নাঈম ইসলামের কী চেহারা খারাপ!

ঘরোয়া ক্রিকেটে যেন রানের ফুলজুড়ি নিয়ে বসেছেন নাঈম ইসলাম। সেটি হোক চারদিনের ম্যাচ অথবা একদিনের ম্যাচ। বাংলাদেশের অতি চিন্তাশীল কোচ-নির্বাচকদের নজরে পড়ুক আর নাই পড়ুক।

১৯ তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে তুলে নিয়েছেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরী, ছুঁয়েছেন প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ৭,০০০ রানের মাইলফলক। করেছেন জাতীয় লীগের সর্বাধিক ১৭টি সেঞ্চুরী। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলা সর্বশেষ এগারো ম্যাচে নাঈম করেছেন ছয়টি সেঞ্চুরী।

সর্বশেষ খেলা বিসিএলের ছয় ম্যাচে করেছেন চার সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে  করেছেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক ২৩ টি সেঞ্চুরী, নাঈমের চেয়ে একটি সেঞ্চুরী বেশী করেছেন নির্বাচকদের কাছে আরেক অবহেলিত তারকা তুষার ইমরান। আর সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের হয়ে করেছেন দুই সেঞ্চুরি। এত সব রান-সেঞ্চুরী কিছুই কি চোখে পড়ছে না নির্বাচকদের!

বাংলাদেশ জাতীয় দলে যে অনেককাল ধরেই অচ্ছ্যুৎ নাঈম। এত এত রানের ফোয়ারা ছুটিয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছেন না নির্বাচকদের। জাতীয় দলে সুযোগের জন্য নিজেকে অবিরত প্রমান করে যাচ্ছেন ঘরোয়া লীগে। অথচ লংগার ভার্সন ক্রিকেটে জাতীয় দলকে সেবা দেয়ার মত প্রতিভার কমতি ছিলো না নাঈম ইসলামের।

সুযোগ পেতে পারতেন ‘এ’ দলে, কিন্তু নির্বাচকদের চোখে যে আচড় কাটতে পারেনি নাঈম। জায়গা হয়নি আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের সাথে চারদিনের ম্যাচে! অথচ ‘এ’ দলের তরুন শান্ত, সাদমান, জাকিরদের তো সঠিকভাবে গাইড করে জাতীয় দলের জন্য তৈরিতে সহযোগিতা করতে পারতেন নাঈম, শাহরিয়ার নাফিসরা!

নাঈম ইসলাম- বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক অমিত প্রতিভা, অযত্ন আর অবহেলায় যাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন কোচ, নির্বাচক আর বোর্ডের কর্মকর্তারা!

২০১৪ সাল থেকে নাঈম ইসলাম জাতীয় দলে ব্রাত্য। অথচ ২০০৮ সালে অভিষেকের পর থেকে জাতীয় দলের ‘অটোমেটিক চয়েজ’ এ পরিনত হয়েছিলো। আর তখনকার কোচ জেমি সিডন্সেরও দারুণ পছন্দের ছিল নাঈম কারন যেকোন পজিশনে তার ব্যাটিং করার ক্ষমতা, অফস্পিন বোলিং আর দুর্দান্ত ফিল্ডিং।

অথচ দলের প্রয়োজনে যেকোন পজিশনে ব্যাটিং করাই কাল হল তাঁর। একেকবার একেক পজিশনে ব্যাটিং করার কারণে দলে খুব বেশীদিন থিঁতু হতে পারেনি। ওয়ানডে ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে ৫১ ইনিংস ব্যাটিং করতে নেমে ওপেনিং থেকে আট নম্বর পর্যন্ত (শুধুমাত্র ৪ নম্বর ব্যাতীত) সকল পজিশনে ব্যাট করতে হয়েছে নাঈমকে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ৫৯ টি ওয়ানডে ম্যাচে ২৭.০৯ গড়ে ৯৭৫ রান আর ৩৫ উইকেট। ৮ টেস্টের ১৫ ইনিংসে ৩২ গড়ে ৪১৬ রান; এর মধ্যে একমাত্র সেঞ্চুরিটি ২০১২ সালে তার খেলা সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে!

সেঞ্চুরি করার পরের সিরিজেই ইনজুরির কারণে পড়লেন নাঈম। সেটাই শেষ। আর সাদা পোশাকে খেলা হল না তার। অথচ লম্বা সময় উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতার জন্য টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্যই হতে পারতেন এই নাঈম। কেন হতে পারেননি? উত্তর কি দিতে পারবেন নির্বাচকরা?

ঘরোয়া ক্রিকেটে ২২ গজের পারফরমেন্স দিয়ে মন জয় করেছেন অসংখ্য ক্রিকেট প্রেমীদের এক সময় ‘ছক্কা নাঈম’ নামে পরিচিতি পাওয়া ৩১ বছর বয়সী নাঈম। পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে নাঈম হতে পারতেন বাংলাদেশেরে ক্রিকেটের মূল্যবান সম্পদ, হতে পারতেন ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের আশা ভরসার প্রতীক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।