দেবী নিয়ে সাত কথা

১.

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে দেখে উৎপল দত্তর কথা মনে হচ্ছিলো। এই বৈচিত্র, এই শারীরিক ভিন্নতা, এই কণ্ঠের কারুকাজ; এটা উৎপল দত্ত ছাড়া বাংলায় খুব বেশী লোকের দ্বারা সম্ভব হবে বলে মনে হতো না। মিসির আলীকে ঠিক এমন কল্পনা করি নাই। কিন্তু চঞ্চল চৌধুরী মিসির আলীকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন।

২.

জয়া আহসান অসম্ভব সুন্দর। দেবী বলে হুমায়ুন যে সুন্দর রানুর মধ্যে দেখাতে চেয়েছে, সেটা ছিলো। সেই সাথে দেবীর আড়ষ্টতা, পাথুরে একটা ভঙ্গি; এসব আরোপ করে জয়া শতভাগ বইয়ের রানু হয়ে উঠেছিলেন।

৩.

শবনম ফারিয়া অবশ্যই লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করেছেন।

৪.

আনিস চরিত্রে একজন অভিনেতা হলে ভালো হতো। একদিকে জয়া এবং অন্য দিকে চঞ্চল; অভিনয়ের এই দুই ফুলঝুরির মাঝে একজন অ-অভিনেতার (অনিমেষ আইচ) রিয়েলিস্টিক আচরণ চোখে লেগেছে। অভিনয়টা অভিনেতাদের কাছেই থাকা উচিত।

৫.

স্ক্রিপ্ট নিয়ে আরও সচেতনতা থাকলে ভালো হতো। অন্তত দুটি দৃশ্য খুব বেখাপ্পা মনে হয়েছে। মিসির আলী নিজের ঠিকানা খুজতে আসা লোককে মগা ঔষধালয় দেখিয়ে দেবেন, এমন হিমুসুলভ ব্যাপার আনাটা ঠিক হয়নি। আর ইরেশ জাকেরের মৃত্যু দৃশ্যটা একেবারেই দক্ষিনী ভুতের সিনেমার মতো হয়ে গেছে।

৬.

ইরেশ যাকেরের সবাই খুব প্রশংসা করছে। আমার কাছে খুব ভালো লাগেনি। এই চরিত্র আরও সুন্দর চেহারা দাবি করে।

৭.

সাধারণত উপন্যাস থেকে সিনেমা করার ক্ষেত্রে কিছু ইম্প্রোভাইজেশন করা হয়। এখানে চিঠির জায়গায় ফেসবুক ছাড়া তেমন কোনো বদল নেই। এটা হুমায়ূন আহমেদ ভক্তদের স্বস্তি দেবে। কিন্তু একটা নতুন সিনেমা হয়ে ওঠার পথে এটা একটা সংকট।

উপসংহার: সবমিলিয়ে দারুণ সিনেমা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।