দ্বৈত নীতি না ব্যক্তিগত অপছন্দের বলি?

একজন ক্রিকেটারের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনাই একজন কোচের কাজ। চান্দিকা হাতুরুসিংহে ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকরা যখন শনিবার মুমিনুল হককে টেস্ট দল থেকে ছিটকে ফেললেন তখন কোচের সেই ভূমিকাটাই তাই প্রশ্নবিদ্ধ হল।

২০১৪ সালে লঙ্কান এই কোচ যখন বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন, তখন মুমিনুল ছিলেন পারফরম্যান্সের চূড়ায়। তাকে আগামীদিনের কাণ্ডারী বলেই বিবেচনা করা হত। তবে, গত তিনটা বছরে তিনি একটু একটু করে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন, এই দায়টা তাই কোচকে অবশ্যই নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, মুমিনুলের বাদ পড়ার পেছনে হাতুরুসিংহের প্রভাবটাই বেশি। বাদ দেওয়াই কি সমাধান? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল থেকে মুমিনুলকে বাদ দিয়ে সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না হাতুরুসিংহে।

এই হাতুরুসিংহের জমানাতেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুমিনুলকে ‘অযোগ্য’ বলে দাবী করা হয়।  ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডে দলে তিনি নেই। অথচ, ঢাকা লিগ কিংবা বিপিএলে করছেন বিস্তর রান।

কালক্রমে টেস্ট বিশেষজ্ঞ হয়ে পড়েন এই বাঁ-হাতি। শর্ট বলে দুর্বলতা, অফ স্পিন খেলতে না পারার অপবাদও যোগ হয় তার নামের পাশে। যার ধারাবাহিকতায় এবার টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেন তিনি।

বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের সামান্য ফর্মহীনতাই মুমিনুলকে বাদ দিতে ‘বাধ্য’ করেছে। যদিও, সাম্প্রতিক সময়ে বাজে পারফরম্যান্সের যে সকল নজীর সামনে আনা হচ্ছে তার সবই বিদেশের মাটিতে। বিদেশের মাটিতে করা আট ম্যাচে ৪৮৮ গড় ৩১.২০ রান করেছেন মুমিনুল। যদিও,  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ হবে দেশে। সেখানে দেশের মাটিতে ১৪ ম্যাচে গড় ৫৮.০৯ রান করা মুমিনুলের মোট সংগ্রহ ১২২০ রান। নির্বাচক প্যানেল নিজেদের ব্যাখ্যায় নিজেরাই ফেঁসে যাচ্ছেন।

এই একই ব্যাখ্যাতেই টিকে গেছেন ইমরুল কায়েস। কারণ, দেশের মাটিতে যেকোনো ফরম্যাটে তার পারফরম্যান্স ভাল। আবার ঘরোয়া প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে ৩১ গড় নিয়েও টেস্ট দলে ফিরেছেন নাসির। যেখানে, ঢাকা লিগে যেখানে ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা হয় সেখানে বিস্তর রান করার পরও নাসিরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।

এখানে সৌম্য সরকারের প্রসঙ্গ আসতেই পারে। অফফর্মের পরও দিনের পর দিন একাদশে তাকে রাখা হয়েছে। সেটার ফলাফলও হয়েছে ইতিবাচক। সেই সুযোগটা কী মুমিনুলেরও পাওয়া উচিৎ ছিল না! একই দলে একেকজনের জন্য ভিন্ন নিয়ম, নাকী স্রেফ ব্যক্তিগত অপছন্দ? – এই প্রশ্নের জবাব দেবে কে?

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।