নো ফিয়ার, নো স্টান্টম্যান

রুপালী পর্দায় কোনো স্টান্টম্যানের সাহায্য ছাড়াই অনেক অসম্ভব লড়াই জিতে যেতে আমরা দেখেছি তাকে। অ্যাকশন-কমেডি অভিনেতা, অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার, মার্শাল আর্টিস্ট, চলচ্চিত্র প্রযোজক-প্রযোজক, চিত্রনাট্য লেখক, উদ্যোক্তা, কণ্ঠশিল্পী, ও স্টান্ট পারফর্মার – পাঠকরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে ফেলেছেন কার কথা বলা হচ্ছে।

তিনি আর কেউ নন, ষাট দশক থেকে এখন অবধি প্রায় ১৫০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা, মার্শাল আর্টের কিংবদন্তি জ্যাকি চ্যান। পর্দার মতই বাস্তব জীবনেও তিনি সত্যিকারের এক ফাইটার।

জন্মের পরই জ্যাকির বাবা-মা খুব অর্থকষ্টে ভুগছিলেন। এক ধাত্রীর কাছে মাত্র ২৬ ডলারের বিনিময়ে আর একটু হলেও ‘বিক্রি’ করে দিতে বসেছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা পারফরমারকে।

জন্মের সময় জ্যাকির ওজন ছিল সাড়ে পাঁচ কেজি। মা আদর করে ডাকতেন ‘দ্য ক্যানন বল’। যদিও সাত বছর বয়সেও বাবা-মা কাজের খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। জ্যাকি চ্যান অনেকটা বাধ্য হয়েই হংকংয়ের একটা বোর্ডিং স্কুলে থেকে যান। স্কুলের নাম ছিল পিকিং অপেরা স্কুল। এর আগে স্বাভাবিক পড়াশোনা তাকে দিয়ে চেষ্টা করানো হয়েছিল। তবে, প্রথম দফাতেই ফেল করায় বাবা-মার সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।

পিকিং অপেরা স্কুলে এক মাথা-গরম শিক্ষকের পাল্লায় পড়েছিলেন জ্যাকি চ্যান। বেত দিয়ে পিটিয়ে তিনি রীতিমত জ্যাকি চেনের নাক ভেঙে দিয়েছিলেন। যদিও, ওই হংকংকেই অ্যাক্রোব্যাট, মার্শাল আর্ট ও অভিনয়ের দক্ষতা আয়ত্বে নিয়ে আসেন।

গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই সাতটি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেন তিনি। ১৯৭৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বাবা-মার কাছে চলে যান জ্যাকি চ্যান। ডিকসন কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে থাকেন। সেখানেই সতী্থ রাজমিস্ত্রীরা তাকে জ্যাকি চ্যান নামে জানতেন।

জ্যাকি চ্যান অভিনয়ের ব্যাপারে খুব খুঁতখুতে। একটা দৃশ্য ঠিকঠাক মত ফুটিয়ে তোলার জন্য সেই শট তার হাজার বার নিতেও তার কোনো আপত্তি নেই। একবার একটা শট তিনি ১৬০০ বার নিয়েছিলেন। আর এটা রীতিমত গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পায়।

একই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকায় কাজ করার জন্যও তার নাম আছে গিনেস বুকে। পরিচালক, স্ক্রিপ্ট রাইটার, প্রযোজক, অভিনেতা, ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি, স্টান্ট কো-অর্ডিনেটর, ফুড সার্ভিস কো-অর্ডিনেটর – সব ভূমিকায় একই সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

একবার একটা বিপজ্জনক দৃশ্যে অভিনয়ের সময় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। বাধ্য হয়ে খুলিতে একটা প্লাস্টিক প্লেট বসাতে হয়। তারপরও নিজের দৃশ্যে বরাবরই কোনো স্টান্টম্যান ব্যবহার করেন না জ্যাকি চ্যান। তার অভিনয় জীবনের মূল নীতি হল – ‘নো ফিয়ার, নো স্টান্টম্যান অ্যান্ড নো ইকুয়াল!’

ব্যক্তিগত জীবনে বরাবরই দানশীল জ্যাকি চ্যান। তারপরও বিশাল অর্থ-বিত্ত এরই মধ্যে করে ফেলেছেন তিনি। ২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমান ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।