পাত্রের বয়স ৯৮, পাত্রীর ৯৪, জিমে পরিচয়, অত:পর…

‘বলেছিলাম না, বয়স কোনো বাধা না।’

‘আই ডু’- বলার পূর্বে, মি. মান মিসেস মানকে এ কথাটি বলেছিলেন কিনা কে জানে, তবে বয়স যে তাদের জন্য নিছকই একটি সংখ্যা, জীবনের নার্ভাস নাইনটিজে দাঁড়িয়ে তারা দুজন তা-ই প্রমাণ করেছেন।

গার্ট্রুড মকোটোফ এবং অ্যালভিন মান। প্রথম ব্যক্তি গত ২০ আগস্ট জীবনের ৯৯ তম বসন্তে পা দিলেন। দ্বিতীয়জন তার তুলনায় যথেষ্ট তরুণ, জীবনের ৯৪ তম বর্ষ পার করছেন বর্তমানে। এই বুড়োবুড়ির প্রথম দেখা আট বছর আগে, নিউইয়র্কের মিডলটাউনের এক জিমে। প্রতি সপ্তাহেই দুবার করে সে জিমে যেতেন মান, সেদিনও গিয়েছিলেন। সেখানেই এক বন্ধু মানকে বলেন, ‘এক সুন্দর মেয়ে তোমার সাথে দেখা করতে চান।’

প্রথম ডেটের দিনটি এলভিন মান এখনও মনে করতে পারেন। স্থান ছিলো মিডলটাউনের এক রেস্তোরাঁয়। যেখানে তারা গিয়েছিলেন মানের গাড়িতে চড়ে। ওহ, গাড়িটি সেই ৯০-ঊর্ধ্ব যুবক মানই ড্রাইভ করেছিলেন। প্রথম দেখায় কেমন লেগেছিলো একে অপরকে? মিস মান বলেন , ‘ও ছিলো নিপাট ভদ্রলোক’, আর মিস্টার মান? প্রথম দর্শনেই বোধহয় প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন ললনার। তিনি বলেন, ‘প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিলো, ওর ভেতর কিছু একটা আছে।’

এরপর আর খুব বেশিদিন লাগেনি একে অপরের কাছে আসতে, একজনের অপরজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে এবং একসাথে বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্তে পৌঁছতে।

ব্যবসায়ী হয়ে এদেশ-ওদেশ ঘুরে বেরিয়ে মান তখন অবসন্ন। ব্যবসার জন্য কলেজের পাঠও চুকাতে পারেননি যথাসময়ে। অন্যদিকে, তার চেয়ে বছর পাঁচেকের বড় মকোটফ তখন মিডলটাউনে তার নিজের ডিজাইন করা বাড়িতে বসে জীবনের শেষদিনগুলো গুনছেন। দুজনের পরিচয় তখনই।

দুজনের প্রণয়ের দিনগুলো কেমন ছিলো? ‘এক বুড়ির সাথে প্রেম করার জন্য আমাকে সবসময় খোঁচা খেতে হতো’, মুখে এ কথা বললেও মিস্টার মানের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি বলছিলো, এ খোঁচা তিনি উপভোগই করেন। পরের কথাটিই সে হাসির পক্ষে সাফাই গায়, ‘বয়সের পার্থক্যটি আমাকে কখনোই উদ্বিগ্ন করেনি কারণ আমি তাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়তে চাইনি।’

দিন পেরিয়ে মাস যায়। মাস পেরিয়ে বছর। বুড়োবুড়ির প্রেমের সম্পর্ক গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়। এর মাঝেই, এক সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর মটোকফ বলে বসেন, ‘বিয়ে করবে আমায়?’ (সেদিনের এমন ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষার কারণ কি ছিলো, মটোকফ খোলাসা করেন আজ, ‘আমি তার পেছন পেছন দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম।’)

অতঃপর ৫ আগস্ট, মিডলটাউন সিটি হলে মিস্টার মান মকোটফকে মিসেস মানে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। যেখানে মিডলটাউনের মেয়র জোসেফ ডি স্টেফানো এবং পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিলিয়ে ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। তবে, এত অতিথির ভিড়ে মকোটফের আফসোস থাকলেও থাকতে পারে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী কনের বড় ভাই, ব্রাউন ফক্স সেদিন উপস্থিত থাকতে পারেননি। যদিও তার ছোট বোনকে তিনি শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করেননি। এর মাঝেই, হাতে সাদা গোলাপের তোড়া, চোখে জল নিয়ে কনে তার হবু বরের সামনে এসে যখন দাঁড়ালেন, গিটারিস্টের গিটারে বাজতে থাকা ‘সামহোয়্যার ওভার দ্য রেইনবো’ গানটি খুব যাচ্ছিলো। পুরাতন আদালত কক্ষে উপস্থিত বাকিরা অবশ্য খুশিই ছিলো বেশ।

হাতে হাত রাখার ওই মুহূর্তে কেমন লাগছিলো মকোটফের? ‘জন্মদিনের উপহার যেন জন্মদিনের আগেই হাতে চলে এসেছে, আমার তখন এমনই লাগছিলো,’ মটোকফের লাজুক স্বীকারোক্তি।

বিয়ের পরে, আগস্টের ২০ তারিখে ছিলো তার ৯৯তম জন্মদিন। ওইদিনে নববিবাহিত এই যুগল একত্রেই জন্মদিনের কেকের মোমবাতি নিভিয়েছেন। দিনটি বিশেষ করতে, জন্মদিনের কেকের উপর ৯৯ টি মোমবাতি ছিলো। চল্লিশ পেরোলেই চালশে, মটোকফের বেলায় এই মন্তব্য অন্তত খাটে না। তার মতে, ‘৯৯, কেবলই একটা সংখ্যা।’ বোঝাই যাচ্ছে, বয়স তাদের মানসিক দৃঢ়তাকে এখনো গ্রাস করতে পারেনি।

মিঃ মান হাসতে হাসতে বলেন, ‘মানুষ প্রায়সময়ই আমাদের জিজ্ঞাসা করে আমাদের তারুণ্যের রহস্য কি। অবশ্যই, এর পেছনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছুটা হাত রয়েছে কিন্তু আমাদের চিন্তাহীন জীবন যাপন করা আমাদের এই চিরতরুণ জীবনে ভূমিকা রেখেছে বলে ভাবি। আমরা দুজনই এমন কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকি, যা আমাদের পরস্পরের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হবে।’

তিনি মনে করেন, একজন মানুষ তখনই বৃদ্ধ হতে শুরু করেন যখন ওই ব্যক্তি নিজেকে বুড়ো ভাবতে শুরু করেন। অন্যথায়, বয়স কিছু সংখ্যা যোগ করা ছাড়া আর কোনো প্রভাবই ফেলে না। তা নিজের ভাষায়, ‘বয়স বাড়াকে আমার কাছে কখনও নেতিবাচক কিছু বলে মনে হয় না। আদতে, আমরা দুজনই এটিকে বাধা হিসাবে দেখি না। আমরা এখনও আমাদের জীবনে লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে চাই।’ বোঝাই যাচ্ছে, মিডলটাউনের প্রাক্তন মেয়র মটোকফ এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী মিঃ মান কেবল জিমে একজন আরেকজনকে চোখের দেখা দেখেননি, বরং তাদের উদ্দেশ্যগুলোকেও একবিন্দুতে মিলিয়ে নিয়েছেন।

গার্ট্রুড মকোটফের পূর্বের জীবন

১৯১৮ সালে ব্রুকলিনে এনা ফক্স এবং আব্রাহাম ফক্সের ঘরে মটোকফ জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় ফক্স দম্পতি ছিলেন দরজী। ব্রুকলিন কলেজ থেকে মটোকফ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং কলম্বিয়া কলেজ থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৪১ সালে ২৩ বছর বয়সে ম্যানহাটনের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রূবেন মকোটোফকে বিবাহ করেন। ম্যানহাটনে সুবিধা করতে না পেরে, ১৯৫২ সালে তারা মিডলটাউনে চলে যান এবং রুবেন সেখানে হার্ট স্পেশালিষ্ট হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। দাম্পত্যজীবনে তারা চার সন্তানের পিতামাতা হবার সৌভাগ্য লাভ করেন।

একই সময়ে, মিস মটোকফ মিউডলেটনে অরেঞ্জ কাউন্টির কমিউনিটি কলেজে জীববিজ্ঞান অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন যেখানে তিন দশকেরও বেশি সময় অধ্যাপনা করেন। এখন তিনি সে বিভাগের একজন সম্মানিত ট্রাস্টি। অধ্যাপনাকালে, চার সন্তানকে মানুষ করার মতো কঠিন কাজের পাশাপাশি তিনি ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি টেকনিশিয়ান বিষয়ে প্রথমবারের মতো ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করেন।

ষাটের দশকের শেষদিকে অধ্যাপনা থেকে অবসর গ্রহণ করে, মকোটফ রাজনীতির মাঠে নামেন এবং দুইবার মিডলটাউন শহরের নগরমাতা নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দ্বিতীয় নির্বাচনটি তিনি ন্যূনতম ব্যবধানে জিতেছিলেন।

পরবর্তীকালে তিনি সিটি কাউন্সিলের সভাপতি পদে দাঁড়ান এবং ১৯৮৯ সাল তিনি মিডলটাউনের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন। তখন তার বয়স ছিলো ৭১ বছর। এখানেই শেষ নয়, তিনি পরপর দুইবার এই পদে নির্বাচিত হন। (পরে যদিও তিনি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটার পদে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।)

মেয়র হিসাবে, তিনি শহরে একটি আধুনিক গ্রন্থাগারের নির্মাণ করেন। এছাড়াও ত্রিশের দশকে নির্মিত পুরানো প্যারামাউন্ট থিয়েটার সংস্কার করেন। ২০০২ সালে তার স্বামীর মৃত্যুর আগে তারা ৬১ ​​বছর ধরে দাম্পত্যজীবনে আবদ্ধ ছিলেন।

‘আমার মা সবসময় খুব সাহসী মহিলা ছিলেন’, মা সম্পর্কে মটোকফ দম্পতির বড় মেয়ে সুসান মকোটোফ রিভারবি (৭১) এমনটিই বলেন। ওয়েলেসলির নারী ও লিঙ্গ গবেষণায় ৩৪ বছর কাটানোর পর যিনি অবসর গ্রহণ করেন।

‘তিনি সবসময় অন্যদের সাহায্য করার জন্য উৎসাহী ছিলেন, মিডলটাউন রিপাবলিকান অধ্যুষিত শহর হলেও একজন ডেমোক্র্যাট হিসেবে তিন মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা আপনাকে এখানকার মানুষরা তার সম্পর্কে কেমন মনোভাব পোষণ করে সে ধারণা দেয়।’ মেয়ের বলা কথাগুলো যে মোটেই বাহুল্য নয় তা তো এ তথ্যেই পরিষ্কার।

মি. মানের পূর্বেকার জীবন

মি. মান ২৪ মে, ১৯২৩ সালে ম্যানচেস্টার শহরের ম্যা মান এবং হায়ম্যান মানের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স যখন ১৯ বছর, তখন তিনি ২য় বিশ্বযুদ্ধে বিভিন্ন কার্গো জাহাজ, সৈন্যজাহাজে দ্বিতীয় প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। সময়টা ছিলো ১৯৪৩ সাল।

‘ওটি বেশ ভীতিকর সময় ছিলো। আমাদের চারপাশের অন্যান্য জাহাজগুলো ডুবে গিয়েছিল। আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন ছিলাম যারা কিনা ঘরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছিল।’

১৯৪৭ সালে তিনি বেশ সম্মানের সাথে মুক্তি পান, এর মধ্যেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অতঃপর তিনি ম্যানহাটানে অস্থায়ী অফিস সার্ভিস ইনকর্পোরেটেড নামে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন যারা অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদে সচিব এবং করণিক সাহায্য প্রদান করছিলো।

১৯৬০ সালে মি. মান কাডেকব্যাকভ্যালিতে ক্যাটস্কিল পর্বতমালার পাদদেশে তার গ্রামের বাড়ি কিনে নেন। মিঃ মানের কাছে যা ‘একখণ্ড স্বর্গ।’

মিঃ মানের প্রথম বিয়ের ২০ বছর পরে তার স্ত্রীর সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে মার্ক জন নামে তার এক সন্তানও জন্ম নেন। তার বয়স এখন ৭১ বছর।

তাঁর ঘরে দ্বিতীয় বধূ হয়ে আসেন মেবেল কার্ট। যিনি পেশায় একজন শিল্প ইতিহাসবিদ ও শিল্পী ছিলেন। ২০০৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪৫ বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবন অটুট ছিলো। এই দম্পতির ঘর আলো করে এসেছিলো দুই মেয়ে।

গত বছর মিঃ মান মাউন্ট সেন্ট মেরি কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে গ্রাজুয়েট হবার গৌরব লাভ করেন। কলেজটি গত মে মাসে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে ৮০ মাইল পথ ভ্রমণ করেন কেননা ডিগ্রি অর্জন করতে তার ৩০ ক্রেডিটের প্রয়োজন ছিলো, গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে তিনি যা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। তখন ফ্লারের তকাইস্টাতে তার আরেকটি বাড়ি ছিলো। সেখানে, আপ পাম বীচ স্টেট কলেজ থেকে ৬০ টি ক্রেডিট এবং ফ্লোরিডা এটলান্টিক ইউনিভার্সিটিতে ৩০ টি ক্রেডিট লাভ করেন। শেষতক, মাউন্ট সেন্ট মেরি কলেজ থেকে তিনি তার গবেষণা কাজ শেষ করেন।

‘আমরা বিশ্বযুদ্ধের দ্বিতীয় এবং ভিয়েতনাম এবং কোরিয়ার যুদ্ধের মত অনেক ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি অধ্যয়ন করেছি, কিন্তু এই বিষয়ে তো আসলেই আমি বাস করছিলাম,’ মিঃ মান বলেন। ‘তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে আমি আমার অধিকাংশ পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হয়েছি।’

গত ২০ বছর ধরে মিঃ মানের প্রতিবেশী কিথ শিলার তাকে ‘একজন অনুপ্রেরণাদায়ী এবং একইসাথে একজন অবিশ্বাস্য মানব’ বলে ডাকেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি যা করে চলেছেন, তাতে আপনিও তাকে সে নামে ডাকতে বাধ্য।

‘লোকটা ৯৪ বছর বয়সী এবং আপনি তাকে বাহিরে গাছ কাটা, গুড়িগুলো টেনে তার পুরানো ফোর্ড ট্র্যাক্টরের সঙ্গে যুক্ত করা, আগুন জ্বালানো, ঘাস কাটার মতো কাজ করতে দেখবেন। আপনি তাকে এবং মটোকফকে দৌড়াতে দেখবেন। যখন তারা দৌড়োন, আপনার মনে হবে যেন কোনো স্কুলের কিশোর-কিশোরীরা দৌড়াচ্ছে। সপ্তাহান্তে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ড্রাইভিং, হাতে হাত রাখা, চুম্বনের মতো স্বর্গীয় দৃশ্যগুলো আপনি যদি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না।’

আজ শুভ বিবাহ

আট বছরের প্রেমের সম্পর্কের পরে, অবশেষে এ বছরের ৫ আগস্ট তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৭ সন্তান, ১২ নাতি-নাতনি আর ৭ গ্রেটগ্রান্ডচাইল্ড নিয়ে সাতপাকে বাধা পড়েন তারা দুজনে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের সময়, মিঃ মান তাদের প্রেমের নানা মজার ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন। ‘একদিন আমরা একসঙ্গে পুরোটা দিন কাটিয়েছিলাম, রাতে তার শোবার ঘরও গুছিয়ে দিলাম। তারপর আমি শুভ রাত্রি বলে অন্য রুমে হাঁটা ধরলাম,’ এতটুকু বলে মি. মান থামেন। তারপর? – ‘তারপর আমার দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে বলল, তুমি কোথায় যাচ্ছো?’ সেদিন তো যেতে দেননি-ই বরং বাকি জীবনও বেঁধে রাখার কাজ করেছেন গত ৫ আগস্ট।

ধর্মীয় রীতিনীতি এবং আংটি বদলের পরে এই বর্ষীয়ান দম্পতি শুভেচ্ছা এবং আলিঙ্গনের জোয়ারে সিক্ত হন।

 

কয়েকজন অতিথিকে তো কাঁদতেও দেখা যায়। এই ক্রন্দনের কারণ ব্যাখ্যা করেন মেয়র ডি. স্টেফানো, যিনি একইসাথে মিস মকোটফের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাও। মিঃ মান এবং মিস মকোটফকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী ঘোষণা করার পূর্বে তিনি বলেন, ‘দুই বৃদ্ধের প্রেমের প্রগাঢ়তা সবার হৃদয় এতটাই ছুঁয়ে গেছে যে চাইলেও অনেকে জল আটকে রাখতে পারেননি। এখনও একে অপরের প্রতি তাদের চোখের সুতীব্র চাহনি দেখলে যে কারোরই মনে হতে বাধ্য, বোধহয় তারা পরস্পরকে এই প্রথম দেখছেন।’

অনুষ্ঠান শেষে, মান সিটি হলের পেছন দরজা খুলে বেরিয়ে যান এবং অতিথিদের বিস্ময় উপহার দিয়ে পরমুহূর্তেই তার লাল রঙের টয়োটা করলা নিয়ে অতিথিদের সামনে হাজির হন। গাড়ির বাম্পারে লেখা ছিলো, ‘সদ্য বিবাহিত’। ওই গাড়িতে করেই নববিবাহিতাকে নিয়ে তিনি সিটি হল ছেড়ে যান।

বিয়ের আয়োজন কেমন ছিলো তা আঁচ করা যায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শাস্ত্রীয় গিটারবাদক চার্লস মকোটফের কথায়, ‘অবিশ্বাস্য।’

সিটি হল ত্যাগ করে, দম্পতি এবং উক্ত অনুষ্ঠানের অতিথিরা পরিকল্পনামাফুক জন হার্ভেস্ট ইন হোটেলে ওঠেন। সেখানেই রাতের খাবারের ব্যবস্থা ছিলো।

ডিনারের পরে মানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তার জীবনে বিয়ের পরে কি কি বদল আসতে পারে?

তিনি বললেন, ‘কিছুই বদলে যাবে না। আমরা ইতিমধ্যেই একসঙ্গে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছি এবং আমরা দুজনই জানি আমরা কি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারি এবং আমাদের দুজনকেই তা মোকাবিলা করতে হবে। এ-ও জানি যে, হয়তোবা আমরা একে অন্যের দেখা খুব বেশিদিন পাবো না। তাই এখন থেকে, এই মুহূর্ত থেকে, যে কয়দিন বেঁচে আছি, সে কয়দিন কেবলই আমার আর ওর, আমাদের, দুজনের।’

শেষ কথাগুলো বলার পরে, মি. মানের ঠোঁটের কোণে এক আশ্চর্য হাসি খেলা করছিলো। ওর সঙ্গ খুব বেশিদিন পাবো না, সে আক্ষেপেই বোধহয়। তবে, শতবর্ষের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দুই বুড়োবুড়ি যে প্রেমের মালা গেঁথেছেন, তাতে এযুগের লাইলী-মজনু কিংবা শিরি-ফরহাদের স্বীকৃতি তাদের পাওনাই।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।