নাজমুল হোসেনকে কেউ মনে রাখেনি!

নাজমুল হোসেনের কথা মনে আছে? সদা হাস্যজ্বল চেহারার চনমনে একজন মিডিয়াম পেস বোলার ছিলেন, যিনি আক্ষরিক অর্থেই পুরা ‘মাঠ দাপিয়ে’ বেড়াতেন, বলা ভালো মাঠ মাতিয়ে রাখতেন, হালকা পাতলা গড়নের মানুষটা কি বোলিং কি ফিল্ডিং সব জায়গায় নিজের শতভাগ ঢেলে দিতেন। একটা উইকেট পেলেন অথবা একটা ক্যাচ ধরেছেন অথবা অল্পের জন্য হয়তো উইকেট মিস করেছেন, সাথে সাথেই শূন্যে লাফ দিয়ে ভেসে উঠতেন। উইকেট পাবার পর উৎযাপনটা দেখে মনে হতো একটা প্রজাপতি যেন মাঠের ভেতর ছুটে বেড়াচ্ছে ছন্দে ছন্দে! গলায় রূপার একটা চেন থাকায় আরো চোখে পড়তো নাজমুলকে, কেমনে জানি একটা স্বকীয়তা ছিলো ছেলেটার ভেতর।

২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের অল্প কিছুদিন পরেই দলে এসেছিলেন। সেসময় আমাদের অবস্থা এমন ছিলো যে কোথাও কেউ একটু ভালো খেলেছে তো তাকে জাতীয় দলের জার্সি দিয়ে দেয়া হোক! নাজমুলের বেলাতেও ব্যতিক্রম হয়নি। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় নাজমুলের। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটই খেলেছেন তখন মাত্র তিনটা, টেস্ট অভিষেকের মর্মটাও হয়তো সদ্য কৈশর পেরোনো নাজমুল বুঝতে পারেননি তখন। তবে বেশ প্রাণশক্তি ছিলো নাজমুলের, এম. এ. আজিজ স্টেডিয়ামে এক ইনিংসেই বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, ২৬ ওভার বল করে ১১৪ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। গৌতম গাম্ভীরকে (১৩৯) ক্লিন বোল্ড করার পর নিয়েছিলেন হরভজন সিং (৪৭) এর উইকেট।

অভিষেক টেস্ট ক্রিকেটে হলেও পরবর্তী সাত বছর নাজমুল পরিচিত হয়েছিলেন ওয়ানডে বোলার হিসেবে। সিমিং কন্ডিশনে ভালো করবেন এমন একটা ধারনা ছিলো নাজমুলের ব্যাপারে, বোলিং আক্রমনের ধরনটাই ছিলো এমন যে কিছুটা অ্যাঙ্গেল তৈরী করতে পারতেন। সেই ভাবনা থেকেই ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এজবাস্টনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক।

মাশরাফি তখন ইনজুরিতে, নতুন বলে তাপস বৈশ্যের সঙ্গী অভিষিক্ত নাজমুল। কিন্তু নিজের সামর্থের প্রকাশ ঘটানোর পর্যাপ্ত সুযোগ আর কই পেলেন! আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ অল আউট মাত্র ৯৩ রানে! এই সামান্য পুঁজিতেও সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়ে বল করেন নাজমুল, ৬-১-১৭-০, অভিষেক ম্যাচ বিচারে খারাপ নয় মোটেও। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে গেইল আর ওয়েভেল হাইন্ডসের দূর্দান্ত ওপেনিং জুটিতেই ১৯২ রান তুলে ফেলে। সে ম্যাচে নাজমুলের বোলিং ফিগার ছিলো ১০-১-৪৪-০, বোলারদের উপর যে ঝড় গিয়েছিলো সেই তুলনায় নেহাতই মন্দ নয়।

২০০৪ সালে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে শচিন টেন্ডুলকারকে আউট করার পর।

ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকা নাজমুল তৃতীয় ম্যাচেই নিজেকে চিনিয়েছিলেন চট্টগ্রামের এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ডের সেই সফরের প্রথম ওয়ানডেতে নাজমুল দুই ওপেনার পিটার ফুলটন এবং নাথান এসেলকে ক্লিন বোল্ড করার পরে ওই ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার ক্রিস কেয়ার্ন্সকেও বোল্ড করেন। ম্যাচে বোলিং ফিগার ৮.২-১-৪০-৪! নিউজিল্যান্ডকে ২২৪ রানে আটকে ফেলেও করুণভাবে ম্যাচ হেরেছিলো বাংলাদেশ।

কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেই ম্যাচেও উইকেটে থিতু হতে থাকে ম্যাথু হেইডেনকে (৩৭) ক্লিন বোল্ড করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বগুড়ায় শ্রীলংকাকে হারানোর দিন নিয়েছিলেন দিলহারা ফার্নান্দোর উইকেট। ভারতকে হারানোর সেই শততম ওয়ানডেতে উইকেট না পেলেও সাত ওভারে ২৬ রান দিয়ে আটসাট বোলিং করেছিলেন। অবশ্য জয়টা আগের ম্যাচেই আসতে পারতো, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নাজমুলের দূর্দান্ত বোলিং (৯-১-৩৯-২) ভারতকে বড় সংগ্রহ করতে দিয়েছিলো না (২৪৫/৮), নাজমুল টেন্ডুলকারকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে সাজঘরে ফেরান, বড় ইনিংসের পথে আগানো কাইফকে (৮০) রিটার্ন ক্যাচে আউট করেন। আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

নাজমুলের ভাগ্য দুই দিক থেকে খারাপ ছিলো। প্রথমত মারাত্মক ইনজুরিপ্রবণ ছিলেন, দ্বিতীয়ত, ভুল সময়ে জন্মেছিলেন। তার সময়ে বাংলাদেশ ছিলো সম্পূর্ণ স্পিন বোলিং নির্ভর। দুই পেসারের বেশি খেলানোটা বিরলতম ঘটিনাগুলার ভেতর রাখা যাবে ওই সময়ের বিচারে। কত ম্যাচে এক পেসার নিয়েও নেমে গিয়েছে বাংলাদেশ! দুই পেসার খেলালে অবশ্যই সেটা মাশরাফি আর সৈয়দ রাসেল। নাজমুল তাই অপেক্ষায় থাকতেন সাইড বেঞ্চে, মূলত মাশরাফির ইনজুরির কারনেই সুযোগ পেয়েছিলেন নাজমুল, বাকি সময়টা কেটেছে হয় নিজে ইনজুরিতে থেকে আর না হয় অন্যের ইনজুরির অপেক্ষায়।

নাজমুলের স্টক ডেলিভারিগুলা প্রাকৃতিকভাবেই ভেতরে ঢুকতো ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য, কিন্তু কিছু কিছু ডেলিভারি একই লাইনে ভেতরে না ঢুকে সোজা চলে যেত! আর বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য আলাদা একটা এঙ্গেল তৈরী করতো। যার কারণে নাজমুলের ক্যারিয়ারের প্রায় ৭০% উইকেট কারো সাহায্য ছাড়াই! মানে হয় সেটা বোল্ড অথবা লেগ বিফোর আর নাহয় রিটার্ন ক্যাচ!

২০০৬ সালের পর ইনজুরির কারনে প্রায় আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নাজমুল আরো পরিনত হয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশের প্রথম বোলিং কোচ চম্পাকা রামানায়েকের সময়। বাংলাদেশের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরের মাধ্যমে (২০০৮ সাল) দলে ফিরেন নাজমুল। চম্পাকার সময়ে মাশরাফি-নাজমুল-রাসেল চমৎকার একটা পেস আক্রমণ পেয়েছিলো বাংলাদেশ।

নাজমুল তার সেরা বোলিং দিয়েছিলেন ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে ঢাকায় শ্রীলংকার বিপক্ষে ট্রাই নেশন ফাইনালে। বাংলাদেশের ১৫২ রানের জবাবে নাজমুলের বোলিং তোপে শ্রীলংকার ৬ রানেই ৫ উইকেট নেই! ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট হারানোর ঘটনা এটি। নাজমুল একে একে উপল থারাঙ্গা (২), মাহেলা জয়াবর্ধনে (০) এবং থিলান থুসারার (১) উইকেট তুলে নেন। প্রথম স্পেল শেষে নাজমুলের বোলিং ফিগার ছিলো, ৪-৩-১-৩! চরম রোমাঞ্চকর ম্যাচে ১১৪ রানে ৮ উইকেট হারানো শ্রীলংকার যখন ৩৬ বলে ৩৯ রান লাগে জয়ের জন্য তখন মুরালিধরন হঠাৎ ‘ব্যাটসম্যান’ হয়ে উঠে অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলে ফেলেন (১৬ বলে ৩৩), মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা রুবেল হোসেনের দুই ওভার থেকে মুরালি তুলে নেন ৩২ রান! এটা ছিলো অনভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে অভিজ্ঞতার অনবদ্য এক ব্যাটিং তাণ্ডব। তীরে এসে তরী ডুবে যায় বাংলাদেশের।

ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’ করার প্রথম ঘটনায় প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৮ রান দরকার ছিলো, দারুন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে নাজমুল মাত্র ৯ রান দিয়ে জয় নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু শেষ বলে রিটার্ন ক্যাচ নিতে গিয়ে আঙ্গুল ফাটিয়ে বাকি সিরিজ দর্শক হয়ে বসেছিলেন।

এরপর আবার বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে। ফিরেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে। এই সিরিজে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন নাজমুল, সাত বছর পর! তখন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন ‘আবার টেস্ট খেলার জন্য সাত বছর অপেক্ষা করতে হলে আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে’। নিয়তির পরিহাস, সেটাই হয়েছে।

২০১২ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সাথে ম্যাচে নাজমুল হোসেনের অসাধারন বোলিং শ্রীলঙ্কাকে নাগালের ভেতরই আটকে রাখে। আট ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন নাজমুল। জয়াবর্ধনে (৫) এবং দিলশানকে (১৯) বোল্ড করেন আর সাঙ্গাকারাকে (৬) নাজিমুদ্দিনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে শ্রীলংকাকে ৩২/৩ রানে পরিনত করেন।

নাজমুল তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেন এশিয়া কাপের ওই আসরের ফাইনালে। নিয়েছিলেন ইউনুস খানের (১) গুরুত্বপুর্ন উইকেট। বোলিং ফিগার: ৮-১-৩৬-১। এই ম্যাচের পর অনুশীলনে ইনজুরিতে পড়ে অনেকদিন বাইরে থাকার পর ফিরেছিলেন শ্রীলংকার সফরে। ২০১৩ সালের সেই সফরের অনুশীলনে অল রাউন্ডার জিয়াউর রহমানের একটা স্ট্রেইট ড্রাইভ থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে এংকেলের ইনজুরিতে পড়ে সিরিজ থেকে বাদ পড়েন নাজমুল হোসেন। সেই থেকে নাজমুল জাতীয় দলের বাইরে। একই বছর বিপিএলে সিলেটের হয়ে খেললেও বর্তমানে নাজমুল হোসেনের কোন খবরই নেই! যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। সর্বশেষ জাতীয় লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ, বিপিএল কোথাও দেখিনি নাজমুলকে, অন্তত আমি মনে করতে পারছি না। হয়তো খেলেছেন তবে এতোটাই নীরবে যে চোখেই পড়েনি। আসলে খেলেছিলেন কিনা সেটাই সঠিক মনে করতে পারছিনা।

এই লেখাটা লেখার আগে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নাজমুল হোসেনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে। কিন্তু কেউই বলতে পারেনি এই প্রচন্ড সম্ভাবনাময় পেসার এখন কোথায় আছেন, কি করছেন। নাজমুলকি হাল ছেড়ে দিয়েছেন? বারবার ইনজুরির সাথে লড়তে লড়তে খেলাই কি ছেড়ে দিয়েছেন?

যখন তর্জনি উঁচিয়ে শুন্যে লাফ দিয়ে উইকেট উৎযাপন করার কথা, তখনই তিনি সব রকম ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন। ২০১২ সালে শেষ আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এরপর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আর সেটাও টেনে নিয়ে যেতে চাইলেন না। সব ধরণের ক্রিকেটকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এসে বিদায় বলে দিলেন পেসার নাজমুল হোসেন।

আর ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বলেই তিনি বিদায় বলে দিচ্ছেন। বললেন, ‘যদি খেলার দিক থেকে চিন্তা করেন তাহলে কম খেলেছি। কিন্তু দলের সাথে ছিলাম প্রায় ১১ বছর। শেষের দুই বছর, ২০১৪ সালের পর থেকে আমি সব দিক থেকেই স্ট্রাগল করছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল লাকি না হলে আমার ব্রেক করে ফিরে আসা কঠিন হবে। যখন ফিট ছিলাম তখনও আমি ইন অ্যান্ড আউট ছিলাম। আমি প্রথম টেস্ট খেলার পর সাত বছর পর দ্বিতীয় টেস্ট খেলেছি।’

ক্যারিয়ারটা ছোট হলেও বিভিন্ন প্রজন্মের সাথে ক্রিকেট খেলেছেন। বাংলাদেশের কিছু স্মরনীয় জয়ের সাথে তার নাম জড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে শেষ বেলায় তিনি নিজেকে ধন্য বলেই মানছেন। বললেন, ‘আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আকরাম ভাই, সুমন ভাই; ওনাদের মত লিজেন্ডদের সাথে খেলতে পেরেছি। মাশরাফি ভাই, সাকিব, তামিম; ওদের সাথে খেলতে পেরেছি। সব মিলিয়ে ক্রিকেট থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। বাংলাদেশ ভারতের সাথে প্রথম ওয়ানডে জিতেছে, সেই ম্যাচটা আমি খেলেছি। প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে, সেটা আমি খেলেছি। প্রথম শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছি, সেটা আমি খেলেছি। এইগুলো চিন্তা করলে আমার মনে হয় আমি ভাগ্যবানই ছিলাম। ছোট ক্যারিয়ার, কিন্তু আমার প্রাপ্তি অনেক।’
এখন নাজমুল কোচিংয়ে মন দিতে চান।

নাজমুল অসম্ভব নিবেদিত একজন ক্রিকেটার ছিলেন। নাজমুল যখন দলে আসেন তখন দলের ছিল না কোন বোলিং কোচ, ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আমরা অনেকটাই অজ্ঞ ছিলাম। তার ভেতরই নাজমুল যে অল্প কয়েকটা ম্যাচ খেলেছে কখনোই হতাশ করেনি, নিজেকে উজাড় করেই খেলেছেন। নাজমুল ছিলেন বাংলাদেশের ‘লাকি ম্যান’, কার্ডিফের অস্ট্রেলিয়া বধ, ভারত এবং শ্রীলঙ্কার সাথে প্রথম জয় সব ম্যাচেই নাজমুল দলে ছিলেন, নিয়মিত না হয়েও বড় বড় জয়গুলাতে কিভাবে কিভাবে যেন নাজমুল একাদশে ছিলেন। এজন্যই দলে তার নাম ছিলো ‘লাকি ম্যান’।

প্রথম যখন দলে আসেন, মাত্র ১৭ বছর বয়সে, তখন সবাই আদর করে ‘ভাই’ ডাকতো। কারণ চাল চলনে এক ধরনের আভিজাত্য ছিলো, ছিলো প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়ার এক মানসিকতা। অথচ অকালেই হারিয়ে গেলেন সেই ‘ভাই’, সেই ‘লাকি ম্যান’ নাজমুল হোসেন।

হবিগঞ্জে জন্ম নেয়া নাজমুল হোসেন তার ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন ৩৮ টি, উইকেট নিয়েছেন ৪৪ টি। টেস্ট খেলেছেন মাত্র ২ টি, উইকেট পেয়েছেন ৫ টি। টি টুয়েন্টি খেলেছেন ৪ টি, উইকেট নিয়েছেন ১ টি।

ক্যারিয়ারের পুরোটা জুড়েই নাজমুল ছিলেন ওয়ানডে ‘বিশেষজ্ঞ’ বোলার। নাজমুল হোসেন সেই হারতে থাকা বাংলাদেশ থেকে বর্তমান বাংলাদেশে রূপান্তরের মাঝের সময়ের একজন স্বাক্ষী। শুরুর দিকের বড় বড় জয়গুলাতে নাজমুল হোসেনের অবদান কখনোই ভুলতে পারবেনা বাংলাদেশ।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।