নায়করাই যখন খলনায়ক

নায়করা যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, সিনেমার ভিলেনদের মধ্যেও আলাদা একটা গ্ল্যামার আছে। দর্শকদের হৃদয়ে তাঁরা বরাবরই আলাদা একটা জায়গা দখল করে থাকেন। আর সেটা এতটাই যে, পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি অনেক সময় ছাড়িয়ে যায় খোদ নায়কের হিরোইজমকেও। তাই, তো নেতিবাচক চরিত্রে প্রায়ই বলিউডের শীর্ষ নায়কদের কাজ করতে দেখা যায়। আর যতবারই তাঁরা এমন এক্সপেরিমেন্ট করেছেন, সফল হয়েছেন কমবেশি সবাই-ই।

আমির খান (ধুম থ্রি)

জনপ্রিয় ধুম সিরিজের তৃতীয় কিস্তিতে সামার ও সাহির – দুই জমজ ভাইয়ের চরিত্রে কাজ করেন আমির। সিনেমাটির বিরুদ্ধে দর্শকরা হলিউডের সিনেমার নকলের অভিযোগ আনলেও অভিনয়গুনে উৎরে যান আমির। সিনেমাও হয় হিট।

জন আব্রাহাম (ধুম)

ধুম সিরিজে বরাবরই নায়কদের দেখা গেছে খল চরিত্রে। প্রথম কিস্তিতে যেমন ছিরেন জন আব্রাহাম। বলাই বাহুল্য তাঁর সে সময়ের সেই পারফরম্যান্সকে আজো কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। অভিষেক বচ্চনের সাথে পর্দায় তাঁর দ্বৈরথ বেশ প্রশংসিত হয়।

রণবীর সিং (পদ্মাবত)

খলনায়ক হিসেবে নিজেকে অন্য এক স্তরে নিয়ে গেছেন রণবীর সিং। পদ্মাবত সিনেমায় আলাউদ্দিন খিলজীর চরিত্রটা নি:সন্দেহে এর চেয়ে বেশি দানবীয় করা কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। অভিনয়গুণে তিনি এই সিনেমায় ছাড়িয়ে গেছেন দীপিকা পাড়ুকোন কিংবা শহীদ কাপুরকেও।

ইমরান হাশমি (ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন মুম্বাই)

সিনেমাটিতে তার চরিত্রের নাম শোয়েব। আসলে তিনি মূলত অন্ধকার জগতের মুকুটহীন সম্রাট দাউদ ইব্রাহিমের প্রথম জমানার চরিত্রে কাজ করেছেন। নি:সন্দেহে পর্দার সেরা ‘দাউদ ইব্রাহিম’দের একজন তিনি।

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা (ইত্তেফাক)

আসলে তিনি নায়ক না খলনায়ক – এই সামান্য তথ্যটা জানতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল সিনেমার অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত। অবশ্যই এটা সিদ্ধার্থের সেরা কাজগুলোর একটি।

শাহরুখ খান (ডন ও ডন ২)

‘ডন’ – এই চরিত্রটা যে অমিতাভ বচ্চনের চেয়ে অন্যকেউও ভাল করতে পারেন সেটাই এই দুই কিস্তিতে প্রমাণ করে ছেড়েছেন শাহরুখ খান। যদিও, শাহরুখ এর আগেও ডর, আনজাম কিংবা বাজিগরের মত সিনেমায় খল চরিত্রে কাজ করেছেন। সর্বশেষ করেছেন ‘ফ্যান’ সিনেমায়।

সঞ্জয় দত্ত (অগ্নিপথ)

কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, নায়ক হওয়ার পরও বলিউডের সেরা ভিলেন হলেন সঞ্জয় দত্ত। অগ্নিপথ সিনেমায় তিনি আক্ষরিক অর্থেই ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। এছাড়া ‘বাস্তব’ সিনেমার কথা না বললেই নয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডের চরিত্রে তিনি বেশ দারুণ ভাবে মানিয়ে গেছেন। এছাড়া আলাদিন সিনেমাতেও তিনি ছিলেন নেতিবাচক চরিত্রে।

হৃতিক রোশন (ধুম ২)

ধুমের প্রথম কিস্তিতে জন আব্রাহামের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলেন অভিষেক বচ্চন। দ্বিতীয় কিস্তিতে এসে আর সেটা হয়নি। এবার যে ভিলেন ছিলেন খোদ হৃতিক রোশন। ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে তাঁর রসায়নও ছিল বলিউডের ‘টক অব দ্য টাউন’।

অজয় দেবগন (খাকি)

খাকি ছবিতে অজয় দেবগনের খল চরিত্রে অভিনয় বেশ দর্শক প্রিয়তা পেয়েছিল। অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার কিংবা ঐশ্বরিয়া রায় থাকার পরও অজয়ের দিকেই ছিল সবটুকু আলো। নেতিবাচক চরিত্র হওয়ার পরও অজয়ের সাথে তার রসায়ন ছিল দেখার মত।

অর্জুন রামপাল (রা-ওয়ান)

রা-ওয়ান সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন অর্জুন রামপাল। শাহরুখ খানের পাশে খল চরিত্রে তার কাজ দর্শকদের পছন্দ নয়। সর্বশেষ তিনি ‘ড্যাডি’ ছবিতেও ছিলেন খল চরিত্রে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।