নির্ঘাত ওরা জাদু জানে!

কমেন্ট্রি বক্সে বসা আতহার আলী খানের গলা কাঁপছিল। কিন্তু, তাতে জোর একটুও কমেনি। কাঁপা কাপা জোর গলায় চিৎকার করলেন, ‘নাও লেটস ডু দ্য কোবরা…’ পাশ থেকে আক্ষরিক অর্থেই ব্রেট লি’র হা করা মুখটা দেখা গেল টেলিভিশনের পর্দায়।

হ্যা, আজই তো আমাদের চিৎকার করার দিন। আজই সেই দিন, যেদিন শুধু আমরা বলবো, বাকিরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে।

এমন রোমাঞ্চকর আর স্মরণীয় ম্যাচ সম্ভবত আর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে আসেনি। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের হুঙ্কার, চিৎকার – সব যেন ম্লান হয়ে গেল এক নিমিষেই!

শেষ ওভারের রোমাঞ্চটা লেখা হয়ে গেল ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায়। ইশুরু উদানা প্রথম দু’টো বলই বাউন্সার দিলেন। প্রথমটা মিস, দ্বিতীয়টা রান আউট। ডাগ আউট থেকে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ক্ষেপে গেলেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। যোগ দিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন, টিম ম্যানেজার। এক ওভারে দুটো বাউন্সার দিলে যে নো ডাকা হয়, সেটা আম্পায়ার ভুলে গেলেন। যেমন ঠিক আগের ওভারেই ডাইভ দিতে ভুলে গিয়ে রান আউটের ফাঁদে পরলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ভুলেননি কেবল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন দরকার চার বলে ১২ রান। প্রথম বলে অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলে চার, এরপরের বলে আসলো দুই রান। দুই বলে দরকার ছয় রান। ম্যাচটা তখনও দুলছে। বলা ভাল, তখনও ম্যাচটা শ্রীলঙ্কারই পক্ষে।

চিন্তা নেই, রিয়াদ আছেন না। ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে মারলেন রিয়াদ, দ্য সাইলেন্ট কিলার। ছক্কার পর অবশ্য তিনি সাইলেন্ট ছিলেন না। চিৎকার করলেন, তাঁর সাথে যোগ হলেন বাকিরা, ডাগ আউট থেকে দৌড়ে আসলেন। যেমনটা হয় আর কি এসব জয়ে। সেই চিৎকারে, উদযাপনে চুপ হয়ে গেল লঙ্কানদের উল্লাস!

এরপরও কুশল মেন্ডিস ও নুরুল হাসান সোহানের মত কথা কাটাকাটি হল। তামিম-রিয়াদ সরিয়ে নিলেন দু’জনকে। রিয়াদ গিয়ে বরং নিজের খেলোয়াড়কেই শাসিয়ে আসলেন। ঠিক যেমন একটু আগে শাসন করেছেন লঙ্কান বোলারদের। এমন চাপের মুখে ১৮ বলে ৪৩ রান করা তো আর মুখের কথা নয়। ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দু’টি ছক্কা। ডট বল ছিল মাত্র দু’টি। আড়ালের নায়কই আজ বাংলাদেশের নায়ক নাম্বার ওয়ান!

ম্যাচটা হয়তো আরো সহজে জিতে যেতে পারতো। বিশেষ করে লঙ্কানরা যখন ৪১ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেললো, সেখান থেকে ম্যাচটা একতরফা হতেই পারতো। হয়নি কারণ ক্রিকেট বিধাতা ম্যাচের শেষ ভাগে এতটা রোমাঞ্চ জমিয়ে রেখেছিলেন বলেই হয়তো!

চান্দিকা হাতুরুসিংহের জাদুটা এবার কোথায় গেল? প্রথম ম্যাচে ভারতকে হারানো, কিংবা বাংলাদেশ থেকে সব ফরম্যাটে জিতে যাওয়া লঙ্কান দলটার কি হল? কোচের হাতে জাদু থাকে না, থাকে কৌশল। খেলোয়াড়ই জাদু দিয়ে সেই কৌশলটাকে কাজে লাগায়। আমরা যেমন এবার জাদু দেখলাম সাকিবের দলের সৌজন্যে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।