একটি নিষ্ঠুর ট্রল ও রোনালদোর ইচ্ছাশক্তি

ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার কিংবা ফিফা-ব্যালন ডি’অর – ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই মঞ্চে যাত্রা শুরু করেন সেই ২০০৭ সালে। প্রথমবারের মত সেবার সেরা তিনে জায়গা পেয়েছিলেন, প্রথমবারের মত উঠেছিলেন মঞ্চে।

সেবার জিতেছিলেন ব্রাজিলের কাকা। লিওনেল মেসি দ্বিতীয় ও রোনালদো হন তৃতীয়। এরপর ২০১০ সালকে বাদ দিলে বাকি নয়বারই মঞ্চে উঠেছেন রোনালদো, মেসি অবশ্য উঠেছেন দশবারই।

ব্যালন ডি’অরটা মেসির আগে রোনালদোই অবশ্য জিতেছিলেন। ২০০৮ সালে মেসি-তোরেসদের হারিয়ে তিনি হয়েছিলেন সেরা।

এরপরই শুরু হয় হতাশার গল্প। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২ – টানা চারবার পুরস্কার জিতে নেন মেসি – ফুটবল জাদুকর।

২০১০ সাল বাদ দিলে প্রতিটা বারই রোনালদো ছিলেন মঞ্চে। চোখের সামনে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলারটিকে চলে যেতে দেখেছেন বিশ্বসেরাদের কাতারে।

সেই মুহূর্তের ক্যামেরার খাতিরে হাসি ধরে রেখেছেন, হাতে বাজিয়েছেন তালি। মনে মনে হয়তো আক্ষেপ করেছেন। কারো আত্মবিশ্বাস গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য তো এই মুহূর্তটাই যথেষ্ট।

এখানে শেষ হলেও চলতো। এর সাথে যোগ হল নানা রকম নিষ্ঠুর ট্রল। মেসির হাতে বিশ্ব সেরার পুরস্কার, আর রোনালদোর হাতে ‘হেড অ্যান্ড শোল্ডার’ ব্র্যান্ডের শ্যাম্পুর বোতল – এমন ট্রল আমরা বিস্তর দেখেছি।

নি:সন্দেহে দেখেছেন রোনালদো। চাইলে, তখনই ভেঙে যেতে পারতেন। অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলতে পারতেন। ভাবতে পারতেন, মেসি তো দূর আকাশের তারা। বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করা কি সম্ভব!

কিন্তু, রোনালদো যে নিজেই চাঁদ হতে এসেছেন, এসেছেন বিশ্ব ফুটবলে নিজের সাম্রাজ্য গড়তে। সেখানে মেসির প্রতিভায় ভয় পেলে চলবে কি করে!

রোনালদো যে ভয় পাননি সে সময় তার প্রমাণটা এখন চোখের সামনে।  তিনি সমতায় চলে এসেছেন মেসির। ৪-১ ব্যবধানকে নিয়ে এসেছেন ৫-৫ সমতায়। কিসের জোরে জানেন? কিচ্ছু না, স্রেফ পরিশ্রম।

রোনালদো আরেকবার সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাবান মানুষটিকেও হারানো সম্ভব। যে আপনার থেকে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে আছে তাঁকেও ছুঁয়ে ফেলার স্বপ্ন দেখা সম্ভব, তাকেও হারিয়ে দেওয়া সম্ভব। দরকার শুধু বিপুল ইচ্ছা শক্তির, দরকার পরিশ্রমের, অনুপ্রেরণাটা তখন চলে আসবে আপনা আপনিই।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তাই এখন থেকে অনুপ্রেরণার আরেকটি নাম। যারা আকাশ ছোঁয়া দাম্ভিকতা দেখিয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা করেছিলেন তারা হয়তো জানতেন না, রোনালদো ফিরে আসতে জানেন, ব্যবধান যাই হোক না কেন!

‘খারাপ কিংবা ভালো, যেকোনো সময়ের বিচারেই আমি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। সবার পছন্দের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, কোনো ফুটবলারকে আমার চেয়ে ভালো খেলতে দেখিনি। আমি যা করতে পারি, তা কেউই করতে পারে না। আমার চেয়ে সম্পূর্ণ কোনো ফুটবলার নেই। আমি দুই পায়েই খেলতে পারি। আমি দ্রুত, শক্তিশালী, হেডে ভালো, গোল করি এবং করাই। অনেকেই নেইমার বা মেসির নাম বলবেন, কিন্তু আমি বলছি, কেউই আমার মতো সম্পূর্ণ নয়।’ – মানছি এমন কথা রোনালদোর দাম্ভিকতা।

তবে, এর ক্ষেত্রটা কিন্তু আকাশ থেকে উড়ে আসেনি। তিনি নিজেই নিজের সিংহাসন বানিয়েছেন। এই দাম্ভিকতাকে তাই স্যালুট, স্যালুট রোনালদোর ইচ্ছাশক্তিকে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।