেছে।

তাপস বৈশ্য

আমি প্রায় গত তিন বছর ধরে দলের সাথে আছি। একসময় ভাবছি যে আমরা কী টেস্ট ম্যাচ জিততে পারব না, আমার ক্যারিয়ার কী শেষ হয়ে যাবে, একটা জয় কী দেখতে পারব না? তবে এই সিরিজটা শুরুর আগে মনে হয়েছিল যে আমরা পারব। সর্বশেষ আমরা যখন ভারতকে হারাইলাম তখন মনে হয়েছিল যে আমরা জিম্বাবুয়েকে অবশ্যই হারাব। কারণ আমাদের সবার মধ্যে সে আত্মবিশ্বাসটা ছিলো যে আমরা টেস্ট জিতব। আর এই আত্মবিশ্বাসের ফলে আজ আমরা টেস্ট জিতেছি।

এনামুল হক জুনিয়র

অনুভূতি আসলে বলে বোঝাতে পারব না। আমি গতকাল রাতে ঘুমানোর আগে চিন্তা করছিলাম যে কিছু একটা করতে হবে। বাসা থেকে ফোন আসছে, আম্মা ফোন করে বলছে যে তুমি নিজের জন্য কিছু করতে না পারলেও দেশের জন্য কিছু করতে হবে এটা চিন্তা করো এবং দেশের জন্য খেলো। আমরা যখন ইনিংস ঘোষণা দিই তখন সুমন ভাই আমাকে বলেছিল যে দোস্ত কিছু একটা কর। তুই যদি প্রেসারে পড়স তাহলে কিছুই হবে না। চার নাম্বার টেস্ট খেলতেছস এবং দেশের জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা কর।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।