সর্বকালের সেরা কে? পেলে, ম্যারাডোনা না মেসি?

পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন তার দলের হয়ে। তিনটি বিশ্বকাপ থেকে ৭০ এর বিশ্বকাপ সে প্রায়ই একাই জিতিয়েছিলেন। ফলে তিনি সেরা নির্বাচিত খেলোয়াড় হয়েছিলেন। কিন্তু বাকি দুটি বিশ্বকাপ জয়ে তার পারফরম্যান্স সে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতোই ছিল। সেই দুটি বিশ্বকাপে তিনি বেশি গোলও করেননি। বেশি অ্যাসিস্টও ছিল না। ১৯৬২ বিশ্বকাপে তো ইনজুরির কারণে তিনি প্রথম রাউন্ড এর পরে আর কোন ম্যাচই খেলতে পারেননি।

তিনি তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ঠিকই, কিন্তু জিতিয়েছিলেন একটি। পেলে-ম্যারাডোনার প্রসঙ্গে আরেকটা কথা বলা দরকার, আগে শুধুমাত্র ইউরোপিয়ান ফুটবলার কে ব্যালন ডি অর দেয়া হত। তাই পেলে ম্যারাডোনা কেউই ব্যালন ডি অর পায়নি।

ম্যারাডোনার মতো একজন খেলোয়াড় এই পুরস্কার পাবে না সেটা কি করে হয়? তাই ফিফা তখন ম্যারাডোনা কে সেরার স্বীকৃতি হিসেবে একটি গোল্ডেন বল দেয়। কিন্তু পেলেকে সেটা দেয়া হয় ২০১০ সালের পরে।

কেন পরবর্তীতে পেলেকেও পুরস্কার প্রদান করা হয়, তার একটা কথিত ব্যাখ্যা আছে। ফিফা কর্তৃক যে নির্বাচনটা করা হয়, সেটা ছিল অনলাইন পোল ভিত্তিক। পোলে যারা ভোট দেয়, তাদের অধিকাংশই ছিল বয়সে তরুণ, যারা নিজের চোখে ম্যারাডোনার জাদু দেখেছেন। দ্যাটস হোয়াই দে ভোটেড ফর ম্যারাডোনা। পেলের খেলা যারা স্বচক্ষে দেখেছেন, তারা পোলে অংশগ্রহণ করার মত অতটা ডিজিটাল ছিলনা, যে কারণে পেলের ভোট কমে যায়। ভোটে দুজনের ব্যবধান দেখে ফিফা আশঙ্কা করে যে এ ফলাফল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেনা। যে কারণে বিতর্ক এড়াতে পরে পেলে ম্যারাডোনা দুজনকেই পুরস্কার দেয়া হয়।

ক্লাব ফুটবলে পেলের গোল ১২০০ এর অধিক। সুতরাং পেলেই সেরা – যদি তাই হয়ে থাকে তাহলেও একটা সমস্যা আছে। কারণ আর্থার ফ্রেডেনরিচ নামে একজন খেলোয়াড় আছেন যিন ১২৩৯ টি ম্যাচ ১৩২৯ টি গোল করেছিলেন। অথচ সেই ফুটবলার কে কেউ চিনেওনা, নাম ও জানে না। যেমন আপনি নিজেই হয়তো জানেন না।

ইন্টারনাল গোল সংখায় ৭৬৭টি গোল নিয়ে পেলের অবস্থান তৃতীয় তম। ৮০৫ টি আন্তর্জাতিক গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন চেকস্লোভাকিয়ার জোসেফ ভিকান। তার নামও হয়তো অল্প কয়েকজনই জানেন।

সাফল্যের দিক দিয়ে গোল সংখায় পেলের চেয়ে ম্যারাডোনা যোজন যোজন পিছিয়ে। কিন্তু তারপরেও কেন পেলের সাথে ম্যারাডোনার তুলনা করা হয়? কেন ম্যারাডোনা কে পেলের চেয়েও সেরা বলা হয়? কারণ হচ্ছে সেরা খেলোয়াড় শুধু গোল দিয়ে নির্বাচন করা হয় না। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন বিবেচনায় আসে তার পাসিং ড্রিবলিং, স্কিলিং – সব মিলিয়ে ম্যাচে যিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখতে পারেন তিনি হন সেরা খেলোয়াড়।

২০০০ সালে ফিফা কর্তৃক একটি নির্বাচন হয় যেখানে ৫৩% ভোট পেয়ে সেরা নির্বাচিত হন ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পেলে ভোট পেয়েছিল ১৮%। কিন্তু কেন জানি পরবর্তীতে ফিফা পেলে-ম্যারাডোনাকে যৌথভাবে সেরা বলে ঘোষণা করে

ম্যারাডোনারর সাথে যাকে সবচেয়ে বেশি তুলনা করা হয় সেই পেলেকে ‘ফুটবলের কালো মানিক’ অথবা ‘ফুটবলের রাজা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর ম্যারাডোনাকে অভিধা দেয়া হয় ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ হিসেবে। তার খেলায় নিশ্চয় গড গিফটেড ভিন্ন কিছু ছিল যেটা তাকে এই অভিধা এনে দেয়।

৮৬ বিশ্বকাপের খেলা দেখেন, ৯০ বিশ্বকাপের খেলা দেখেন তারপর হয়তো একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আমার মতামত পেলে ম্যারাডোনা উভয়ই সেরা, তারপর মেসি। তবে ক্যারিয়ার শেষ হলে মেসির নাম সবার উপরে থাকতে পার। দূরত্ব কেবল একটা বিশ্বকাপের। কে জানে, সেটা হয়তো ২০১৮ সালেই জিতে ফেলবেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।