পরিত্যক্ত বাসই যখন শান্তির আবাস!

টেক্সাসের তরুণ দম্পতি ক্রিস্টোফর স্টল ও টরি এডওয়ার্ডস। ১৯৮৮ সালের একটা জীর্ন একটা বাস যখন তারা কিনে বসলেন, তখন কম বিদ্রুপের শিকার হতে হয়নি তাদের। আজ যখন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বাসেই নিজেদের শান্তির আবাসের ছবি তারা পোস্ট করেন তখন রীতিমত অবাকই হতে হয়।

গীর্জার কাজে ব্যবহৃত পুরনো বাসটি তারা কিনেছিলেন এক হাজার ডলারে। পুরনো, চূর্ণ-বিচূর্ণ বাসের পেছনে এরপর তারা আরো ১০ হাজার ডলার ঢালেন। ব্যস, তাতেই পরিত্যক্ত বাসটি হয়ে ওঠে শান্তির আবাস।

প্রথমে বাসের আবর্জনা পরিস্কার করাই ছিল স্টল ও টরির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই জং ধরা, তার ওপর এখানে-সেখানে পাখির বাসা। দিনরাত খেটে নিজেরাই পরিস্কার করে ফেলেন।

এরপর শুরু হয় অন্দরমহল সাজানোর প্রক্রিয়া। শোবার জন্য আলাদা ছোট দু’টো বিছানা বানানো হয়, বিদ্যুতের জন্য বসানো হয় সোলার প্যানেল। নতুন ইঞ্জিন বসাতেই খরচ হয় সাড়ে তিন হাজার ডলার।

পুরো কর্মযজ্ঞ শেষ হতে সময় লাগে চার মাস। এখন তাদের আ-বাস বেশ পরিপাটি। তাতে করেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমেরিকা। কোনো কাজ থাকলে বাসাসহ গিয়ে হাজির হচ্ছেন। ইন্সটাগ্রামে বাসার ভেতরের নানা রকম ছবি পোস্ট করছেন। ফলোয়ার, বন্ধুবান্ধব বিস্ময় নিয়ে দেখছেন। বলছেন, ‘এও কী সম্ভব!’

স্টল বলেন, ‘আমাদের অঢেল অর্থকড়ি নেই। তাই আমরা বাসটাকেই নিজেদের বাড়ি বানিয়ে নিয়েছি।’

ঘরটাই এখন তাদের স্টুডিও। ইন্টেরিওর আর্টিস্ট নিজেদের বাড়িতে বসেই কাজ করেন। স্টল বলেন, ‘আমি আইপ্যাডে লিভিং কনসেপ্ট আকি। টরি এডিট করে। আমাদের কাজ করার প্রফেশনাল টেবিল নেই।’

দারুণ এক লাইফস্টাইল। এই দম্পতির মত যাযাবর জীবনযাপন করে দেখবেন নাকী?

– ডেইলি মেইল অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।