পর্দার হিরো, বাস্তবের সুপার হিরো

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের জনপ্রিয় চার নায়ক মারা গেছেন খুবই অল্প বয়সে। জাফর ইকবাল, সালমান শাহ ও মান্নার সাথে তৃতীয় জন হলেন নায়ক জসিম। ১৯৯৮ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন তিনি।

নায়ক বাংলা ছবিতে এসেছিলেন ভিলেন হয়ে। তবে, পরবর্তীতে জনপ্রিয় হয়েছিলেন অ্যাকশন নায়ক হিসেবে। সাধারণ মানুষের কাছে নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন অন্যরকম এক ব্যাপার।

তার পুরো নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। প্রয়াত জহিরুল হকের ‘রংবাজ’ ছবিতে খলনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন জসিম। সেটা ১৯৭৩ সালের ঘটনা। একই পরিচালকের পরিচালনায় ‘সবুজ সাথী’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই থেকে শুরু হয় নায়ক হিসেবে তার যাত্রা।

যদিও, বাস্তব জীবনে তিনি আগে থেকেই তিনি ছিলেন সুপার হিরো। দেশের স্বাধীননার জন্য যুদ্ধ করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের দুই নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের অধীনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।

ক্যারিয়ারে তার প্রথম আলোচিত ছবি দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত-দুশমন’। এটা মূলত সারা জাগানো হিন্দি সিনেমা অমিতাব বচ্চন ও ধর্মেন্দ্রর ‘শোলে’র রিমেক। সেই সিনেমাতে তিনি ‘গাব্বার সিং’য়ের চরিত্রে কাজ করেন। সেই অভিনয় মুগ্ধ করেছিল খোদ বলিউডের আমজাদ খানকেও।

জসিমের মৃত্যুর পর সেই শোক কাটিয়ে ওঠাটা সহজ ছিল না ঢালিউডের। এফডিসিতে একটা ফ্লোরের নামকরণ হয়েছিল তার নামে। সিনেমা জীবনে নানারকম চরিত্রে কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন জসিম।

জমিসই একমাত্র নায়ক যিনি একই সাথে নায়িকা শাবানার ভাই ও প্রেমিকের ভূমিকায় কাজ করেছেন। শাবানা ‘সারেন্ডার’ ছবিতে জসিমের বিপরীতে কাজ করেন। আবার ‘অবদান’, ‘মাস্তান রাজার’ মতো ছবিতে জসিমের বড় বোন হয়েছিলেন।

বলা হয়, নায়ক রিয়াজের আবিস্কারক এই জসিম। ১৯৯৪ সালে রিয়াজ চাচাতো বোন ববিতার সাথে বিএফডিসিতে ঘুরতে এসেছিলেন। তখনই রিয়াজকে পছন্দ হয় জসিমের। জসিম তাকে ইন্ড্রাস্টিতে আসার প্রস্তাব দেন। ১৯৯৫ সালে জসিমের সাথে ‘বাংলার নায়ক’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেন রিয়াজ।

জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবির নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেছিলেন। জসিমের তিন ছেলে – রাতুল, রাহুল ও সামি। তিনজনই গানবাজনার সাথে জড়িত। তিনজনই ভিন্ন ভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডে কাজ করেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।