পিরামিড: সত্যি-মিথ্যা বনাম মিথ

পিরামিড নিয়ে আলাপ-আলোচনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক। প্রাচীন সভ্যতার যতগুলো নিদর্শন পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের মধ্যে পিরামিড অন্যতম। সপ্তম আশ্চর্যের অন্তর্ভুক্ত এই সৃষ্টি মানুষকে অভিভূত করে আসছে যুগ যুগ ধরে। পিরামিডের নির্মাণকৌশল, বানানোর উদ্দ্যেশ্য জানার জন্য অনেক গবেষক কাজ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন।

পিরামিড নিয়ে অনেক তত্ত্ব এবং কল্পকাহিনী আছে যেগুলো সত্যি নাকি মিথ্যা প্রমাণ করা যায়নি। কিছু কিছু বিষয়কে স্রেফ মিথ বলেই দাবী করা হয়। অনেকেই মনে করেন, প্রাচীন যুগের সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে এই বিশাল পিরামিড বানানো অসম্ভব।

এলিয়েন নামক মহাকাশচারী ভিনগ্রহের জীব এসে তাদের উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে এগুলো বানিয়ে দিয়ে গিয়েছে। আবার কারো মতে, এই কয়েকশ টন ওজনের পাথরগুলো এলিয়েনেরা নয়, বরং প্রাচীন যুগের মানুষেরা নিজেদের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাথরগুলোকে তুলে নিয়ে এসেছেন। তবে তারা কেউই নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

কথিত আছে যে এইসব পাথরগুলোকে অনেকদুরের দেশ থেকে আনা হত দাসদেরকে দিয়ে এবং লক্ষ লক্ষ দাসের জীবন খোয়াতে হয়েছে এই পিরামিডগুলি বানাতে।

মিসরের আবহাওয়া প্রচন্ড উত্তপ্ত থাকলেও পিরামিডের ভিতর ঢুকলে মনে হবে আপনি কোনো শীতের দেশে এসেছেন, কারণ এখানে তাপমাত্রা মাত্র ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। স্থানীয়রা একে পিরামিডের অলৌকিক শক্তি বলে মনে করলেও গবেষকরা এই ঠান্ডা বাতাসের জন্য পিরামিডের কোনো গুপ্তপথকে দায়ী করেন।

আপনি যদি একদম উত্তর দিকে মুখ করা কোনো স্থাপনা দেখতে চান, তবে আপনার পিরামিডের কাছে যেতে হবে। পিরামিডই আজ পর্যন্ত তৈরি করা একমাত্র মনুষ্য সৃষ্টি যা একদম নিখুতভাবে উত্তর দিকে মুখ করে বানানো।

পিরামিডগুলো বানানোর সময় এর পাথরগুলোকে ঘষে এমন চকচকে করে ফেলা হত যে সূর্যের আলো পিরামিডের গায়ে প্রতিফলিত হয়ে চারদিক আলোকিত হয়ে যেত।

সিনেমাতে আমরা প্রায়ই দেখি যে পিরামিডের মধ্যে গুপ্তধন কিংবা মুল্যবান শক্তি নিয়ে নানা হায়ারোগ্লিফিকস লেখা আছে এবং তা লাভের জন্য নায়ক এবং ভিলেনদের মধ্যে প্রচণ্ড মারামারি হয়। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ পিরামিডেই কোনোরকম হায়ারোগ্লিফিকস পাওয়া যায়নি।

১২ শতকে আল আজিজ নামের একজন উন্মাদ কুর্দি শাসক যিনি মিশরের শাসক ছিলেন তার মাথায় সব পিরামিড ধ্বংস করে দেওয়ার খেয়াল চাপে। মেঙ্কাউরের পিরামিডে কোনোমতে একটু ক্ষত সৃষ্টি করতে পারলেও এই পিরামিডগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা যে বালখিল্যতা তা বুঝতে পেরে বেচারা আল আজিজ এই কাজ বাদ দেন।

কয়েক দশক আগে ইউরোপে একটা গুজব রটে যে পিরামিড এর রেপ্লিকা বানিয়ে সেখানে পিরামিডের শক্তি স্থানান্তর করা সম্ভব এবং সেই শক্তি অনেক অদ্ভুত কাজ করতে সক্ষম।

এর ফলে অনেকেই কার্ডবোর্ড কিংবা প্লাইউড দিয়ে বানানো ছোট ছোট পিরামিড বানিয়ে এর মধ্যে মাংস, দাঁড়ি কামানো রেজর থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন গাছের বীজ পর্যন্ত রাখা শুরু করে। তবে তাদেরকে হতাশ করে সম্পূর্ণটাই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

তবে এরপরেও মানুষের পিরামিড নিয়ে আগ্রহ কোনো অংশেই কমেনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
Avatar

ঊর্মি তনচংগ্যা

The girl who fly with her own wings