নেইমারের বার্সেলোনা ছাড়ার নেপথ্য কারণ

ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় খেতাব; রোমারিও জিতেছিলেন ১৯৯৪ সালে, রোনালদো ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ পরপর দুই বছর, পরবর্তীতে আবার ২০০২ সালে জিতেছিলেন। মাঝে ১৯৯৯ সালে রিভালডো, রোনালদিনহো ২০০৪ ও ২০০৫ সালে এবং সর্বশেষ কাকা ২০০৭ সালে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯৪-২০০৭; এই ১৩ বছরের মধ্যে পাঁচজন ব্রাজিলিয়ান আটবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় বা ব্যালন ডি’অর পুরষ্কার না জেতে তাহলে নেইমারের প্রতিভার ঘাটতি আছে বলেই ধরে নেবে সমগ্র ব্রাজিলিয়ানরা। ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বার্সালোনা ছেড়ে সম্ভাব্য গন্তব্য প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসপি। এই দল বদলের অন্যতম কারণ পারফরমেন্স দিয়ে নিজের জায়গা স্থায়ী করে নেয়া।

নেইমারের খেলোয়াড়ি জীবন

সকল সাফল্য গাঁথার সাথে রয়েছে ব্যর্থতার অংশ, যা নেইমারের বেলায়ও হয়েছে!

২০০৯ সালে নাইজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব – ১৭ বিশ্বকাপে নেইমার ছিল বিস্ময়করভাবে ব্যর্থ। নেইমার ও ফিলিপ কুতিনহো দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল দিয়ে ম্যাচ বের করে আনতে পারেননি, যার ফলাফল মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল ১-০ গোলে পরাজিত।

অথচ নেইমার তখন সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান প্রথম বিভাগ লিগ মাতানো উজ্জ্বল তারকা।  এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান, বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনেক প্রতিদন্দ্বীতাপূর্ণ এবং আটলান্টিক পাড়ি দেয়ার পূর্বে নিজেকে আরো তৈরি করতে হবে।

তখন চেলসি নেইমারকে দলে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে কিন্তু তার সিদ্ধান্ত ২০১৩ পর্যন্ত সান্তোসে থাকার। নেইমারের ‘আদর্শ’ রবিনহো ২০০৫ সালে যখন সান্তোস ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেন তখন ধারনা করা হয় নিকট অতীতে রবিনহো বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডের পুরষ্কার জিতবে!

মিডিয়া ব্যাক্তিত্য ও ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার কাসাগ্রান্দ্রে ধারনা করেছিলেন পেলের পরে রবিনহোই হবেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন কিছুর সাক্ষ্য দেয়! রবিনহোর ক্যারিয়ার কখনোই পুরোপুরি প্রস্ফুটিত হতে পারেনি এবং রিয়াল মাদ্রিদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে কেনার জন্য তাকে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে নেইমার ধাপে ধাপে নিজেকে আরো পরিপূর্ণ করে তোলে যার কারনে বার্সালোনার কাছে তিনি হয়ে উঠেন পরম আকাঙ্ক্ষিত তারকা।

মেসির ছায়ায় ঢাকা নেইমার

২০১৩ সালে নেইমার মেসির বার্সালোনায় যোগ দেন। সাবেক ব্রাজিলীয় উইঙ্গার ডেনিলসন প্রায় দুই যুগ আগে রেকর্ড পরিমান সাইনিং মানিতে রিয়েল বেটিসে যোগ দেন, যা তার ক্লাবের জন্য বোঝায় পরিনত হয়। নেইমারের বেলায় তা ঘটেনি বরং মেসির ছায়ায় থেকে খুব দ্রুত ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সাথে মানিয়ে নেয়।

কিন্তু নেইমার মেসির ছায়ায় ঢাকা থাকতে চান না। নেইমার যদি নিজেকে দলের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে প্রমান করতে না পারেন তবে কিভাবে বিশ্বসেরার পুরষ্কার পাবেন?

তাই হয় মেসিকে বার্সালোনা ছাড়তে হবে এবং নেইমার বার্সার আক্রমণের প্রান ভোমরায় পরিনত হতে হবে। অথবা নেইমারকে বার্সা ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু মেসি বার্সার সাথে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যেখানে স্পষ্ট প্রতীয়মান সুদূর ভবিষ্যতেও বার্সার ভরসার নাম মেসি। বার্সা প্রেসিডেন্ট বলেছেন নেইমার দল ত্যাগ করছেন না কিন্তু মিডিয়ায় জোর গুজব পিএজজি নেইমারকে দলে টানার জন্য উদগ্রীব।

এই মৌসুম শেষ হবে বিশ্বকাপ দিয়ে; তখন সামনের জুনে ২৬ বছরে পা দেয়া নেইমার হয়ত থাকবে ফর্মের তুঙ্গে! ফরাসি লীগে সাফল্য পেলে পরবর্তী রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরার জন্য সকল রসদ জমা থাকবে।

নেইমারের বাবা, এজেন্ট এবং উপদেষ্টা সবার একটা কৌশল এবং মতামত আছে কিন্তু বাস্তবতা হলো নেইমার মেসি এবং সুয়ারেজের সাথে বার্সার ফরোয়ার্ড লাইনে নিজেকে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারছে কিনা?

নেইমার বার্সালোনায় মেসির সাথে খেলে অনেক কিছু শিখেছে। তাদের মধ্যে কোন দৈরত নেই অন্যদিকে মেসির মত সেরা তারকাদের সাথে একদলে খেলার সৌভাগ্য তো আছেই। কিন্তু আরও বড় তারকার মনবাসনা নিয়ে আছে নেইমার!

নেইমারের জন্য কোন সিদ্ধান্তটি ভাল আর কোনটি মন্দ হতে পারে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব। মন্দ সিদ্ধান্তটি ত্যাগ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে নেইমার।

– বিবিসি.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।