নীল তিমি গেইম, আত্মহত্যা ও কিছু কথা

ব্লু হোয়েল তথা নীল তিমি গেইমের কারণে অষ্টম শ্রেণীর তরুণীর আত্মহত্যা। কি সুন্দর নিউজ। জানি না খবরটা আদৌ কতটা সত্য। তবে, যদি সত্য হত তাহলে তরুণী কে তো সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষমতা থাকলে আমি তরুণীর বাবা মাকে গিয়ে দু চারটা কথা শুনিয়ে আসতাম।

দুই দিন পর যেই মেয়ের জেএসসি পরীক্ষা তার হাতে এত সময় কেম্নে আসে যে বসে বসে একটা গেইম খেলবে আবার সেটাতে আসক্ত হয়ে আত্মহত্যাও করবে! তার বাবা আবার জানান, গত কিছু বছর ধরে সে এন্ড্রোয়েড মোবাইল ব্যবহার করতো। ওয়াও! কি দারুণ কথা!

সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট বয়স থাকা উচিত। আমার মতে স্কুল পড়ুয়া কোন ছেলে মেয়ের হাতে মোবাইলই দেয়া উচিত নয়। পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য খুব বেশি দরকার হলে এমন মোবাইল দেয়া যেতে পারে যা কেবল কথা বলার কাজেই ব্যবহার করা যাবে।

এখনকার মা বাবাগুলো আধুনিক হওয়ার জন্য যেন উঠেপড়ে লাগে। ক্লাস ২/৩ বাচ্চা কম্পিউটারে গেইম খেলতে খেলতে চোখের ১২টা বাজিয়ে ফেলে। তাতে কি! আধুনিক মা খুব খুশী হয়ে বলবেন, ‘জানেন ভাবী, আমার ছেলে এ বয়সেই কি যে দারুণ খেলে!’

অবশ্য স্কুলে ভর্তি করানোর সাথে সাথেই ‘তোমাকে ফার্স্ট হতেই হবে’ নামক গেইমে তো আমরাই সন্তানদের লাগিয়ে দেই। ৫০ জন অভিভাবকের ৫০ জনই চায় তার সন্তানই প্রথম হবেন। এবং, বাকী ৪৯ জনকে বেলাশেষে শুনতে হয় বিখ্যাত বাণী, “ও কি খাইয়া ফার্স্ট হইলো? ওরে ভাত খাওয়ায় তোরে কি ঘাস খাওয়াই!’

এখনকার বাচ্চাকাচ্চা ঠিকমত দেশের সব জেলার নাম শেখার আগে নায়ক, নায়িকা, গেইমের নাম শিখে। ‘আম্মু একটা গল্প বলতো’ বলার আগেই ‘আম্মু, আমাকে একটু একা থাকতে দাও তো’ বলতে শিখে।

আপনার সন্তানকে নিজস্ব ভুবন দিবেন বেশ ভালো। তবে সেই নিজস্ব ভুবন যদি আপনার ভুবন থেকে অনেক দূরে হয়ে যায় তো মুশকিল। আবেগী বয়সে সন্তান নানান ভুল করতে পারে। কারন সে হয়ত ভালোমন্দের তফাৎ বুঝে উঠেনা কিংবা নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি আগ্রহ খুঁজে পায়। কিন্তু তাই বলে, সন্তান মোবাইলে কি করছে, পিসিতে কি দেখছে, অনেকক্ষণ কেন রুমের দরজা লাগিয়ে রাখছে… এসব ব্যাপারেও খেয়াল রাখবেন না, এটা তো ঠিক নয়!

যে বয়সে আপনার সন্তানের সবাইকে বলা উচিত ‘আব্বু-আম্মু আমার সবচেয়ে প্রিয়’ সে বয়সেই সে হয়ত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, ‘লাইফের প্যারা ভাল্লাগেনা’। এর জন্য দায়ী কিন্তু আপনিই। প্রযুক্তির ব্যবহার উত্তম, অপব্যবহার নয়।

নিজের সন্তানের খেয়াল রাখুন। ভালো বন্ধু হতে চেষ্টা করুন, ভালো শাসক হতে চেষ্টা করুন। তবে, সেটা যেন শোষণ না হয়ে যায়। জীবন এতটা সস্তা নয় যে মানুষের বানানো সামান্য একটা খেলা সেটাকে কেড়ে নিবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।