দ্য আউট অব দ্য বক্স!

নব্বই দশকের জে পি দত্তের বিখ্যাত সিনেমা ‘বর্ডার’ এ সেনাবাহিনীর এক নব্য কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছিলেন। এর ঠিক পরের বছরেই প্রিয়দর্শনের রোমান্টিক ছবি ‘ডোলি সাজাকে রাখনা’ তে পুরো ভিন্নরুপে এসে চমকে দেন। তখন বলিউডপ্রেমীরা তাকে প্রতিশ্রুতিশীল নায়ক হিসেবে ভেবেছিলেন। তিনি হলেন অক্ষয় খান্না।

বাবা বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক প্রয়াত বিনোদ খান্না। তৎকালীন সময়ে তিনি অমিতাভ বচ্চনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এমনকি একটা রিয়েলিটি শো-তে অমিতাভ বচ্চনকে হটিয়ে সেরা নতুন মুখের পুরস্কার জিতেছিলেন বিনোদ। অমিতাভ হয়েছিলে তৃতীয়।

১৯৯৭ সালে বাবার প্রযোজনায় ‘হিমালয় পুত্র’ ছবি দিয়ে অভিষেক ঘটে অক্ষয় খান্নার। প্রথম ছবি একেবারেই ফ্লপ। কোনো আলোচনায় আসেনি ছবিটি। অক্ষয়ও খুব একটা সারা ফেলতে পারেননি। একই বছর ‘বর্ডার’ ছবিতে অভিনয় করে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত নায়কের পুরস্কার।

১৯৯৮ সালে বাবার নায়িকা মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে ‘মোহব্বাত’ সিনেমাটিও ফ্লপ। পরিচালনা করেছিলেন মাধরীর ম্যানেজার রাকেশ নাথের স্ত্রী রিমা। এর বছর দশেক আগে বিনোদ খান্নার বিপরীতে ‘দয়াবান’ সিনেমায় বিনোদের নায়িকা ছিলেন মাধুরী। আর ওই সময়ে সিনেমাটি ‘আজ ফির তুমপে’ গানটা বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

‘মোহাব্বাত’-এ না হলেও ‘ডোলি সাজাকে রাখনা’তে দিয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন অক্ষয়। ১৯৯৯ সালে বেশ ভালো সময় কাটান, ঐশ্বরিয়া রায়ের বিপরীতে ‘তাল’ বেশ ভালো ব্যবসা করে। বলিউডের ইতিহাসে অন্যরকম এক জায়গা দখল করে আছে এই সিনেমাটি।

অভিনেতা ভালো হলেও, চেহারা নায়ক সুলভ না থাকায় নব্বইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়ে এক নম্বর হওয়ার লড়াইয়ে টিকতে পারেননি অক্ষয়। তবে ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভালো ছবিতে অভিনয় করেছেন। তেমনি একটি সিনেমা ‘দিল চ্যাহতা হ্যায়’। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বন্ধুত্বের সিনেমা হিসেবে এটি বলিউডে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা সহ অভিনেতার পুরস্কার পান। ২০০২ সালে ‘হামরাজ’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়া দিওয়ানগে, হালচাল, হাঙ্গামা, এল ও সি কার্গিল, আপ কি খাতির বেশ আলোচিত হয়।

২০০৭ সালে ‘গান্ধী মাই ফাদার’ ছবিতে অভিনয় করা ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্জন। ২০০৮ সালে ‘রেস’ ছবিতেও তিনি নিজেকে ভেঙ্গেছিলেন। এরপর ‘আক্রোশ’ সিনেমা ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেননি।

তবে গত বছর ইত্তেফাক ও মম ছবির বদলৌতে আবার এসেছেন আলোচনায়। বিশেষ করে ইত্তেফাকে তিনি দারুণ অভিনয় করেন। বছর দুয়েকের মধ্যে মুক্তি পাওয়া ‘ডিশুম’ ছবিতে খল চরিত্রে তিনি বাকিদের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করেছিলেন।

বোঝায় যাচ্ছে, নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ারে তাঁর বলার মত সাফল্য না থাকলেও খল বা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। বয়স ৪০ পেড়িয়ে গেছে অনেকদিন হল, এখনই তো সময়!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।