নেইমার নাকি রিয়াল মাদ্রিদ – কোনটা আগে?

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের ম্যাচটা নিয়ে উত্তেজনার কমতি নেই ফুটবল প্রেমিদের। কিন্তু এরই মধ্যে অনেক সমর্থক পড়ে গেছে বিশাল সমস্যায়। এই ম্যাচে কাকে সমর্থন দেবে তারা।

একটু খুলে বলি।

অতীতে রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদো, রবার্তো কার্লোস এবং রিকার্দো কাকাদের মতো ব্রাজিলিয়ান খেলায় এদেশের রিয়াল মাদ্রিদ ফ্যানবেজের বড় একটা অংশ এসেছে ব্রাজিল সমর্থন করা দল থেকে। অন্যদিকে শুধু মেসিকে কেন্দ্র করে কিংবা অ্যান্টি-ব্রাজিল ভাবধারা থেকে বেশিরভাগ আর্জেন্টিনা ফ্যান সাধারাণত বার্সেলোনা সমর্থন করে আসছে। এটা একেবারে পরিষ্কার একটা ব্যাপার। তবে দুই ক্ষেত্রেই ব্যাতিক্রম আছে অবশ্যই।

নেইমার যখন বার্সায় যোগ দেয়, তখন অনেক ব্রাজিল ফ্যানই হতাশ হয়েছিল এই ট্রান্সফারে। একেতো মাদ্রিদের প্রতি টান, অন্যদিকে বার্সায় মেসির সহকারী হিসেবে খেলা – এই দুইয়ে মিলে ব্রাজিল ফ্যানদের মধ্যে একটা মিশ্র অনুভুতি তৈরি হয়েছিল, কারণ নেইমারই তাদের সেরা খেলোয়াড়। তাই নেইমারের পিএসজিতে গমন ব্রাজিল ফ্যান এবং মাদ্রিদিস্তাদের জন্য দারুন একটা উপলক্ষ্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটি খুব দ্রুতই ব্যাকফায়ার করতে যাচ্ছে তাদেরকে।

আরেকটু গভীরে যাই।

লিগে মাদ্রিদের অবস্থা এমন যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়িয়েছে, অন্যথায় হয়ত ট্রফিশূন্য থাকতে হবে। যেকোন মাদ্রিদ ফ্যানের জন্য এটি মেনে নেয়া কঠিণ। অন্যদিকে নেইমার পিএসজিতে গিয়েছে নিজেকে বিশ্বের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে। তাই যেকোন ব্রাজিল ফ্যানই চাইবে যেন পিএসজি ফাইনাল না হলেও অন্তত সেমিফাইনাল খেলুক এবং ততদুর যেতে নেইমার প্রত্যক্ষ অবদান রাখুক।

কিন্তু মাদ্রিদের সাথে ম্যাচটা হেরে গেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডেই থেমে যাবে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের যাত্রা! গত বছর বার্সার সাথে এখান থেকে বিদায় নেয় ফরাসি জায়ান্টরা – এবারো তাই হলে নেইমার ট্রান্সফারটা তাদের জন্যও খুব লাভজনক হয়েছে বলা যাবেনা। সব মিলে দারুন যন্ত্রনাদায়ক ম্যাচের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল কাম রিয়াল মাদ্রিদ ফ্যানরা।

অবশ্য ম্যাচের ইতিবাচক দিকও আছে। যেদলই হারুকনা কেন দুই ক্ষেত্রেই সেটা আনন্দের উপলক্ষ্য নিয়ে আসবে তাদের জন্য। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ম্যাচ নিয়ে সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকবে আর্জেন্টিনা নির্ভর বার্সা সমর্থকরা। নেইমারের ওইভাবে ক্লাব ছেড়ে যাওয়াটা তারা মেনে নেয়নি। তাই তারা চায়বে সাবেক বার্সা তারকা যেন সফল না হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। আর কোনভাবে যদি পিএসজি জিতে যায় তাতেও কোন সমস্যা নেই, চীরপ্রতিদ্বন্দি রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়ও তারা সমানভাবেই উদযাপন করবে। অবশ্য উল্টাটাও ঘটতে পারে।

ফুটবলে ফ্যানদের মধ্যে এরকম স্নায়ুযুদ্ধ একটা স্বাভাবিক ঘটনা। ম্যাচের চেয়েও অনেকসময় এই ব্যাপারগুলাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এরকম বিশেষ ম্যাচগুলোতে। মানুষের আনন্দ আসে সাময়িক সময়ের জন্য। ফুটবলে বড় সাফল্যগুলো দীর্ঘদিন মানুষের মনে দাগ কাটে।

আর এই ম্যাচগুলো তৈরি করে মজার সব গল্প যেগুলো একসময় রূপ নেয় কিংবদন্তিতে। পিএসজি আর রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচটা কিছু দর্শকদের মধ্যে মিশ্র অনুভুতি তৈরি করলেও এটা নিশ্চিত যে রেজাল্ট যাই হোক – তাদের সবাই খুশি থাকবে ম্যাচ শেষে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।