প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: বাংলাদেশের শক্তি-দুর্বলতা এবং রণকৌশল

বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অবস্থা এখন বৈঠা বিহীন নৌকার মতো। একে তো, মাঠের ভিতরের পারফরমেন্স একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা! তারউপর মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় জর্জরিত হয়ে তা আমাদের ক্রিকেটে এখন মড়ার উপর খাঁড়ার গা হয়ে নেমেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটা সিরিজে আমরা এতোটাই বাজে ক্রিকেট খেলতেছি যে, এখন নিজেদের মধ্যেই বিশ্বাস নেই যে আমরা ম্যাচ জিততে পারি। টানা হারতে হারতে জিতার মানসিকতাটাই হারিয়ে গেছে।

ক্যারিবীয় দীপপুঞ্জে এসেও আমাদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা চলেছে। টেস্ট সিরিজে গো হারা তারই নমুনা। তবে ওয়ানডেতে ‘কিছুটা’ আমরা ভালোই খেলি। ‘কিছুটা’ বলছি কারণ আমরা কোনো কিছুতেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনা। ১৫ এর পর ওয়ানডে ক্রিকেটেও আমরা ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছিনা।

আজ ভালো তো কাল মন্দ। তবে আমাদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ওয়ানডে ক্রিকেটে উইন্ডিজ দলও এখন তাদের সবচেয়ে বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই যদি তাদের এই দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা ভালো কিছু করতে পারি। তবে শুনতে খারাপ লাগলেও আমরা এমনই এক ক্রিকেট দল, যাদের বিপক্ষে অফফর্মের সব দল ফর্মে ফিরে, সব অফফর্মের ক্রিকেটারগুলোও ফর্মে ফিরে আসে। এটা একটা দুইটা সিরিজ নয় সব সিরিজেই এমন হয়ে আসছে!

এতো কিছুর পরও এই সিরিজে শক্তি এবং সামর্থ্যের দিক দিয়ে আমি বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখবো। কিছু সীমাবদ্ধতা বাদ দিয়ে প্রায় সবক্ষেত্রেই বর্তমান বাংলাদেশটা তাদের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে থাকবে। এর চেয়ে বড় কথা শেষ কয়েক বছর ধরেই উইন্ডিজ দল হয়ে খেলতে পারছেনা। এটিও আমাদেরকে এগিয়ে রাখবে।

‘মাসাতারিমু’-র সাথে যদি মোসাদ্দেক সহ আরো দুয়েকজন তরুণ পারফর্ম করতে পারে তাহলে আমাদের জন্য জয় অসম্ভব হবেনা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের ক্রিকেটারদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে।

তবে আমাদের ক্রিকেটে প্রাণ ফিরে আনার জন্য একটা জয় টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রথম ম্যাচটি জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে আমাদের ক্রিকেটারদের মাইন্ডসেটই অন্যকরম হয়ে যাবে।

  • যা যা করতে হবে

প্রথম ম্যাচটি হবে গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে। এটি আমাদের জন্য একটি পজিটিভ দিক। কেননা গায়ানার কন্ডিশন,পিচ হুবহু আমাদের দেশের মতনই। তাছাড়া এই মাঠে ২০০৭ এর বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৭ রানের জয়ের সুখস্মৃতিও আমাদের রয়েছে। যাহোক, গায়ানার উইকেটে রানও আছে। যে দলের ব্যাটসম্যানরা ভালো ব্যাটিং করবে তারাই এগিয়ে থাকবে।

তবে বোলারদের জন্য যে একেবারেই কিছু থাকবে না তা কিন্তু নয়। স্পিনারদের জন্য গায়ানার পিচকে আদর্শ পিচই বলা যায়। পেসাররাও সাহায্য পাবে। অভারঅল এরকম উইকেটে ভালো খেলার জন্য ব্যাটসম্যানকে অনেক কুশলী হতে হবে। আগে ব্যাটিং করলে এই পিচে ২৮০/২৯০ রান করা উচিত। আর যদি ৩০০+ করা তাহলে কোনো কথায়-ই নেই। অন্যদিকে আমাদের বোলারদেরও জ্বলে উঠতে হবে। স্পিনারদের বিপক্ষে খেলতে ওরা কিছুটা ভয়ে থাকবে।

এর সাথে যদি পেসারদের থেকে ভালো সাহায্য পাওয়া যায় তাহলে জয় অসম্ভব মনে হবেনা। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো দলীয় প্রচেস্টা লাগবে। ভালো ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে। ওদের ব্যাটিংয়ের সময় যাতে বড় কোনো জুটি না হয় সেই চেস্টা করতে হবে। মোদ্দাকথা, ওদের ড্রেসিংরুমে কাঁপন ধরাতে হবে।

  • যাঁকে নিয়ে ভয়

ক্রিস গেইলকে নিয়ে তো অবশ্যই ভয় রয়েছে। তবে রাসেল, এভিন লুইস, হেটমায়ার, শাই হোপসহ যেকেউ আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। তবে আলাদা করে বললে আমি এভিন লুইসের কথা বলবো। স্পিনের বিপক্ষে সে তার হিটিং অ্যাবিলিটি কাজে লাগানোর চেষ্টায় থাকবেন।

  • পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশ এপর্যন্ত ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে ৭টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর হেরেছে ১৯ টি ম্যাচ। বাকি ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান মারলন স্যামুয়েলসের। ১৩ ম্যাচে ১টি শতক এবং এবং ৪টি অর্ধশতকে ৫৩৩ রান নিয়ে সবার উপরে আছেন তিনি। এরপর রয়েছেন ক্যারিবীয় দানব ক্রিস্টোফার হেনরি গেইলের স্থান। ১৮ ম্যাচ খেলে ১টি শতকের পাশাপাশি ৪টি অর্ধশতকে তার রান ৫১৯।

বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান মুশফিকুর রহিমের। ১৬ ম্যাচে তিনি ৫০৫ করে দুই দলের মধ্যে রান সংগ্রাহকের তালিকার তিনে রয়েছেন। কোনো শতক না পেলেও করেছেন তিনটি অর্ধশতক। বোলিংয়ে ১৩ ম্যাচে ২৮ উইকেট নিয়ে সবার উপরে কেমার রোচ। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের। ১৫ ম্যাচে তার উইকেট ১৯টি। যদিও দুজনেই দলের বাইরে রয়েছেন। কেমার রোচকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। আর রাজ্জাক তো অনেক বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাথেই নাই।

এছাড়া অন্যান্য সব পরিসংখ্যানেই আমরা পিছিয়ে রয়েছি। এগুলো ব্যাপার না। পরিসংখ্যান ডাজ’ন্ট ম্যাটার। কেননা কোন একজন মহানুভব বলেছিলেন মিথ্যা তিন প্রকার – মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা আর পরিসংখ্যান। পরিসংখ্যান আপনাকে অনেক কিছুই বলবে আবার অনেক কিছুই বলবে না। তাই পরিসংখ্যান দেখে মাথা ঘাবড়ানোর কিছুই নাই। মাশরাফি বাহিনী তাদের নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এই উইন্ডিজকে হারানো কঠিন হওয়ার কথা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।