পর্দার পেছনের সুপারহিরো

সময়ের সেরা পরিচালক? নাকি সর্বকালের সেরা? – আমার সামনে এই দু’টি অপশন কেউ রাখলে আমি অবশ্যই দ্বিতীয়টি বেছে নেবো। তিনি হলেন ক্রিস্টোফর নোলান। তাঁর সম্পর্কে কিছু বলার আগে বেশ আবেগ নিয়ে যখনই বলি তিনি হচ্ছেন আমার প্রিয় পরিচালক, তারপরেই বলার কিছু খুঁজে পাইনা!

আসলে তাঁর এত গুণের মাঝে কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব কিংবা তাঁর পরিচালিত মুভিগুলার মাঝে কোনটা দিয়ে যে আলোচনা শুরু করবো এইটা চিন্তা করতে করতেই সময় চলে যায়। তারপরও তাঁর ব্যাপারে অজানা কিছু তথ্য বলছি এখন।

১. ট্রয় সিনেমা পরিচালনার অফার পেয়েও সেটা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নোলান।

২. নোলান জন্মান্ধ। লাল এবং সবুজ রং দেখতে পান না তিনি।

৩. তার প্রিয় দুইজন পরিচালক হচ্ছেন স্ট্যানলি কুবরিক এবং রিডলি স্কট

৪. তিনি ‘ব্যাটম্যান বিগিন্স’ মুভিটি পরিচালনা করেছিলেন শুধুমাত্র পরিচিতি পাওয়ার জন্য। এর অনেক আগে থেকেই তিনি ‘ইনসেপশন’ মুভিটি বানাতে চাচ্ছিলেন। তবে, টাকার অভাবে পারছিলেন না। তিনি যেহেতু তখন খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না, তাই কেউ বিনিয়োগ করতে চাচ্ছিলেন না।

৫. ক্রিশ্চিয়ান বেলকে নিয়ে পরপর তিনটা মুভি নির্মাণ করেন – ব্যাটম্যান বিগিন্স (২০০৫), দ্য প্রেস্টিজ (২০০৬) ও দ্য ডার্ক নাইট (২০০৮)।

৬. ইনসোমনিয়া মুক্তির পরেই জিম ক্যারিকে নিয়ে হাওয়ার্ড হিউজেসের বায়োগ্রাফি মুভি বানাতে চাচ্ছিলেন। এর জন্য নোলান নিজেই স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন। নোলানের মতে এটি ছিলো তার লেখা বেস্ট স্ক্রিপ্ট। কিন্তু, মার্টিন স্কোরসেজি তখন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকে নিয়ে ‘দ্য এভিয়েটর’ মুভিটি বানিয়ে ফেলেন।

৭. তিনি তাঁর কলেজ লাইফে ইংরেজি সাহিত্যের উপর পড়াশোনা করেছেন

৮. নোলানের প্রিয় ১০ টি মুভি হচ্ছে – ২০০১: অ্যা স্পেস অডিসি (১৯৬৮), দ্য ব্ল্যাক হোল (১৯৭৯), ব্লেড রানার (১৯৮২), চায়নাটাউন (১৯৭৪), দ্য হিচার (১৯৮৬), লরেন্স অব আরব (১৯৬২), অন হার ম্যাজেস্টি’স সিক্রেট সার্ভিস (১৯৬৯), স্টার ওয়ার্স (১৯৭৭), দ্য ম্যান হু উড বি অ্যা কিং (১৯৭৫) ও টপক্যাপি (১৯৬৪)।

৯. নোলানের প্রিয় ব্যান্ড হচ্ছে রেডিওহেড।

১০. জেমস বন্ড এর বড় ভক্ত নোলান। বন্ড সিরিজে তার প্রিয় সিনেমা হচ্ছে অন হার ম্যাজেস্টি’স সিক্রেট সার্ভিস।

১১. নোলান সিজিআই-এর ঘোর বিরোধী। তার মুভিগুলায় সিজিআই ব্যবহার করতে চান না তেমন প্রয়োজন না হলে।

১২. সিনেমা নিয়ে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই। আসলে তিনি প্রমাণ করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চাইতে ব্যবহারিক জ্ঞান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১৩. চা পান করতে খুব পছন্দ করেন নোলান। সেজন্য সবসময় ফ্লাস্কে চা নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

১৪. ইন্টারনেটের এই বিপ্লবের যুগেও তাঁর নিজস্ব কোনো ইমেইল আইডি নেই।

১৫. কোনো সিনেমা বানানোর আগে তিনি তার বাবার পুরান টাইপরাইটারে নিজে বসে স্ক্রিপ্ট টাইপ করেন।

১৬. পোশাকের ব্যাপারে তার কোনো ফ্যাশন নেই। সাধারণত এক পোশাক পরেই সারাদিন থাকতে পছন্দ করেন নোলান।

১৭. নোলান একবার বলেছিলেন, তিনি সব সিনেমাকে তার শেষ সিনেমা ভাবেন। এজন্য চলচ্চিত্র নির্মানের ক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রকার ছাড় দেন না।

১৮. নোলান তাঁর স্ক্রিপ্ট থেকে বেশি দূরে থাকতে পছন্দ করেন না। কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রীকে স্ক্রিপ্ট পড়তে দিলে তিনি পাশের রুমেই অপেক্ষা করেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।