পাঠাও: একটি ব্যাতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ

অভিজ্ঞতা ১

আমার অফিস সাইন্সল্যাবে। পৌঁছাতে হয় সকাল ১১টার মধ্যে। কিন্তু, মনিপুরি পাড়ার বাসা থেকে বেরই হলাম ১০ টা বেজে ৪০ মিনিটে। এবার উপায় কী! পাঠাওয়ে কল করলাম, পাঁচ মিনিটের মধ্যে রাইডার আসলো। তুখোড় রাইডার। ফলাফল, ১০ টা ৫৯ মিনিটে অফিসের গেটে পৌঁছালাম। যা চার্জ আসলো সেটা সিএনজির তুলনায় খুবই সামান্য।

অভিজ্ঞতা ২

একটা পারিবারিক দাওয়াতে যেতে হবে। সেই গুলশানে। অফিস শেষ করে কোনোক্রমে বের হয়েই ডাকলাম পাঠাও। ব্যস, ২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। চাকরীও বাঁচলো, সামাজিকতাও রক্ষা হল।

অভিজ্ঞতা ৩

আরেকদিনের কথা। অফিস থেকে বের হতে অনেক দেরী হল। ওই সময় কোনো বাসে ওঠা আর পানিপথের যুদ্ধ করা একই ব্যাপার। এবারো ত্রাণকর্তা সেই পাঠাও। দ্রুততম সময়ে চলে আসলাম বাসায়।

__________

জানজটের নগরীতে এই তিনটা প্রায় অসম্ভব ঘটনার সম্ভব হয়েছে তিন বন্ধুর অনন্য একটি উদ্যোগের সুবাদে – ‘পাঠাও: মুভিং বাংলাদেশ’। তিনজনের কেউই বড় কোনো ব্যবসায়ী নন, যখন শুরু করেছিলেন তিন জনই ছিলেন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট।

তারা হলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হুসেইন মো: ইলিয়াস, রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সিফাত আদনান ও যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাহিম সালেহ। প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে ২০০৫ সালে। সেই হিসেবে সফলতার দু’টি বছর কাটিয়ে ফেললেন তারা।

সিফাত ও ফাহিম দু’জনই কম্পিউটার সাইন্সে পড়াশোনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ফাহিম এমন একটা উদ্যোগের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে লাভের চেয়ে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, শহরগুলোতে ভোক্তাদের নানা রকম পণ্য সরবরাহ করা যায় একটা ই-কমার্স ভিত্তিক কিছু একটা করা। তবে, উদ্যোগটি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় মোটরসাইকেল সার্ভিসভিত্তিক স্মার্টফোন অ্যাপ শুরু করার পর। সেটা চালু হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে।

আর এই একটা পরিকল্পনাই করে বাজিমাৎ। ঢাকা শহরে আছে এখন প্রায় চার লক্ষ্য বাইক। আর এর মধ্যে পাঠাও-এর আওতাধীন বাইকের সংখ্যা ক্রমাগতেই বাড়ছে। সার্ভিসটি চালু হয়েছে চট্টগ্রামেও। জানজটের দেশে স্বস্তির নি:শ্বাসটা আস্তে আস্তে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

তিন উদ্যোক্তা

বাজারে নতুন মোটরসাইকেল আসছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিনই নতুন নতুন বাইক নিয়ে আসছে। তাদের বিক্রি-বাট্টাও ভাল। আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে পাঠাও। আর নি:সন্দেহে বলা যায়, যতদিন যাবে তাদের আওতাধীন বাইকের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে।

গত সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন আছে তিন লক্ষ্য রাইডার ও ভোক্তা। গো-জেক ইন্দোনেশিয়ার একটি জনপ্রিয় বাইক সার্ভিস। তাদের রেজিস্টারকৃত ড্রাইভারের সংখ্যা দুই লাখ। তবে, ভোক্তা সংখ্যার দিক থেকে এই গো-জেককে ছাড়িয়ে গেছে পাঠাও।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।