পরিকল্পনায় গলদ, পরিকল্পনাহীনতা নাকি তামাশা?

প্রথম টেস্টের টসের পর ফাফ ডু প্লেসিস বিস্মিত হয়েছিলেন। এবার মজা পেলেন। বললেন, এই উইকেটে ১০ বার টসে জিতলে, অন্তত নয়বার ব্যাটিং নিতেন তিনি। নিন্দুকেরা বলতে পারেন, আজ টসে জিতে বোলিং নিলেন, বাকি নয় বার ব্যাটিং নিবেন।

হ্যা, কালক্রমে মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে এমন হাস্যরসাত্মক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তিনি ও তার অধিনায়কত্ব এক একটা তামাশার ব্যাপার। সবাই মজা নিয়ে যায় একটু।

সেটা প্রতিপক্ষের অধিনায়ক করেন, ফেসবুকের আমজনতা করেন, কমেন্ট্রি বক্সে ধারাভাষ্যকাররা ধুয়ে দেন। পত্র-পত্রিকা-অনলাইনে সাংবাদিকরা লিখে ফাটিয়ে ফেলেন।

তারপরও মুশফিক নিজের সিদ্ধান্তে (বলা ভাল তামাশায়) অটল থাকেন।  মুশফিকের পরিকল্পনায় গলদ ছিল প্রথম টেস্টে, এবার মনে হচ্ছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই মাঠে নেমেছেন আর টস জিতে বোলিং নিয়েছে।

ব্লুমফন্টেইনের এই উইকেটে ঘাস আছে। সতেজ নয়, মরা-মরা। আস্তে আস্তে পেস বান্ধব থেকে এই উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে। পেসাররা তাই নি:সন্দেহে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পাবেন প্রথম দিনে, আরো নির্দিষ্ট করে বললে প্রথম সেশনে।

তাই এবারে টস জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা প্রথম টেস্টের মত ‘মহাভুল’ নয়। বরং সাহসী পদক্ষেপ। তবে, সেই সাহসী সিদ্ধান্তকে সঠিক সিদ্ধান্তে পরিনত করার একটা পরিকল্পনা দরকার। সেটা মুশফিকের ছিল কি? যদি থাকে তাহলে তো আর ছয় ওভারের মধ্যে চার বোলার ব্যবহার করার কথা নয়!

আর টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম সেশনে এই মাত্রায় হাফ ভলি আর ফুলটস যদি দেওয়ার হয় তাহলে টস জিতে ফিল্ডিংকে বাজে সিদ্ধান্ত নয়, পরিকল্পনাহীনতার ফলাফলই বলা যায়। নিজেদের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মত দল এই সুযোগটা হেলায় হারানোর পাত্র নয়।

তাই তো, প্রথম ২৫ টা ওভার কোনো সামান্যতম বিপদ ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার। রান রেট ৪-এর ওপর।

এগেইন, ওয়েলকাম টু টেস্ট ক্রিকেট মিস্টার মুশফিকুর রহিম! এই তামাশা আর কত?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।