পৃথিবীর শেষ মানুষ || ছোট গল্প

ঘটনাটা নিতান্তই অদ্ভুত। আসিফ সকালে ঘুম থেকে উঠে খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলো। লাইনে দাঁড়িয়ে বাসে উঠতে যাবে এমন সময় মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠায় হুট করে পড়ে গেলো ও। নিজেকে আবিস্কার করলো হাসপাতালে। হালকা গোলাপি শার্ট পরা স্মার্ট টাইপের একজন ডাক্তার দ্রুত আসিফকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গিয়ে অক্সিজেন দিতে বললো। আসিফের মুখে অক্সিজেন মাক্স পরানোর ঠিক দেড় মিনিট পর পৃথিবীতে খুব আশ্চর্যজনক একটা ঘটনা ঘটলো। হঠ্যাৎ করে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া সমগ্র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আধাঘন্টার জন্য বিষাক্ত হয়ে গেলো। আসিফ দেখলো ওকে অক্সিজেন দিতে আসা কমবয়সী নার্সটা চোখমুখ শক্ত করে দুই থেকে তিনবার জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে ধুপ করে মাটিতে গড়িয়ে পড়লো। তবে ও বুঝতে পারলো না যে মাটিতে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নার্সটা মারা গেছে। আসিফ সাবধানে অক্সিজেন মাক্স খুলে ফেলার চেষ্টা করতে গিয়ে টের পেলো আবারো ওর মাথা ঘুরাচ্ছে। দ্রুত আবার মাস্কটা পরে বিছানায় শুয়ে পড়লো।

ততক্ষণে পুরো পৃথিবীর সমস্ত স্থলচর প্রাণী মারা যাওয়া শুরু করেছে। আধা ঘণ্টা হতে না হতেই সমগ্র পৃথিবীতে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নামের একটা ছোট দেশের রাজধানী ঢাকার একটা হাসপাতালে অক্সিজেন মাস্ক পরে চুপচাপ শুয়ে থাকা আসিফ নামের ২৭ বছরের যুবক বাদে আর কেউই বেচে রইলো না। এরও প্রায় একঘন্টা পর আসিফ মুখ থেকে মাস্কটা খুলে ফেলে আস্তে করে শ্বাস নিলো। নাহ, প্রবলেম হচ্ছে না কোনো। দ্রুত নীচে পড়ে থাকা নার্সের শরীরে হাত দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চমকে উঠলো। নার্সের শরীর বরফের মতন ঠান্ডা। মারা গেছে নাকি? খবরটা কাউকে জানানোর জন্য চিৎকার করে ইমার্জেন্সির বাইরে বের হয়ে স্থম্ভিত হয়ে গেলো ও। হাসপাতালের বারান্দা জুড়ে একেবেকে পড়ে আছে মানুষের সারি। বুকের মধ্যে ধক করে উঠলো আসিফের। কি করবে বুঝতে পারলো না। ভয় পেয়ে গেলো। এক দৌড়ে হাসপাতালের গেট দিয়ে সোজা রাস্তায় বের হয়ে আসলো। তারপর যা দেখলো তা অনেক চেষ্টা করেও নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারলো না ও। কিভাবে বিশ্বাস হবে? পৃথিবীর কেউ এরকম কোনো দৃশ্য কোনোদিন দেখেনি। বাস্তব তো দূরের ব্যাপার, কোনো সিনেমাতেও না। মিরপুর দশের ব্যস্ত রাস্তায় যতদূর চোখ যায় খালি লাশ আর লাশ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। রাস্তায় যত গাড়ি, বাস, ট্রাক ছিলো, সবকিছু এক্সিডেন্ট করে দুমড়ে মুচড়ে আছে। বহু মানুষের হাত নেই, পা নেই, টুকরো টুকরো শরীর। কেউ কেউ রাস্তার পাশে মরে পড়ে আছে শান্তিপূর্ণ ভাবে। একজন পাশের একটা দোতলা বাসার রেলিং থেকে বিচিত্র ভাবে ঝুলছে। আসিফ হড়হড় করে বমি করে অজ্ঞান হয়ে গেলো।

__________

কিছুক্ষণ পর আপনা আপনিই জ্ঞান ফিরলো। রাস্তায় পড়ে যাওয়াতে মাথার পেছনে আঘাত লেগে গোল আলু হয়ে আছে। গলা শুকিয়ে কাঠ। আসিফ হাতের বা’পাশের ফার্স্টফুডের দোকানে ঢুকে ফ্রিজ খুলে পানি বের করে ঢকঢক শব্দে গিললো। দোকানদার তার ডেস্কের ওপর মাথা দিয়ে পড়ে আছে। পাশে একজন মহিলা বোধহয় মারা যাওয়ার আগে নাস্তা করছিলো। উনার মাথা টেবিলে রাখা সুপের বাটির মধ্যে। মহিলার গায়ের ওপর কাত হয়ে একটা ছেলে পড়ে আছে। বোধহয় ওয়েটার এখানকার। আসিফ পানি খেয়ে দোকান থেকে বের হলো। ওর মাথায় কিছুই কাজ করছে না এখন। এই অল্প সময়েই ও যেন অনেকটা রোবট হয়ে গেছে। অধিক শোকে পাথর টাইপ। আচ্ছা, বাসার সবার কি অবস্থা? হঠ্যাৎ করেই বাড়ি ফেরার তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলো আসিফ। ফুটপাতে পড়ে থাকা একটা দামী বাইকের ওপর থেকে ঠেলেঠুলে তার মোটামত ড্রাইভারকে সরিয়ে বাইক স্টার্ট দিলো ও। সাবধানে রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষজনকে কাটিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দিলো।

খুব কাছের কোনো একজন ব্যক্তি মারা গেলে মানুষের মনের অবস্থা কেমন হয় সেটা সবাই জানে। কিন্তু পুরো পৃথিবীর সবাই মারা গেলে বেচে থাকা মানুষটার মনের অবস্থা কেউ কোনোদিন ভাবতেও পারেনা। জানা তো দূরের কথা। আম্মু বোধহয় কিচেনে থালা বাসন পরিস্কার করছিলো। আসিফ উনাকে আবিস্কার করলো সিঙ্কের মধ্যে মাথা এলিয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়। পানির কল ছেড়ে রাখা এখনো। সারা রান্নাঘর, আর আম্মুর লাশ পানিতে মাখামাখি। বাবা টিভিরুমে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। পাশে ভাঙা চায়ের কাপ। বাসায় আর কেউ নাই। ছোটবোন স্কুলে। সে সেখানেই মারা গেছে সম্ভবত। আসিফ আবারো অজ্ঞান হয়ে গেলো।

আগুনের গরম আচে জ্ঞান ফিরলো আসিফের। ওদের সারা বাড়িতে আগুন ধরে গেছে। রান্নাঘরের চুলায় তরকারি ছিলো। খেয়াল করেনি ও। আম্মু মারা যাওয়ার আগে রান্না বসিয়েছিলো মেবি। সেখান থেকেই আগুন ধরেছে। আগুন থেকে মা বাবার লাশ বের করার কোনো আগ্রহ বোধ করলো না আসিফ। পা টেনে টেনে বের হয়ে আসলো। পুড়ুক, সব পুড়ে ছাই হয়ে যাক। সারা পৃথিবী পুড়ে যাক। কিচ্ছু যায় আসেনা ওর।

রাস্তায় নামতেই বৃষ্টি শুরু হলো। প্রবল বর্ষণ। আসরের ওয়াক্ত তখন, কিন্তু কোথাও আজান হচ্ছে না। কিভাবে হবে, আজান দেয়ার লোক কেউ বেচে নেই যে। আসিফ বিকাল থেকে সারারাত বৃষ্টিতে ভিজলো একটানা রাস্তায়। মাঝে কতবার অজ্ঞান হলো আর কতবার জ্ঞান ফিরলো খেয়াল নেই। সকালে বৃষ্টি শেষ হতে আসিফ আবিস্কার করলো ওর গায়ে প্রচন্ড জ্বর। ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাহিল পুরোপুরি। মৃতপ্রায় অবস্থা। মরতে আসিফের কোনো প্রবলেম ছিলো না, কিন্তু মানুষের আদিম প্রবৃত্তি বোধহয় আসিফকে জোর করে পাশের একটা বাসায় নিয়ে আসলো। খোলা বাসা। গেটের পাশে একজন পড়ে আছে, তাছাড়া কেউ নেই আর। ঘরে টিভি চলছে। চ্যানেলে কোনো ছবি নেই। নীল আলো শুধু। ফ্রিজ খুলে যা আছে ঠান্ডা সব খাবার গোগ্রাসে গিললো ও। তারপর সোফায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো ক্লান্তিতে।

এই বাড়িতেই খেয়ে না খেয়ে, আধো ঘুম আধো জাগরনে, পাগলের মতো একটা সপ্তাহ কাটিয়ে দিলো আসিফ। তারপর একদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই ওর মনে হলো, আরে আমি এসব কি করছি? আমার তো উলটা বেচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করার কথা। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো আসিফের। আমিই এই পৃথিবীর রাজা বাদশা টাইপ। হ্যা, এই পৃথিবীতে এখন তো যা খুশি তাই করতে পারে ও। এই সুযোগ কোনোদিন কারো ভাগ্যে জোটেনি। ওর ভাগ্যে জুটেছে। তাহলে হেলায় সুযোগটা নষ্ট করবে কেন ও? ইয়েস, বাকি জীবনটা ইনজয় করে যাবে আসিফ। যা খুশি তাই করবে। সোফার পাশে রাখা স্মার্টফোনটা ধরে মেঝেতে আছাড় মারলো। টিভিটা ফেলে দিলো টেবিলের ওপর থেকে। আলমারির ড্রয়ার খুলে এক বান্ডিল হাজার টাকার নোট বের করে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দিলো। হাসলো হা হা করে। ধ্বংস করা অমানুষিক আনন্দ পেতে শুরু করেছে ও। বেচে থাকার একটা অর্থ খুজে পাচ্ছে শেষপর্যন্ত।

রান্নাঘরে ঢুকে গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চুপচাপ হেটে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো আসিফ। পেছনে প্রচন্ডে শব্দে বিস্ফোরন ঘটলো। একটা মুচকি হাসি দেখা গেলো ওর মুখে। রাস্তায় পড়ে থাকা লাশগুলো থেকে গন্ধ ছড়ানো শুরু করেছে। নাকে একটা কাপড় বেধে নিলো ও। ভালো দেখে একটা আস্ত গাড়ী বেছে নিয়ে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলো। অসংখ্য মানুষের দেহ মাড়িয়ে ছুটতে শুরু করলো তীব্র গতিতে।

দিনগুলো অদ্ভূত উত্তেজনায় কাটতে লাগলো আসিফের। গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন শহরে যায়। ইচ্ছামতো মানুষের বাসায় বা রেস্টুরেন্টে ঢুকে খাওয়া দাওয়া করে। রান্না করা খাবার পচে গেলে ফ্রিজ থেকে খায়। মাঝে মাঝে রান্না করে নিজে। তারপর ব্যাংকে গিয়ে টাকা ছেড়ে, জুয়েলারির দোকানে গিয়ে সোনা আর হীরে বের করে রাস্তায় ছুড়ে মারে। যেখানে খুশি আগুন ধরিয়ে দেয়। যে গাড়ি ইচ্ছা চালায়। যা ইচ্ছা করে। তারপর রাতে অন্য কোনো শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরদিন নতুন শহর, নতুন উত্তেজনা। যা খুশি তাই করার আনন্দ। ধ্বংসের আনন্দ। মানুষের বাসায় কত অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিস যে খুজে পায় আসিফ! সেদিন এক পোলার স্মার্টফোনের মেসেঞ্জারে দেখে এক মেয়ে লাস্ট মেসেজ দিয়েছে, ‘বাবু আমার গতকাল বমি হয়েছে। আমি বোধহয় প্রেগন্যান্ট। কি করবো কিচ্ছু বুঝতেছিনা। আব্বু আম্মু জানলে আমাকে খুন করে ফেলবে।’

আসিফ মজা পেয়েছে মেয়েটার আইডিতে গিয়ে। ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে সর্বোচ্চ ক্লাস সিক্সে পড়ে। হাইরে দুনিয়া! অবশ্য তারা কেউই বেঁচে নেই আর।

আরেকদিন এক মেয়ের ডায়েরী পেয়েছিলো, যেটাতে সে লিখে রেখেছে তার হবু বরের সাথে কি কি করবে। কত রোমান্টিক প্লান। আফসোস হয় আসিফের। অন্তত এই মেয়েটা তো বেচে থাকতে পারতো।

একদিন খুজে পেতে সেলিব্রেটি আরিফ আর হোসাইনের ল্যাপটপ পেয়ে যায়। উনার আইডিতেই লগ ইন করা। আহা। কত কত ফলোয়ার, মেসেজ, নোটিফিকেশন।

হঠ্যাৎ অদ্ভুত একটা আইডিয়া আসে ওর মাথায়।

‘দেশের কোনো প্রান্তে কেউ কি বেচে আছো? থাকলে প্লিজ জানাও।’ লিখে স্ট্যাটাস দেয়। একঘন্টাতেও একটা লাইক পড়েনা। মৃত মানুষরা তো আর লাইক দিতে পারেনা। অথচ ওনার আগের স্ট্যাটাসেই ত্রিশ হাজার লাইক ছিলো।

__________

এক মাস পর।

শাহরুখ খানের বাসা মান্নাতের মধ্যে বসে আছে আসিফ। কিছুক্ষণ আগে এসেছে ক্যাটরিনা কাইফের বাসা থেকে। পচে গলে সেক্সি মেয়েটার শরীরের হাড় বের হয়ে গেছে এতোদিনে। কয়দিন আগেও আসিফের বিশাল ক্রাশ ছিলো ক্যাটরিনা। আজ তার বাসায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে এসেছে। এখন লাঞ্চ করছে শাহরুখ খানের ডাইনিং টেবিলে বসে। ফ্রিজে নানাধরনের খাবার ছিলো। খাওয়া শেষ করে ড্রইং রুমে গেলো। কত ধরনের ট্রফি সাজানো। ফিল্মফেয়ার আছে কতগুলো। একটা একটা করে আছাড় দিয়ে ভাঙলো আসিফ। কোনো কারন ছাড়া, হুদাই। তারপর দামী সোফার কুশনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বের হয়ে পড়লো। মুম্বাইতে অনেক কাজ। সব সেলিব্রেটির বাসা ঘুরতে হবে। তারপর যাবে দিল্লী। মোদির অবস্থা দেখতে। বেচে থাকতে অনেক জ্বালাইছে, এখন প্রতিশোধ হবে। ইন্ডিয়া শেষ করে পাকিস্তানে যাবে ও। ইচ্ছা আছে পুরো পাকিস্তান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সমস্ত অত্যাচারের বদলা।

__________

এক বছর পর।

গত কয়েকদিন ধরে হোয়াইট হাউজে আছে আসিফ। এখন আর নতুন শহরে যেতে ইচ্ছা করেনা। ধ্বংস করতে করতে ক্লান্ত ও। জিনিসগুলো বোরিং লাগা শুরু করেছে। এখন একজন মানুষের সাথে কথা বলার জন্য বুকটা তড়পায় ওর। একজন জ্যান্ত মানুষ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এতোদিন বিয়ে হতো আসিফের। বউকে নিয়ে কতো ঘুরাঘুরি আর আনন্দ হতো। বিয়ে নিয়ে ছোটবেলা থেকে যত স্বপ্ন দেখেছে তার কিচ্ছু পূরণ হলো না। এখন সারা জীবন কুমার থাকতে হবে ওকে। আচ্ছা পুরো পৃথিবীতে কি ওর মতো ভাগ্যের জোরে একটা মানুষও বাচতে পারতো না? একটা মেয়ে মানুষ। প্রচন্ড কুৎসিত হলেও চলতো। যার সাথে সংসার শুরু করতো আসিফ। সন্তান জন্ম দিতো।

সেই আদি মানুষের মতন পৃথিবীটা আবার জনমানুষে ভরিয়ে তুলতো। আজকাল প্রতিদিন রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেডরুমে শুয়ে শুয়ে একা একা কান্না করে আসিফ। একাকীত্ব আর সহ্য হয়না। দুনিয়ার সব সুন্দর জায়গা দেখা শেষ, সুন্দর খাবার খাওয়া শেষ, আর এই নিঃস্বঙ্গ জীবন নিতে পারছেনা ও। পৃথিবীর সব সেলিব্রেটিদের ফেসবুক আর টুইটার থেকে পোস্ট করা শেষ। কেউ একজন বেচে থাকলে এতোদিন ঠিক সাড়া দিতো। কম দেশে আর কম মহাদেশে তো ঘুরলো না আসিফ। কিন্তু দেখা নেই কারো। ও এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, সেদিন সৌভাগ্যবশত না, ও বেচে গেছিলো দূর্ভাগ্যবশত। সেদিন আর সবার সাথে মরে গেলেই ভালো হতো ওর জন্য। বিরক্তিকর জীবনের চাইতে কষ্টকর আর কিছু নেই বোধহয় জীবনে।

__________

আরো কিছুদিন কেটে গেছে। এখন ও আছে ফ্রান্সে। ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে মোনালিসা ছবিটা বের করে সেটার দাড়ি গোফ একে দেয়ার পর এই এতোদিনে একটু হাসি পেলো ওর। সাথে সাথে মনে পড়লো কতদিন হাসে না ও। নিঃসঙ্গ জীবনটা ওর কাছে অসহ্য হয়ে পড়েছে। আর বয়ে বেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। শেষমেশ এতোদিন মনের মধ্যে সুপ্ত থাকা সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললো আসিফ। ও সুইসাইড করবে। এই পৃথিবীর সর্বশেষ এবং একমাত্র মানুষ মারা যাবে বিষাক্ত শরবতে নীল হয়ে।

ফেসবুকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফলোয়ার সবচাইতে বেশি। বিষ খাওয়ার আগে শেষবারের মতো রোনালদোর আইডি থেকে একটা পোস্ট করলো আসিফ। বাংলা আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই। তারপর অপেক্ষা করতে লাগলো। একঘন্টা, দুইঘন্টা, তিনঘন্টা! নাহ কোনো সাড়া নেই। বিষ মেশানো শরবতের গ্লাসটা টেনে নিয়ে শেষ করে দিলো এক নিঃশ্বাসে।

মরে যেতে এতো কষ্ট হয়? আগে জানলে আসিফ বিষটা খেতোই না। প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতেছে। চোখের সামনে সবকিছু ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। মাথা এতোটা ভারী হয়ে গেছে যে মনে হচ্ছে এক মন ওজন কাধে নিয়ে বসে আছে ও। সারা গা কাপা শুরু হলো থরথর করে। ঠিক এমন সময় পাশে সোফায় রাখা রোনালদোর আইফোন টেন টা ভাইব্রেট করে উঠলো। কাপা কাপা হাতে ফোনটা চোখের সামনে ধরলো আসিফ। একটা নোটিফিকেশন।

‘Fariha mehrin reacted to your status’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।