নোটিশ বিতর্ক ও ৪০ শব্দে পাঁচ ভুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার সীমাহীন গর্ব। ক্ষুদ্র জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন এখানে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়া। এই গর্ব মাঝেমধ্যে অ্যারোগেন্সও উদ্রেক করে।

শুধু শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে গর্ব করার মতো কিছু নেই। পড়াশোনার উৎকৃষ্টতা নিয়ে কখনওই মাথা ঘামাইনি। যার জন্য এত গর্ব তা হলো এর পরিবেশ ও সংস্কৃতি। এ সমস্ত কিছুতেই একটা উদার পরিস্থিতির ভারসাম্য ছিল।

‘ছিল’ বলতে হচ্ছে কারণ যতবারই মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সেটা একত্রে প্রতিহত করেছে। আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগে যারা ক্যাম্পাসে ছিল তারাও এরকম একটি ইতিহাস রচনা করেছেন। আগস্ট বিপ্লব বা আগস্ট প্রতিবাদ বলে যাকে চিহ্নিত করা যায়।

ইদানিং এই ভারসাম্য ক্ষয়ে যাচ্ছে রীতিমতো প্রগতিশীলদের প্রত্যক্ষ নজরদারী এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্বে। এই কথাটা মেনে নিতে অনেকেরই বাধবে।

গতকাল কবি সুফিয়া কামাল হল কর্তৃপক্ষ একটি বেনামী নোটিস দিয়ে জানিয়েছে হল প্রাঙ্গণে মেয়েদের অশালীন পোশাক পরা মানা। শালীনতার মতো একটি স্পর্শকাতর এবং সিরিয়াস বিষয়ের সহজ সমাধানও তারা দিয়েছে। সেটা হলো সালোয়ারের উপর টিশার্ট পরলে সেটা অশালীন। মেয়েদের এরকম পোশাক নাকি হল কর্মচারিদের মধ্যে… ইয়ে যাকগে…

সেই নোটিসের একটি ছবি সংযুক্ত করছি। এটা দেখলেই বোঝা যাবে অশিক্ষিত মূর্খদের একটা কাজ। ৪০ শব্দের একটা নোটিশে ৫ টার মতো ভুল। এবং সেখানে কোন হল তার উল্লেখ নাই এবং কর্তৃপক্ষ কারা সে বিষয়ক কোনো স্বাক্ষর বা সিলও নাই।

ছাত্রীরা যদি এটা নিয়ে হইচই করে তখন কী ঘটবে? তারা সংখ্যায় কম হলে হলের সিট বাতিল হবে। সংখ্যায় আরেকটু বেশি হলে ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক যেটা ঘটবে তা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ফেসবুকে যে গ্রুপগুলো আছে সেখানে তাদের চরিত্র নিয়ে বিশ্রীভাবে অশ্লীল ও কুৎসিত মন্তব্য করা হবে।

আশার কথা হলো, প্রায় বিশ ঘন্টা পরে হল কর্তৃপক্ষ অপেক্ষাকৃত কম ভুলে ভরা আরেকটি নোটিশ দিয়েছে। সেখানে পোশাকের বিধি নিষেধ একটু শিথিল করা হয়েছে। সেই ছবিটিও যুক্ত করা হলো।

আমার সৌভাগ্য আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রগতিশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার দুভার্গ্য তার ডিমাইজ চোখের সামনে দেখছি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।