দৃশ্যটার বয়স ১৫ বছর

তখন বয়স কত আর? নয় বা দশ। ওই বয়সে একটা ক্রিকেট ম্যাচ বা আরো ভালোভাবে বললে সেই ম্যাচের একটা দৃশ্য সারাজীবনের জন্য চোখের ফ্রেমে বা মনের ফ্রেমে আঁটকে যাওয়া সহজ ব্যাপার না। তখন পর্যন্ত এরকম দৃশ্যের সংখ্যা দুইটা – ৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাকলায়েন মুশতাকের সেই রান-আউট আর সেই বিশ্বকাপেরই সেমিফাইনালে ডোনাল্ডের রান-আউট।

এবং এরপর এল ১৩ই জুলাই, ২০০২। ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনাল, ইন্ডিয়ার টার্গেট ৩২৬। টেন্ডুলকার যখন আউট হলেন তখনো জেতার জন্য ভারতের দরকার ১৮০ রান, হাতে আছে পাঁচ উইকেট। এরপর কাইফ-যুবরাজের সেই অসাধারণ পার্টনারশিপ!

যুবরাজ আউট হয়ে গেলেও ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন ছাড়লেন কাইফ, আগের ১৬ ম্যাচে যার ফিফটি ছিল মাত্র দুইটা। শেষ ওভারে ভারতের জিততে লাগতো দুই রান, ফ্লিনটফের করা সেই ওভারের প্রথম দুইটি বল ডট, ক্যামেরায় বারবার দেখাচ্ছিল ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীকে।

তৃতীয় বলটা েকোনমতে মিড-অফে ঠেলে দিয়েই একটি সিঙ্গেল বের করলেন জহির খান, কিন্তু ফিল্ডারের ওভার থ্রো-তে সেই সিঙ্গেল হয়ে গেল ডাবল। হতাশায় নুয়ে পড়লেন ফ্লিনটফ, ন্যাটওয়েস্ট ফাইনাল জিতে গেল ভারত, যারা এর আগে পরপর নয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল হেরেছে।

এরপর সেই অদ্ভুত দৃশ্য, বা সেই উদ্ভট দৃশ্য! লর্ডসের ব্যালকনিতে নিজের জার্সিখানা খুলে উন্মাতাল ভাবে ঘুরিয়ে যাচ্ছেন সৌরভ গাঙ্গুলী! পাশে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন লক্ষণ। বাজি ধরে বলতে পারি, তখন আমার বা আমার বয়েসী ক্রিকেট দেখা অন্য অনেকের জন্য এই দৃশ্যটা ছিল লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স টাইপ কিছু একটা। সৌরভকে মনে রাখার যদি দশটা কারণ থাকে, তার একটা হবে এই দৃশ্য; যদি পাঁচটা কারণ থাকে, তারও একটা হবে এই দৃশ্য।

আজ সেই দৃশ্যটার বয়স ১৫ বছর হয়ে গেল! ১৫ বছর! অথচ দৃশ্যটা এখনো চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাওয়া যায়। একদম রঙিন, একটুও ম্লান হয় নাই এতদিনেও।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।